কেন ফ্রান্স ফুটবলারদের ‘ফ্যাশন শো’ বন্ধ করলেন জিদান
আন্তর্জাতিক বিরতিতে ফ্রান্স জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড়দের ক্লেয়ারফঁতেন ক্যাম্পে আসা ছিল সমর্থক ও পাপারাজ্জিদের কাছে অন্যতম আকর্ষণীয় এক বিষয়। প্যারিসের উপকণ্ঠের এই ক্যাম্পের পার্কিংয়ে গাড়ি থামলেই ক্যামেরার সামনে পোজ দিতেন খেলোয়াড়েরা। পরনে নামীদামি ব্র্যান্ডের পোশাক; কখনো মার্জিত, কখনো অদ্ভুত, যা দ্রুতই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যেত এবং জন্ম দিত আলোচনার।
এবার সেই দৃশ্যে লাগাম টেনেছেন নতুন কোচ জিনেদিন জিদান। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে দিদিয়ের দেশমের উত্তরসূরি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর জিদান গণমাধ্যমের প্রবেশ ও কভারেজে বেশ কিছু পরিবর্তন এনেছেন। এর মধ্যে অন্যতম ক্লেয়ারফঁতেন ক্যাম্পে খেলোয়াড়দের প্রবেশের সময় সাংবাদিক ও ফটোগ্রাফারদের থাকা যাবে না। সেখানে ছবি ও ভিডিও ধারণ করবে শুধু ফরাসি ফুটবল ফেডারেশনের (এফএফএফ) মিডিয়া টিম। পরে সেগুলো সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া হবে।
১৫ বছরের এক রীতি
ক্লেয়ারফঁতেনের এই ‘ফ্যাশন শো’ এক দিনে তৈরি হয়নি। ২০১০ সালের পর থেকে ফ্রান্সের খেলোয়াড়দের ক্যাম্পে আসার ছবি নিয়মিতভাবে আন্তর্জাতিক ফুটবল কভারেজের অংশ হয়ে ওঠে। সামির নাসরি, লোয়িক রেমি, ফ্লোরাঁ মালুদাদের পরের প্রজন্মে জুল কুন্দে ও ইব্রাহিমা কোনাতের মতো ফুটবলাররা এই রীতিকে আরও নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।
কুন্দে প্রায় প্রতিটি আন্তর্জাতিক বিরতিতেই নতুন পোশাক দিয়ে আলোচনায় আসেন। ২০২৪ সালে তাঁর একটি পোশাকে ছিল লুই ভিতোঁর ডাবল-ডেনিম, হলুদ টুপি ও ইউগের মুনবুট। একই বছর কোনাতে মুখ ঢাকা সবুজ হুডি ও কেনজোর স্যুট পরে ক্যামেরার সামনে হাজির হয়ে ভাইরাল হন।
শুধু পোশাক নয়, দামও আলোচনায়
এই ফ্যাশন প্রদর্শনীর সঙ্গে জড়িয়ে বিপুল আর্থিক গল্পও। কুন্দের ২০২৪ সালের একটি পোশাকের মূল্য ঘড়ি ছাড়া প্রায় ১১ হাজার ৬৬০ ইউরো (প্রায় ১৬ লাখ ১৬ হাজার টাকা) ধরা হয়েছিল। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে তাঁর একটি অডেমার্স পিগে ঘড়ির দামই ছিল প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার ইউরো (প্রায় ২ কোটি ২১ লাখ টাকা)।
এমবাপ্পের একটি পোশাকের মূল্যও ৫০ হাজার ইউরোর (৬৯ লাখ ৬ হাজার ৫০০ টাকা) বেশি হিসাব করা হয়েছিল।
মাঠই এখন প্রাধান্য পাবে
জিদানের সিদ্ধান্তের পেছনে মূল ভাবনাটি সম্ভবত এখানেই, আলোচনার কেন্দ্র যেন খেলোয়াড়দের পোশাক নয়, মাঠের পারফরম্যান্স হয়।
তবে ক্লেয়ারফঁতেনের ফ্যাশন শো পুরোপুরি শেষ হচ্ছে না। খেলোয়াড়েরা নিজেদের পছন্দমতো পোশাক পরেই ক্যাম্পে আসবেন। শুধু প্রবেশপথে পাপারাজ্জি ও সাংবাদিকদের ক্যামেরা আর থাকবে না।