আমার আম্মু কামরুন নাহার, পেশায় একজন শিক্ষক। প্রতিদিন সকালবেলা বাসা থেকে বের হন। সারা দিন স্কুলে ক্লাস ও প্রাতিষ্ঠানিক কাজ শেষে বাসায় ফিরতে ফিরতে দুপুর, কখনো আবার বিকেল হয়ে যায়। ছোটবেলা থেকেই দেখতাম বাসায় ফেরার পর আম্মুর শুরু হতো নিত্যদিনের রুটিন দিয়ে—আমাদের দুই ভাই–বোনের জন্য খাবার তৈরি করা, নিজের হাতে আমাদের খাইয়ে দেওয়া। নিজের সারা দিনের ব্যস্ততার ভিড়ে নিজেই হয়তো ঠিকমতো খেতে পারেননি তখনো।
আমার ক্লাস এইট পর্যন্ত পড়াশোনার সব বিষয় আম্মুই দেখিয়ে দিতেন। তিনি রাত জেগে আমার জন্য নোট তৈরি করে দিতেন। সেগুলো পড়েই প্রতিটি পরীক্ষায় প্রথম হতাম। জীবনের প্রতিটি ধাপে প্রতিটি পরীক্ষায় আম্মু আমার হাত ধরে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। আমাদের দুই ভাই–বোনকে লালন–পালন করতে নীরবে অনেক কষ্ট সহ্য করেছেন।
বড় হয়ে যাওয়ার পরেও এখনো আমার চরম বিপদের মুহূর্তগুলোয় আম্মু সাহস দিয়ে আমাকে আগলে রাখেন। অথচ এখনো উচ্চ রক্তচাপসহ শারীরিক অনেক অসুস্থতা নিয়ে সারা দিন পরিশ্রম করে রাতের বেলা ঘাড়ের ব্যথা ও অনিদ্রা সহ্য করেও আমাদের ভালো রাখা ও পরিবারকে ভালো রাখার জন্য শিক্ষকতা করে যাচ্ছেন। একটা প্রজন্মকে আলোকিত করার জন্য আলো জ্বেলে যাচ্ছেন প্রতিনিয়ত।
আল্লাহর কাছে প্রার্থনা, আমার আম্মু সুস্থ থাকুক সব সময়, বেঁচে থাকুক অনেক বছর। দুই হাতে আগলে রাখুক আমাদের সারা জীবন।
সহসভাপতি, বন্ধুসভা জাতীয় পরিচালনা পর্ষদ