মেসির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা কৈশোর

যদি কোথাও মেসিকে নিয়ে লেখা হতো, পড়তাম। মেসির ছবি কেটে জমিয়ে রাখতাম।
মেসি যখন বিয়ে করল, তখন আমি ক্লাস নাইনে পড়ি। তখনো নীরবে কেঁদেছিলাম। আমার মা দেখে ফেলেছিল, আমি কাঁদছি। তারপর তো পুরো পাড়ায় খবর ছড়িয়ে দিল! কী লজ্জাই না পেয়েছিলাম।

২০১০ সাল থেকে ফুটবলের সঙ্গে আমার যাত্রা শুরু। অবশ্য তখন তেমন কিছু বুঝতাম না। শুধু জানতাম বিশ্বকাপ, গোল, মেসি, আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল—এইটুকু।

তারপর এল ২০১৪ সালের বিশ্বকাপ। মোটামুটি খেলা বুঝতে শিখেছি। সেই বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনার হারার কষ্টে নীরবে কেঁদেছি, বালিশ ভিজিয়েছি। সারা রাত ঘুমাতে পারিনি।

এরপর এল ২০১৫ সালের কোপা আমেরিকা। ফাইনালে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ চিলি। আবারও হার। আবারও নীরব কান্না। তখন মেসির একজন পাগল ভক্ত হয়ে গেছি। নিয়মিত মেসিকে দেখার জন্য টিভিতে খেলাধুলার খবর দেখতাম। চ্যানেল ২৪–এ সকাল ৮:৩০–এর খেলার খবর, বেলা ১টায় সময় টিভিতে খেলার সংবাদ, বেলা ১: ৩০–এ একাত্তর টিভির খেলাযোগসহ আরও কয়েকটা চ্যানেলেও দেখতাম, যদিও সময়গুলো এখন আর মনে নেই। নিয়মিত পত্রিকা দেখতাম। যদি কোথাও মেসিকে নিয়ে লেখা হতো, পড়তাম। মেসির ছবি কেটে জমিয়ে রাখতাম।

মেসির জন্মদিনে এমন পাগলামি করতাম।

২০১৬ সালের কোপা আমেরিকা। আবারও ফাইনালে আর্জেন্টিনা, আবারও প্রতিপক্ষ চিলি। আবারও হার। আবারও নীরব কান্না। কিন্তু আর্জেন্টিনার হারার চেয়েও বেশি কষ্ট হয়েছিল মেসির পেনাল্টি মিসে। মনে মনে ভাবছিলাম, মেসি কেন পেনাল্টি মিস করল? এখন তো সবাই তাঁকে নিয়ে সমালোচনা করবে।

আজও ভুলতে পারিনি টিভিতে দেখা সেই দৃশ্য—মেসির কান্না, জার্সি দিয়ে মুখ ঢেকে রাখা। সেদিন টিভিতে আর কোনো খেলার খবরই দেখিনি। কারণ জানতাম, কষ্ট আরও বাড়বে, মেসিকে নিয়ে সমালোচনা হবে, আর সেটা আমি সহ্য করতে পারব না।
তখনো জানতাম না, মেসি অবসর নিয়ে নিয়েছে। পরদিন প্রতিদিনের অভ্যাসমতো খেলার খবর দেখতে গিয়ে হঠাৎ দেখি, মেসির অবসরের ঘোষণা। মনে হয়েছিল, পায়ের নিচ থেকে মাটি সরে গেছে। এটা কী হলো! এমন তো হওয়ার কথা ছিল না। কিছুতেই মেনে নিতে পারছিলাম না।
তারপর কোচিংয়ের সময় হলো, আমি স্কুলে গেলাম। কিন্তু নিজেকে আর সামলাতে পারলাম না। স্কুলে গিয়ে সবার সামনে হাউমাউ করে কেঁদে ফেললাম। এবার আর নীরবে নয়, সবার সামনে।

আরও পড়ুন
মেসির জন্যই ফুটবল বুঝতে শেখা।

মেসির হাত ধরেই ক্লাব ফুটবল দেখা শুরু। মেসির কারণেই এফসি বার্সেলোনার সঙ্গে পরিচয়। এখনো মনে আছে, পিএসজির বিপক্ষে সেই অবিশ্বাস্য ম্যাচটার কথা। প্রথম লেগে বার্সা ৪-০ গোলে হেরে যাওয়ার পরও কেন জানি বিশ্বাস ছিল, বার্সা জিতবেই, কোয়ার্টার ফাইনালে যাবেই। তারপর দ্বিতীয় লেগে সেই অবিশ্বাস্য ৬-১ গোলের জয়!
তখন এক রিপোর্টারের কিছু লাইন আজও মনে আছে— ‘এ কী হলো! বিশ্বাসই হতে চায় না। কিন্তু দুই চোখ দিয়ে যা দেখল বিশ্ব, সেটা তো ভুল হতে পারে না।’

মেসি যখন বিয়ে করল, তখন আমি ক্লাস নাইনে পড়ি। তখনো নীরবে কেঁদেছিলাম। আমার মা দেখে ফেলেছিল, আমি কাঁদছি। তারপর তো পুরো পাড়ায় খবর ছড়িয়ে দিল! কী লজ্জাই না পেয়েছিলাম।

মেসি যখন বার্সেলোনা ছাড়ল, তখনো কেঁদেছিলাম। তার পর থেকে আর বার্সার খেলা দেখি না। কারণ, যার জন্য দেখতাম, সেই মানুষটাই তো বার্সাতে আর নেই।
এখনো মেসির কোনো ভিডিও দেখলে নিজের অজান্তেই চোখ থেকে পানি চলে আসে।

সভাপতি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভা