আজ ৪ অক্টোবর, বিশ্ব প্রাণী দিবস। মানুষকে ঘিরে সাজানো পৃথিবীর সর্বত্রই রয়েছে প্রাণের অস্তিত্ব। অতল সমুদ্রে, পাহাড়ের চূড়ায় বা বরফের হিমে—সবখানে। তেমনই কিছু প্রাণীর বৈচিত্র্যময় আচরণ নিয়ে এই লেখা।
পেঙ্গুইন
সুদূর এন্টার্কটিকা মহাদেশের ব্ল্যাক ফর্মাল স্যুট পড়া ভদ্র প্রাণী এটি। সাবধানী চলাফেরা, আচরণে শান্ত, সঙ্গীর প্রতি অগাধ ভালোবাসা তাকে করেছে বিশ্বের কাছে অনন্য। ছোট থেকে বড় হওয়া মায়ের সঙ্গেই। মায়ের কঠোর প্রশিক্ষণে পাড়ি দেয় বড় বড় ভাসমান হিমবাহ। শিকারে হয়ে উঠে সিদ্ধহস্ত।
ধীরে ধীরে পৌঁছে যায় জীবনের বসন্তে। মরিয়া হয়ে খোঁজে তার বসন্তকুমারীকে। একটা সময় পেয়েও যায়। কিন্তু প্রেয়সীর যে উচ্চাভিলাস! পছন্দসই পাথর এনে দিলেই বিয়ের পীড়িতে বসবে, নয়তো নয়। পুরুষ পেঙ্গুইনও কম যায় না! ঝড়ঝাপটা সহ্য করে নিয়ে আসে সেই পাথর, উপহার দেয় প্রিয় পেঙ্গুইনকে। এভাবেই শুরু হয় দাম্পত্যজীবন! জন্ম নেয় নতুন অতিথি।
বাবা পেঙ্গুইনের সে কী চিন্তা! কী খাওয়াবে, কোথায় রাখবে! ছুটে চলে এদিক–সেদিক। মা পেঙ্গুইনও আগলে রাখে পরম মমতায়!
অ্যাংলার ফিশ
গভীর সমুদ্রে এদের বসবাস, যেখানে সূর্যের আলো পৌঁছায় না। তবে এই মাছের মাথার কাছে রয়েছে দুটি টর্চলাইট, যা দ্বারা সে সহজেই খাদ্য শিকার করে।
মজার ব্যাপার হলো এরা সঙ্গী খোঁজায় অনন্য। পুরুষ সঙ্গী যখন স্ত্রী সঙ্গীকে পায়, সারা জীবনের মতো সাত পাকে বেঁধে ফেলে। পুরুষ সঙ্গী আকারে ছোট হওয়ায় রিপ্রোডাক্টিভ পার্টনার হিসেবে স্ত্রী সঙ্গীর পিঠে আটকে যায়। এভাবেই তাদের প্রজনন সম্পন্ন হয়। একটা সময় তাদের অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলোও একই ভাবে কাজ করতে থাকে। এটা পুরোটাই তাদের বিবর্তনের জন্য হয়।
অ্যালবাট্রস
সমুদ্রের পাখি। ডানা না ঝাপটিয়ে বাতাসের গতির পরিবর্তন লক্ষ্য করে পাড়ি দেয় হাজার হাজার কিলোমিটার। পাখিদের মধ্যে দীর্ঘজীবী বোধ হয় এরাই। কয়েক দশক পর্যন্ত বাঁচতে পারে।
পরিযায়ী পাখি অ্যালবাট্রস, জীবনের প্রয়োজনে ছুটতে হয় এক দ্বীপ থেকে অন্য দ্বীপে। কখনো কখনো যাত্রাপথেই পরিচয় হয় প্রেয়সীর সঙ্গে। নিজস্ব কলোনিতে ফিরে এসে ঘর বাঁধে দুজন। নতুন অতিথি জন্ম নিলে বাবা–মায়ের শুরু হয় ভাগাভাগি দায়িত্ব পালন, ঠিক মানুষের সন্তানের মতো। মা পরম যত্নে শিশু পাখির মুখে তুলে দেয় খাবার, বাবা ঝড়ঝঞ্ঝা সহ্য করে জোগান দেয় খাবারের।
আসলে প্রকৃতি এক বৈচিত্র্যময় মঞ্চ। মানুষের মতো অন্যান্য প্রাণীদের নেই কোনো বিয়ের শপথ, কাবিননামা; তবু তারা বছরের পর বছর কাটিয়ে দেয় ভালোবাসায়, বিশ্বাসে, অস্তিত্ব রক্ষায়।
শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়