আমরা কি ধীরে ধীরে বিষণ্ন হয়ে উঠছি

প্রতীকীছবি: ফ্রিপিক

বিষণ্নতা একটি সাধারণ রোগের চেয়েও অধিক ক্ষতিকারক। যাদের বিষণ্নতা আছে, তাদের কাছে মনস্তাত্ত্বিক আনন্দ যেন অধরা। এটি কেবল দুঃখ বা হতাশার সাধারণ অনুভূতি নয়; বরং গুরুতর মানসিক অবস্থাও। বিষণ্নতায় ভোগা ব্যক্তিরা সহজেই এটি কাটিয়ে উঠতে পারে না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, বিশ্বব্যাপী ৩০ কোটির বেশি মানুষ এই ব্যাধিতে ভুগছেন এবং সর্বত্র এর প্রকোপ ক্রমে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এমনকি নিজেদের সুখী মনে করা মার্কিন জনসংখ্যার ৬.৭ শতাংশ নাগরিক বিষণ্নতায় ভুগছেন।

বিষণ্নতা কেন হয়
বিষণ্নতার সবচেয়ে কঠিন দিকগুলোর একটি হলো নীরবে কষ্ট সহ্য করা। মানুষের সঙ্গে সংযোগ বা বার্তা আদান-প্রদানের অভাব এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতা হতাশার প্রধান কারণ। মস্তিষ্কের সামাজিক বিচ্ছিন্নতার জন্য ব্যথার ক্ষেত্রগুলো অস্থির হয়ে ওঠে, ঠিক যেমনটি মানুষ শারীরিকভাবে আঘাত পেলে ব্যথা অনুভব করে তেমনই অনুভূত হয়। এর ফলে মস্তিষ্কে অস্থিরতার সৃষ্টি হয়। মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষ অনিয়ন্ত্রিত হয়ে গেলেই বিষণ্নতা জেগে ওঠে।

যখন আমরা কোনো ব্যক্তিকে শারীরিক অসুস্থতায় ভুগতে দেখি, তখন আমাদের মনে সহানুভূতি সৃষ্টি হয়। মস্তিষ্কের সহানুভূতির কারণে স্নায়ুকোষের সাহায্যে ব্যথাটি কল্পনা করি। অন্যদিকে যখন কেউ বিষণ্নতায় ভোগেন, তখন তা দেখা যায় না। এ কারণে আমাদের কাছে ওই ব্যক্তির প্রতি মস্তিষ্কের সহানুভূতি তৈরি হয় না।

কেউ বিষণ্নতায় আক্রান্ত হলে প্রায়ই তার মধ্যে উদ্বিগ্নতা, শূন্য মেজাজ, হতাশা, অপরাধবোধ, মূল্যহীনতা বা অসহায়ত্বের অনুভূতি কাজ করে। যৌনতাসহ একসময় উপভোগ করা শখ এবং কার্যকলাপে আগ্রহ বা আনন্দ হ্রাসও হতে পারে। ক্লান্তি দেখা দেয়। অস্থিরতা, বিরক্তি এবং মনোযোগে ঘাটতি পরিলক্ষিত হয়। কারও কারও আত্মহত্যার চিন্তাও মাথায় আসে।

কিছু নির্দিষ্ট মানুষের মধ্যে কেন বিষণ্নতা দেখা যায়
এক গবেষণায় দেখা গেছে, ৩৬ শতাংশ স্নাতক শিক্ষার্থী বিষণ্নতায় ভুগছেন। স্নাতক শিক্ষার্থীদের মধ্যে কেন এই প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে? এটি কি মানুষের অস্তিত্বের গভীর অধ্যয়ন, ক্রমাগত ব্যর্থতা, প্রতারকের মতো অনুভব করার ধারাবাহিকতা, নাকি অসম্ভবের জন্য প্রচেষ্টা, তা স্পষ্ট নয়।

উদ্বেগজনকভাবে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে বিষণ্নতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, আমাদের সমাজ ক্রমে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে এবং প্রযুক্তির মাধ্যমে সংযোগ থাকা সত্ত্বেও আমরা সরাসরি বাস্তব-সময়ের সামাজিক মিথস্ক্রিয়া হারিয়ে ফেলছি। আরও গবেষণায় দেখা গেছে, সোশ্যাল মিডিয়ার স্ক্রিন এবং ভিডিও গেমের প্রতি তরুণদের আসক্তি বাড়ছে। যার ফলে বিষণ্নতা বেড়েই চলেছে।

করণীয়
বিষণ্নতা নিরাময়ের জন্য থেরাপি, ধ্যান অথবা প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ গ্রহণ করা যেতে পারে। এ ছাড়া বিষণ্ন ব্যক্তি তার পছন্দের কাজ করতে পারে। যেমন লেখালেখি করা, ছবি আঁকা, গান গাওয়া, অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকা কিংবা ভ্রমণ করা। এই কাজগুলো বিষণ্নতা কমাতে সহায়তা করে। পাশাপাশি যোগব্যায়াম, ধ্যান, প্রকৃতির সঙ্গে মেশা, বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ নিজের ভেতরের মানুষটাকে আবার নতুন করে জাগিয়ে তোলে।

সাইকোলজি টুডে থেকে লেখাটি অনুবাদ করেছেন নাজিম আল মামুন