নাটাই
একবার একটা জিনিসের ওপর খুব শখ জেগেছিল। না পেয়ে কষ্ট পেয়েছিলাম। এত চেষ্টা করার পরও যখন জিনিসটা আমার হলো না, ভীষণ অভিমান জমেছিল মনে। আমার চোখে দেখা, অনেক অযোগ্য মানুষও না চাইতেই পেয়ে গিয়েছিল, তাহলে আমি পেলাম না কেন?
নিজেকে কত প্রশ্ন করেছি, কত অভিমান করেছি, কত রাগ হয়েছে! দিন শেষে কাউকে দোষ দিতে পারিনি। দোষ দেবই বা কাকে? সব ভুলে গেলেও একটি কথা ভুলতে পারিনি; যা হয়, ভালোর জন্যই হয়। ওপরে যিনি আছেন, তিনি কখনো সহ্যের সীমার বাইরে কিছু চাপিয়ে দেন না। তাঁর পরিকল্পনা সব সময়ই সর্বোত্তম।
সবই বুঝতে পারছিলাম; কিন্তু না পাওয়ার কষ্টটা ভুলে নিজেকে বোঝাতে পারছিলাম না। দিন শেষে সবচেয়ে বড় সত্য হলো রিজিক। কপালে না থাকলে কি জোর করে কিছু আনা যায়?
জীবনে এমন অনেক কিছু আসবে ও যাবে, চাইলেও কিছু করার থাকবে না। অনেক ক্ষতিকর জিনিস নিজে থেকেই সরে যাবে। আবার অনেক বিপদ আসবে, যেগুলো আশপাশের মানুষেরাই আগাছার মতো করে সরিয়ে দেবে। হয়তো ভালো চেয়ে, নয়তো হিংসা থেকে।
একবার একজন জিজ্ঞাসা করেছিল, ‘জীবন কেমন যাচ্ছে আজকাল?’ আমি হেসে বলেছিলাম, ‘এই জীবন? এ তো বাঁধনহারা হয়ে আকাশে উড়ছে, নাটাইছাড়া ছিঁড়ে যাওয়া সুতার মতোই ঘুরছে!’
কখনো হাল ছাড়ব না। আর পাইনি তো কী হয়েছে? পূর্ণতা কি শুধুই পাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ?