ঈদ এলে শৈশব ফিরে আসে

ছবি: এআই/বন্ধুসভা

ছোটবেলায় ঈদ আসার কয়েক দিন আগ থেকেই আমাদের বাড়িতে উৎসবের আমেজ শুরু হয়ে যেত। মা ঘর পরিষ্কার করতেন, নতুন পর্দা লাগাতেন, আর রান্নাঘরে নানা রকম প্রস্তুতি চলত। পাপা গরু কেনার জন্য হাটে যেতেন। আমি তখন সারা দিন শুধু অপেক্ষা করতাম-কখন পাপা গরু নিয়ে বাড়ি ফিরবেন। বিকেলে যখন পাপা বড় একটি গরু নিয়ে বাড়িতে আসতেন, তখন আনন্দে পুরো বাড়ি মুখর হয়ে উঠত। আমি আর আমার ভাই গরুর চারপাশে ঘুরতাম, ঘাস খাওয়াতাম, পানি দিতাম এবং তার জন্য সুন্দর একটি নাম রাখতাম।

কোরবানির সময় একটু ভয় লাগলেও পাপা সব সময় বোঝাতেন যে কোরবানি শুধু পশু জবাই নয়, বরং ত্যাগ ও মানবতার শিক্ষা। কোরবানির পর মাংস গরিব মানুষের মধ্যে বিতরণ করার সময় তাদের মুখের হাসি দেখে খুব ভালো লাগত। তখন বুঝতে পারতাম, ঈদের আসল আনন্দ অন্যের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার মধ্যেই।

বিকেলবেলায় বান্ধবীদের সঙ্গে গ্রাম ঘুরতে বের হতাম। কেউ সেমাই খাওয়াত, কেউ ফিরনি, আবার কোথাও গরুর মাংসের মজার রান্না। পুরো দিনটি হাসি, আনন্দ আর দুষ্টুমিতে কেটে যেত। সেই সময়টুকু ছিল খুব সাধারণ, কিন্তু এখন মনে হয় সেটিই ছিল জীবনের সবচেয়ে সুন্দর সময়।

আজ আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। পড়াশোনা, ক্লাস, অ্যাসাইনমেন্ট, পরীক্ষা আর ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা চিন্তায় জীবন অনেক ব্যস্ত হয়ে গেছে। আগের মতো আর সারা দিন ঈদের আনন্দ উপভোগ করা হয় না। এখন ঈদ মানেই শুধু নতুন জামা নয়, বরং পরিবারের সঙ্গে কিছু সুন্দর সময় কাটানোর সুযোগ। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার কারণে অনেক সময় পরিবার থেকে দূরে থাকতে হয়। ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফিরলে ছোটবেলার স্মৃতিগুলো আরও বেশি মনে পড়ে যায়।

এখন যখন দেখি ছোট ভাই গরুর সঙ্গে খেলছে, তখন নিজের ছোটবেলার কথা মনে পড়ে। মনে হয়, সময় কত দ্রুত বদলে যায়। একসময় আমিই ছিলাম পরিবারের সবচেয়ে ছোট, আর আজ আমি বড় হয়ে গেছি। তবু ঈদ এলেই হৃদয়ের ভেতরে সেই ছোট্ট শিশুটি যেন আবার জেগে ওঠে।

বিশ্ববিদ্যালয়জীবন আমাকে দায়িত্বশীল হতে শিখিয়েছে, আর শৈশবের ঈদের স্মৃতিগুলো আমাকে শিখিয়েছে ভালোবাসা, ত্যাগ এবং একসঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার মূল্য। তাই যতই বড় হই না কেন, শৈশবের স্মৃতিগুলো আমার জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হয়ে থাকবে।

বন্ধু, ড্যাফোডিল বন্ধুসভা