প্রথম ফুটবল বিশ্বকাপের ট্রফিটির নাম শুরুতে ছিল শুধু ‘ভিক্টরি’ বা ‘কুপ দ্য মন্ড’। পরে ফিফা সভাপতি জুলে রিমের সম্মানে এর নামকরণ করা হয় ‘জুলে রিমে ট্রফি’। ফরাসি ভাস্কর আবেল লাফ্ল্যর ট্রফিটি ডিজাইন করেছিলেন। গ্রিক বিজয়ের দেবী নাইকির অবয়বে তৈরি এই ট্রফি ছিল সোনার প্রলেপ দেওয়া রুপার তৈরি এবং এর ভিত্তি ছিল নীল পাথরের।
বিশ্বকাপের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো দেশ তিনবার বিশ্বকাপ জিতলে তারা স্থায়ীভাবে ট্রফিটি নিজেদের কাছে রাখতে পারবে। ১৯৭০ সালে ব্রাজিল তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জিতে সেই অধিকার অর্জন করে। পেলে, জাইরজিনহো, কার্লোস আলবার্তোদের সেই দলকে ইতিহাসের অন্যতম সেরা দল হিসেবে ধরা হয়। এরপর জুলে রিমে ট্রফিটি স্থায়ীভাবে ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশনের কাছে চলে যায়।
কিন্তু ট্রফিটির ভাগ্যে অপেক্ষা করছিল রহস্যময় পরিণতি। ১৯৮৩ সালে রিও ডি জেনিরোতে ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশনের সদর দপ্তর থেকে ট্রফিটি চুরি হয়ে যায়। ধারণা করা হয়, চোরেরা ট্রফিটি গলিয়ে ফেলেছিল। বহু তদন্ত চালিয়েও আজ পর্যন্ত আসল ট্রফিটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ফলে ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে মূল্যবান স্মারকগুলোর একটি চিরতরে হারিয়ে যায়।
ফুটবল বিশ্বকাপের আধুনিক ট্রফি
১৯৭৪ সাল থেকে চালু হয় বর্তমান ‘ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি’। ইতালীয় ভাস্কর সিলভিও গাজ্জানিগা এটি ডিজাইন করেন। ১৮ ক্যারেট খাঁটি সোনায় তৈরি এই ট্রফির উচ্চতা ৩৬ সেন্টিমিটার এবং ওজন প্রায় ৬ দশমিক ১ কেজি। এতে দেখা যায়, পৃথিবীকে দুইজন মানুষ ওপরে তুলে ধরে আছে; যা বিজয়, শক্তি এবং বৈশ্বিক ঐক্যের প্রতীক। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, কোনো দল স্থায়ীভাবে এই ট্রফি নিজেদের কাছে রাখতে পারে না; বিজয়ীরা কেবল সোনার প্রলেপযুক্ত একটি প্রতিরূপ পায়।
বন্ধু, ভৈরব বন্ধুসভা