কালীপূজার সেই দিন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মন্দিরের আলো–আনন্দের ভিড়ে প্রথম তাকে দেখা। সেদিন কিছু অনুভূত না হলেও বিশেষভাবে চোখে পড়েছিল। কয়েক দিন পর ফেসবুকের সাজেশন থেকেই গল্পের শুরু। বলা চলে, একপক্ষীয়ভাবে শুরু।
আমি তাকে মেসেজ দিতাম। মাঝেমধ্যে মনে হতো, সে হয়তো বিরক্ত হচ্ছে। ভাবতাম, একজন মানুষকে এভাবে বিরক্ত করে কীই–বা পাওয়া যাবে? ঠিক করতাম, আর মেসেজ দেব না। কিন্তু তখনই নিজের মন আর মস্তিষ্কের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হতো। যুক্তি বলত—থেমে যাও; আর মন বলত—আরেকবার চেষ্টা করো। শেষ পর্যন্ত আমি থাকতে পারতাম না। আবার মেসেজ দিতাম।
দূরত্ব এসেছে, ব্লক এসেছে, অনিশ্চয়তাও এসেছে। অনেকটা সময় পেরিয়ে আমি প্রায় আশাই ছেড়ে দিয়েছিলাম। তবু মনে একটা ছোট ইচ্ছা বেঁচে ছিল—শেষবারের মতো শুধু একবার তাকে সামনে থেকে দেখব। আসতে বলেছিলাম, সে এসেছিল। চলে যাওয়ার সময় হল গেটের সামনে বলেছিলাম, দুই মিনিট দাঁড়াও। শেষবারের মতো বলেছিলাম, একটু বিশ্বাস করে হাতটা ধরেই দেখো। যত্নে রাখব তোমায়। আমাকে আবাক করে দিয়ে সে আমার কথায় সম্মতি জানিয়েছিল। আমি বিশ্বাসই করতে পারিনি। মনে হচ্ছিল, কোনো স্বপ্ন দেখছি।
আজ পেছনে তাকিয়ে বুঝি—ভালোবাসা মানে শুধু পাওয়া নয়। ভালোবাসা মানে ধৈর্য, সহ্য আর সত্যের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা। আমাদের ভালোবাসা পূর্ণতা পেয়েছে বলেই এই দীর্ঘ অপেক্ষাও অর্থবহ হয়ে উঠেছে। আর সেই পূর্ণতাই আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর প্রাপ্তি।
বন্ধু, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভা