নূরে জান্নাতের নতুন গল্পগ্রন্থ ‘ঝুলে আছে পাখিদের লাশ’
সেলিম যেদিন অবৈধভাবে বর্ডার টপকে অন্য দেশে যাচ্ছিল, সেদিনই একের পর এক গুলি চলে। তারপর সে ঝুলে পড়ে কাঁটাতারের বন্ধনে। মৃত্যুকালে তার সঙ্গেও দেখা হয়েছিল কারেন্ট জালে আটকে মরে যাওয়া পাখিদের। সব পাখি সেদিন হাসছিল। ঠিক পাখির মতো করেই ঝুলছিল সেলিমের লাশ সীমান্তে! সেলিমেরও সেদিন চোখে ভাসছিল তার পুকুরে কয়েকটা মাছের লোভে টানিয়ে রাখা কারেন্ট জাল ও ঝুলে থাকা পাখিদের লাশ!
নূরে জান্নাত; নামটির ভেতরই আছে আলো আর আশ্রয়ের আভাস। সিরাজগঞ্জের ধীতপুর কানু গ্রামের মাটির গন্ধ বুকে নিয়ে তিনি শব্দে গড়ে তুলেছেন নিজস্ব এক জগৎ, যেখানে গল্প কথা বলে মানুষের অন্তর থেকে, আর কবিতা ছুঁয়ে যায় নীরব সময়কে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানে উচ্চশিক্ষিত এই লেখকের কলম সমান স্বচ্ছ ভাবনায় ও অনুভবে।
বহু জাতীয় পুরস্কার ও স্বীকৃতি তাঁর সাহিত্যপ্রতিভার সাক্ষ্য বহন করে—কখনো কথাসাহিত্যে, কখনো প্রবন্ধে, কখনো আবৃত্তি ও অভিনয়ে। এই বই সেই নিরন্তর সাধনারই আরেকটি অধ্যায়, যেখানে জীবন, প্রকৃতি ও মানুষের গভীর অনুভব একসূত্রে গাঁথা। পাঠকের হাতে পৌঁছে এটি হয়ে উঠুক ভাবনার নতুন দরজা, আর হৃদয়ের আরেকটি উন্মুক্ত জানালা।
সীমান্তের কাঁটাতারে ঝুলে থাকা এক নাম; সেলিম। একদিন অবৈধ পথ পেরোতে গিয়ে গুলির শব্দে থেমে যায় তার জীবন। তারপর সে নিজেই হয়ে ওঠে সেই দৃশ্যের অংশ, যেটি সে কোনো দিন দূর থেকে দেখেছিল—কারেন্ট জালে ঝুলে থাকা পাখিদের মতো।
মৃত্যুর মুহূর্তে হয়তো তার চোখে ভেসে উঠেছিল পুকুরপাড়ের সেই জাল, কয়েকটা মাছের লোভে টানানো নিষ্ঠুর ফাঁদ, আর তাতে আটকে থাকা নীরব ডানাগুলো। সেদিন সীমান্তে মানুষ আর পাখির ব্যবধান ঘুচে যায়—সবাই কেবল ঝুলে থাকে এক অদৃশ্য অপরাধের দায়ে।
প্রকাশকের কথায়, এই গল্প কেবল সেলিমের নয়; এটি লোভ, সীমান্ত আর নিষ্ঠুরতার বিরুদ্ধে এক নীরব প্রতিচ্ছবি।
অমর একুশে বইমেলায় প্রকাশিত হয়েছে সিরাজগঞ্জ বন্ধুসভার বন্ধু নূরে জান্নাতের নতুন গ্রন্থ ‘ঝুলে আছে পাখিদের লাশ’। বইটির প্রচ্ছদ এঁকেছেন ফারহান শিব্বির। প্রকাশ করেছে দেশ বাংলা প্রকাশন। বইটি পাওয়া যাচ্ছে দেশ বাংলা প্রকাশনের স্টলে। স্টল নম্বর ১২৬-২৭।