ঘুম থেকে জেগে উঠে দেখি মায়ের সে কী কান্না

মায়ের সঙ্গে লেখকছবি: লেখকের সৌজন্যে

মায়ের কথা মনে হলেই মনে পড়ে কষ্ট ও শত ত্যাগ স্বীকার করা নিঃস্বার্থ এক মানুষের কথা।

১৯৮২ সালে পড়াশোনা শেষ করে পিটিআই ট্রেনিং সমাপ্তি না হতেই বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন মা। নিজের ক্যারিয়ার বিসর্জন দিয়ে সংসারকে ভালোবেসে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের চাকরি না করার সিদ্ধান্ত নেন। গৃহিণী হিসেবেই সারাটা জীবন কাটিয়ে দিলেন। বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার কারণে গর্ভে আট মাসের কম সময়ের আগে প্রথম সন্তান হিসেবে পৃথিবীর আলো দেখেছিলাম আমি। তখন শরীরের ওজন ও গঠন কম থাকায় বেঁচে থাকার হার অনেক কম ছিল। সে সময় এখনকার মতো চিকিৎসাব্যবস্থা উন্নত ছিল না। তাই দিশাহারা হয়ে যান মা।

আরেকটি দুর্ঘটনা ঘটেছিল। আমার বয়স যখন ১০ দিন, তখন মায়ের বাবা (দাদান) পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে পরপারে চলে যান। সন্তান অসুস্থ থাকায় ‘মা’ তাঁর বাবার শেষ দেখাটাও দেখতে যেতে পারেননি। এটা পৃথিবীর যেকোনো মেয়ের জন্য কতটা কষ্টের তা লিখে বোঝানো যাবে না। মা দিনরাত যত্ন ও সেবা দিয়ে অসুস্থ সন্তানকে সুস্থ করেছেন। এই ত্যাগের জন্য মা তোমাকে ধন্যবাদ।

আরও পড়ুন

২০১৫ সালে ঢাকা থেকে মুন্সিগঞ্জ ফেরার পথে এক সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল। বাঁ হাতে গুরুতর আঘাত।
ঘুম থেকে জেগে ওঠার পর দেখি মায়ের সে কী নিঃশব্দ কান্না। সব কাজ ফেলে ডাক্তারের পরামর্শে অসুস্থ ছেলের সঙ্গে হাসপাতালে থেকে যত্ন দিয়ে সুস্থ করে তোলেন। আমার সব প্রয়োজন মেটাতে তিনি সব রকম চেষ্টা করেন।

তিনি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মা। আমি যা-ই করতাম মুগ্ধ হয়ে যেতেন। সেটাতে উৎসাহ দিতেন। আমার জীবনের সব অর্জন মায়ের কাছ থেকেই পাওয়া। আমার জীবনের সবটুকুর জন্যই মায়ের কাছে ঋণী। পৃথিবীর সব মায়েরা সুস্থ থাকুক, সুন্দর থাকুক। তাঁদের জীবন হোক দুঃখহীন—এই কামনা করি।

সহসভাপতি, মুন্সিগঞ্জ বন্ধুসভা