সে রাতে আকাশে বৃষ্টি ছিল না
সে রাতে আকাশে বৃষ্টি ছিল না! হয়তোবা আমাদের জনাকতক লোকের অবিশ্রান্ত অশ্রুধারার কাছে নিতান্তই পরাজিত হয়ে, সাময়িক সময়ের জন্য বর্ষা পালিয়েছে দূর কোনো লোকালয়ে। অথচ ঋতু পরম্পরায় প্রকৃতিতে তখন ভরা বর্ষা।
আটাশ রমজানের ইফতারি-সাইরেন আমাদের কর্ণগোচরে আসার সঙ্গে সঙ্গে আমরা আশা-হতাশার চৌকাঠে বসে উদ্বিগ্ন কণ্ঠে কান্না শুরু করি। দিবা-অবসানের সাইরেন বেজেছে বলে কাঁদিনি, কেঁদেছি একটি জীবনাবসানের সাইরেন শুনে। যদিও দুটি সাইরেনই বেজেছে একই সময়ে। মসজিদের সাইরেন বন্ধ হয়েছে আধা মিনিট পর, আসমানের সাইরেন সহজে বন্ধ হয়নি।
আশা-নিরাশার দোলাচলে দাঁড়িয়ে ক্ষান্তি দিয়ে দিয়ে আমরা শেষ রাত অবধি কেঁদে, পরে আশাভঙ্গের সংবাদ শুনি! তখনো মসজিদের সাইরেন রোজাদারদের সাহ্রি খাওয়ার জন্য ডেকে তুলছে। আর আসমানের সাইরেন আমাদের ডেকে তুলছে দুঃখযাপনের জন্য। ক্ষান্তি দিয়ে দিয়ে সেই দুঃখ আজও যাপন করি। যাপন করব মৃত্যু অবধি। কিন্তু তুমি কোনো দুঃখ যাপন কোরো না মা! ওপারে ভালো থেকো তুমি।
জান্নাতের সবুজ চত্বরে আমাদের দেখা হবে। আমি হেসে হেসে বলে যাব, তোমাকে ছাড়া আমার একেকটা দিন কীভাবে কেটেছে। অথচ দুঃখ মিশিয়ে কেঁদে কেঁদেই বলা দরকার কথাগুলো; কিন্তু সেখানে আমি দুঃখ কোথায় পাব, সেখানে তো শুধু সুখ আর সুখ। তাই সুখ-আহ্লাদ মিশিয়েই বলে যাব আরও আরও দুঃখের দিনের গল্পগুলো।
জামেয়া ওসমানিয়া, চাটখিল, নোয়াখালী