আজকের দিনটা নাহয় পূর্ণ করে বাঁচি
একটা জীবন। একটা মৃত্যু। এই দুই প্রান্তের মধ্যেখানে বিস্তৃত দীর্ঘ এক পথ। সেই পথে হাঁটতে হাঁটতে মানুষ কখন যে ঋতু বদলায়, কখন সম্পর্কের রং বদলে যায়, কখন যে অপরিচিত কেউ রক্তের সম্পর্কের না হয়েও রক্তে মিশে যায়, আবার কখন আপন মুখগুলো দূরের হয়ে যায়, তার হিসাব কেউ রাখতে পারে না।
জীবনের পথে কিছু মানুষ আসে আশ্রয়ের মতো, আবার কোনো এক অজানা মোড়ে নীরবে হারিয়েও যায়। তখন বোঝা যায়, সব পথ পাশাপাশি হাঁটার জন্য নয়। কিছু পথ কেবল পরিচয় করিয়ে দেয়, কিছু পথ শেখায় ছেড়ে দিতে, আর কিছু পথ নীরবতাকে সঙ্গী করে এগিয়ে যায়।
পাওয়া আর না-পাওয়ার মাঝখানেই মানুষ সবচেয়ে বেশি বড় হয়। যেসব স্বপ্ন পূরণ হয় না, সেগুলোও মানুষকে বদলে দেয়। যে ইচ্ছাগুলো বুকের ভেতর নীরবে থেকে যায়, সেগুলোও জীবনের অংশ হয়ে ওঠে। সব গল্পের শেষ মিলনে হয় না, কিছু গল্প অসম্পূর্ণ বলেই দীর্ঘদিন মনে থেকে যায়।
অভিজ্ঞতা মানুষের সবচেয়ে নীরব শিক্ষক। সময়ের কাছে হার মানে অহংকার, বদলে যায় বিশ্বাস, পাল্টে যায় অগ্রাধিকার। একসময় মানুষ বুঝতে শেখে সবকিছু নিজের করে পাওয়া যায় না, আবার হারিয়েও সবকিছু শেষ হয়ে যায় না।
মৃত্যু অনিবার্য, কিন্তু তার আগপর্যন্ত প্রতিটি দিনই জীবনের কাছে নতুন একটি প্রশ্ন। সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে খুঁজতেই মানুষ বেঁচে থাকে। কখনো আলোয়, কখনো অন্ধকারে, কখনো ভিড়ের মধ্যে, কখনো একান্ত একাকিত্বে।
শেষ পর্যন্ত জীবন হয়তো কোনো গন্তব্যের নাম নয়; বরং অসংখ্য অভিজ্ঞতা, কিছু অপূর্ণ ইচ্ছা, কিছু প্রাপ্তি, কিছু না–পাওয়া আর অনেক নীরবতার সমষ্টি। আর মৃত্যুই সেই দীর্ঘ যাত্রার শেষ বিরামচিহ্ন।
যত দিন শ্বাস আছে, তত দিন পথও আছে। আর যত দিন পথ আছে, তত দিন নতুন ভোরের সম্ভাবনাও বেঁচে আছে। আজকের দিনটা নাহয় পূর্ণ করে বাঁচি, আগামীকালের সিদ্ধান্ত তুলে দিই বিধাতার কলমে।
বন্ধু, ভৈরব বন্ধুসভা