হারিয়ে যাওয়া ঈদের আনন্দ

বড়দের কাছ থেকে সালামি পাওয়া ছিল ঈদের বড় আনন্দছবি: এআই/বন্ধুসভা

ঈদ মানেই ছিল নতুন জামা আর হাতে কিছু টাকা নিয়ে খেলনা কেনার আনন্দ। নতুন জামার আনন্দটা যে কী ছিল, তা ভাষায় বোঝানো কঠিন। ঈদের কয়েক দিন আগে থেকেই আমরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে নতুন জামা দেখাতাম, আবার অন্যদের জামাও দেখতাম। নিজের নতুন জামা অন্যকে দেখানোর মধ্যে ছিল আলাদা এক গর্ব আর আনন্দ।

ঈদের দিন ভোরেই ঘুম ভেঙে যেত। তাড়াতাড়ি উঠে নতুন জামা পরে ফেলতাম। কাজিনরা যদি তখনো না উঠত, একটু অভিমান করে বলতাম—
‘কিরে, তুই তো আমার আগে উঠিস! দেখ, আমি তো জামা পরে পুরানই করে ফেললাম!’
তারপর সবাই মিলে ঈদগাহে যেতাম। নামাজ শেষে বড়দের কাছ থেকে সালামি চাইতাম। বাসায় ফিরে মায়ের হাতে বানানো সেমাই খেতাম। এরপর শুরু হতো আমাদের ছোট্ট অভিযাত্রা। দল বেঁধে সাওরিন, তাসরিন, নেজাম আর আমি চলে যেতাম আত্মীয়দের বাড়িতে। তাসরিনদের ফুফির বাড়ি ছিল আমাদের গন্তব্য। সেখানে এক ফুফু আমাকে স্নেহভরে কিছু টাকা দিতেন।

এভাবে দীর্ঘ পথ হেঁটে আমরা আত্মীয়ের বাড়ি ঘুরতাম, শুধু সালামির টাকার আশায়। কিন্তু সেই টাকার চেয়েও বড় ছিল একসঙ্গে হাঁটা, হাসি আর আনন্দে ভরা মুহূর্তগুলো।
যখন দুপুরের আজান শোনা যেত, তখন মনটা হঠাৎ করে কেমন যেন হয়ে যেত। মনে হতো—এত তাড়াতাড়ি ঈদ শেষ হয়ে গেল!

সেই টাকাগুলো জমিয়ে কিনতাম নানা ধরনের খেলনা—লাইটিং করা খেলনা, খেলনা বন্দুক—এসবই ছিল তখন খুব প্রিয়। ছোট্ট সেই খেলনাগুলোতেই লুকিয়ে ছিল এক অদ্ভুত আনন্দ।
আপু আমাকে গোসল করিয়ে নতুন জামা পরিয়ে সুন্দর করে সাজিয়ে দিতেন। সেই মুহূর্তগুলো ছিল ঈদের সবচেয়ে আপন স্মৃতি।

আজ সময় বদলেছে, বড় হয়েছি। কিন্তু শৈশবের ঈদের নির্মল আনন্দ যেন কোথাও হারিয়ে গেছে। তবু আজও মনে মনে খুঁজি—সেই ছোটবেলার ঈদ, সেই সরল আনন্দ, যা একসময় আমাদের হৃদয় ভরে দিয়েছিল।

বন্ধু, চট্টগ্রাম বন্ধুসভা