মানুষ হওয়ার শিক্ষাটা আমরা কোথায় হারালাম

ছবি: এআই/বন্ধুসভা

রাস্তায় একজন মানুষ দুর্ঘটনায় পড়ে আছেন। কেউ এগিয়ে গিয়ে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করছেন না; বরং কয়েকজন মুঠোফোন বের করে ভিডিও করছেন। দৃশ্যটি আমাদের সামনে একটি অস্বস্তিকর প্রশ্ন তুলে ধরে—আমরা কি সত্যিই শিক্ষিত হচ্ছি, নাকি শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল করার শিক্ষা নিচ্ছি?

একসময় ভালো মানুষ বলতে বোঝানো হতো সৎ, সহানুভূতিশীল, দায়িত্বশীল এবং অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল একজন মানুষকে। কিন্তু আজ সফলতার সংজ্ঞা অনেকটাই বদলে গেছে। ভালো চাকরি, বেশি আয়, সামাজিক মর্যাদা ও প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকাই যেন সাফল্যের প্রধান মাপকাঠি। এই দৌড়ে মানবিকতার শিক্ষাটি ক্রমেই আড়ালে চলে যাচ্ছে।

পরিবার থেকেই একটি শিশুর মূল্যবোধ গড়ে ওঠে। কিন্তু আমরা সন্তানের ফলাফল নিয়ে যতটা চিন্তিত হই, তার আচরণ, সততা কিংবা অন্যের প্রতি সম্মানবোধ নিয়ে কি ততটা ভাবি? শিশুরা উপদেশের চেয়ে বড়দের আচরণ থেকেই বেশি শেখে।

আরও পড়ুন

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভূমিকাও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষা যদি মানুষকে শুধু প্রতিযোগিতায় জিততে শেখায়, কিন্তু অন্যের দুঃখ বুঝতে না শেখায়, তবে সেই শিক্ষা পূর্ণতা পায় না। পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি সহমর্মিতা, সামাজিক দায়িত্ব, স্বেচ্ছাসেবা ও নৈতিকতার বাস্তবচর্চাও প্রয়োজন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও আমাদের মূল্যবোধে নতুন চাপ তৈরি করেছে। সাহায্যের চেয়ে সাহায্যের ছবি, কাজের চেয়ে প্রদর্শন, সম্পর্কের চেয়ে ‘লাইক’ ও ‘ফলোয়ার’ অনেক সময় বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। অনলাইনে অশালীন মন্তব্য, অপমান কিংবা সাইবার বুলিংও যেন সহজ হয়ে গেছে।

তবু আশা হারানোর কারণ নেই। এখনো অসংখ্য মানুষ নীরবে অন্যের পাশে দাঁড়ান। প্রয়োজন শুধু পরিবার, শিক্ষা ও সমাজে মানবিকতার চর্চাকে আবার গুরুত্ব দেওয়া।

দপ্তর সম্পাদক, খুলনা বন্ধুসভা