সারা দেশের বন্ধুদের কাছে পৌঁছে গেল ড্যাফোডিল বন্ধুসভার ‘অদম্য ২৫’
দীর্ঘ পাঁচ বছর অপেক্ষার পর সফলভাবে আয়োজিত হয়েছে ষষ্ঠ জাতীয় বন্ধু সমাবেশ ২০২৫। ‘আমরা সবাই বাংলাদেশ’ স্লোগানে গত ২৫, ২৬ ও ২৭ ডিসেম্বর গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক জাতীয় স্কাউট প্রশিক্ষণকেন্দ্র মাঠে অনুষ্ঠিত হয় এ সমাবেশ। সারা দেশের অন্যান্য বন্ধুসভার পাশাপাশি এতে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল ড্যাফোডিল বন্ধুসভার বন্ধুদেরও।
২৫ ডিসেম্বর সকাল হতে না হতেই ড্যাফোডিল বন্ধুসভার বন্ধুদের মনে আনন্দের ছড়াছড়ি। কে, কখন ও কীভাবে গাজীপুরের উদ্দেশে রওনা হবেন, তা নিয়ে আলোচনা। সাধারণ সম্পাদক জাকিয়া লিমা সবকিছু গুছিয়ে সাংস্কৃতিক পর্বে অংশগ্রহণকারী বন্ধুদের নিয়ে আগেই রওনা হয়ে যান।
অর্থ সম্পাদক সাব্বির হোসেন ওই দিন পরীক্ষা শেষ হতেই অন্য বন্ধুদের নিয়ে উপস্থিত হন স্কাউট মাঠে। নিজের বাসস্থান সাভার থেকে সরাসরি উপস্থিত হন সভাপতি নাজমুল হাসান।
বিকেল চারটা থেকে সারা দেশের বন্ধুসভার বন্ধুরা মাঠে প্রবেশ করা শুরু করেন। তাঁবু নম্বর ৫২ ও ৫৩ ছিল ড্যাফোডিল বন্ধুসভার। সন্ধ্যা থেকে বন্ধুদের গান, নাচ, অভিনয় ও নানা আয়োজনে জমে ওঠে স্কাউট মাঠ। রাতের খাওয়াদাওয়া শেষে সবাই নিজ নিজ তাঁবুতে ক্যাম্প ফায়ার করেন ও গানের আসরে মেতে ওঠেন। ড্যাফোডিল বন্ধুসভার বন্ধুরাও এ উৎসবে যোগ দেন।
সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশনা, পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে ২৬ ডিসেম্বর সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে সমাবেশের উদ্বোধন হয়। অতিথিদের বক্তব্য ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের পর ছিল কমিটি ঘোষণা ও সেরা বন্ধুসভা সম্মাননা প্রদান। আরও ছিল দেয়ালিকা প্রদর্শনী, কুইজ, নানা ধরনের মজার সব খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।
একদিকে অনুষ্ঠান চলতে থাকে, অন্যদিকে পরীক্ষা থাকায় ড্যাফোডিল বন্ধুসভার কিছু বন্ধু সন্ধ্যার পর মৌচাকের উদ্দেশে রওনা হন। রাস্তায় নানা প্রতিবন্ধকতা থাকায় সহসাংগঠনিক সম্পাদক মুসাভভির সাকিরের সঙ্গে আরও কিছু বন্ধু ট্রাকে করেই রওনা করেন। এক ঘণ্টার পথ পাড়ি দিতে লেগে যায় দীর্ঘ চার ঘণ্টা। রাত ১০টা পর্যন্ত চলে বন্ধুদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।
সারা দেশের বন্ধুসভার বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন ও পরিচয়ের লক্ষ্যে ড্যাফোডিল বন্ধুসভার পক্ষ থেকে স্মৃতিস্মারক হিসেবে সবাইকে বার্ষিক ম্যাগাজিন ‘অদম্য ২৫’ উপহার দেওয়া হয়। সভাপতি নাজমুল হাসান, সাধারণ সম্পাদক জাকিয়া লিমা, অর্থ সম্পাদক সাব্বির হোসেন, সহসাংগঠনিক সম্পাদক মুসাভভির সাকির, পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক এবং ম্যাগাজিনের প্রকাশক সালমান ফারসি, দুর্যোগ ও ত্রাণ সম্পাদক রিজভী আমিন, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি সম্পাদক মোস্তফা মাহফুজসহ অন্য বন্ধুরা তাঁবুতে ঘুরে ঘুরে ম্যাগাজিন উপহার দেন।
গাজীপুর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, পাবনা, গোপালগঞ্জ, খুলনা, রাজশাহী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, শাবিপ্রবি, যশোর, নোয়াখালী, কুড়িগ্রাম, কক্সবাজার, চকরিয়া, কক্সবাজার সিটি কলেজ, সাভার, কুমিল্লা, সাতক্ষীরা, সিরাজগঞ্জ, ফেনীসহ অনেক বন্ধুসভা পেয়েছে এ উপহার।
পরিচিতি পর্ব চলাকালীন সাক্ষাৎ হয় সিরাজগঞ্জ, গোপালগঞ্জ, ঢাকা মহানগর বন্ধুসভার বন্ধুদের মধ্যে কয়েকজনের সঙ্গে, যাঁরা ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাবেক শিক্ষার্থী। সিরাজগঞ্জ বন্ধুসভার এক বন্ধু বলেন, ‘এখানে এসে যে নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছোট ভাইদের সঙ্গে দেখা হবে ভাবতেও পারিনি, চমৎকার এ অনুভূতি।’
এরপরই ৫২ ও ৫৩ নম্বর তাঁবু প্রাঙ্গণে শুরু হয় গানের আসর ও ক্যাম্প ফায়ার। এটিকে কেন্দ্র করে চারপাশে সবাই নৃত্যের তালে মেতে ওঠেন। সেই আনন্দের মুহূর্ত ড্যাফোডিল বন্ধুসভার ফেসবুক পেজ থেকে রাত প্রায় দুইটায় লাইভে সম্প্রচার করা হয়। সারারাত বন্ধুরা এভাবেই কাটিয়ে দেন।
ভোর হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে বন্ধুরা নিজ নিজ তাঁবুতে ফিরে যান। ২৭ ডিসেম্বর সকাল হতে না হতেই সবাই নাশতা সেরে নিলেন। নাশতা শেষে সবার মধ্যে আনন্দ আর দুঃখের মিশ্রণ, চলে এসেছে বিদায়বেলা। ড্যাফোডিল বন্ধুসভার বন্ধুরা সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে, স্মৃতির ঝাঁপি সঙ্গে করে ছুটতে থাকেন প্রিয় ক্যাম্পাসের দিকে।
সহসাংগঠনিক সম্পাদক, ড্যাফোডিল বন্ধুসভা