যে রাজমিস্ত্রির জোগান আমার জীবন গড়ে দিয়েছে

শৈশবে বাবার সঙ্গে লেখকছবি: লেখকের সৌজন্যে

তখন ক্লাস ফোরে পড়ি, সাল ২০০৯। আব্বু একটা আবাসিক এলাকার গ্যাসের লাইন কাভারেজের কাজ পেয়েছিলেন টেন্ডারে, তিনি কনস্ট্রাকশন ব্যবসা করতেন। সে সময় বেলা ১১-১২টা হলেই আমি কাজের সাইটে চলে যেতাম সাইকেল নিয়ে। মূলত আম্মুই আমাকে পাঠিয়ে দিতেন।
সে সময়টাতে মিস্ত্রিদের জন্য নাশতা আনা হতো, আমিও খেতে পারতাম, আর ফাঁকে ফাঁকে সাইকেল চালানো শেখাতেন আব্বু।

যত দ্রুত কাজগুলো শেষ করা যায়, ততই আমাদের জন্য ভালো। তখন আমাদের কাছে অর্থসংকট ছিল। আব্বু সব সময়ই এই দুচিন্তায় থাকতেন। একদিন মিস্ত্রিরা দুপুরে লাঞ্চ ব্রেকে গেলে সাইটে আমি আর আব্বু ছিলাম। সেদিন আশানুরূপ কাজ হয়নি। সিমেন্টমাখা ছিল পাশে, ইটের গাঁথুনি করতে হবে। তখন আব্বু আমাকে বলছিলেন, ‘আমাকে তুমি পাশে থেকে সিমেন্ট এনে দিতে পারবা?’ আমি তো তা শুনে বেশ খুশি। কারণ, দেখতে দেখতে কাজগুলো আমার ভালো লাগত। হালুয়ার মতো সিমেন্ট, বিশেষ করে দেয়ালে সিমেন্ট লেপন আমার বেশ পছন্দের। বললাম পারব। তখন আমি বেলচায় করে সিমেন্ট বালতিতে নিয়ে গিয়ে আব্বুকে দিতাম, আর আব্বু তা দিয়ে ইটের গাঁথুনি করতেন যতক্ষণ না মিস্ত্রিরা ফিরছেন। সেবার আমরা অনেকগুলো ইটের গাঁথুনি করেছিলাম।

আমরা যে ভবনের নিচে কাজ করছিলাম, ওটার ওপরে থাকতেন আমার স্কুলের ক্লাসটিচার ফরিদা ম্যাম, যা আমি জানতাম না। ওপর থেকে তিনি সব দেখছিলেন আর পরদিন এসে স্কুলে এই কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেন। বাকি স্টুডেন্টদের সামনে আমি বেশ মূল্যায়িত হয়েছিলাম এই রাজমিস্ত্রির জোগান দেওয়ার কারণে। আর এই রাজমিস্ত্রির কাজ জীবনের প্রতিটি বাঁকে আমার জোগান দিয়েছে। ইটের মতো আমার জীবনটাকে সারিতে সারিতে গেঁথেছে। এই ঘটনা আব্বুর সঙ্গে আমার জীবনের অন্যতম অবিস্মরণীয় ঘটনা হিসেবে অঙ্কিত আছে।

শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়