ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান এক বক্তৃতায় বলেছিলেন, জাদুঘরের প্রধান কাজ হলো বৈজ্ঞানিক, শৈল্পিক, ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের বস্তুগুলো সংরক্ষণ এবং তা জনসম্মুখে প্রদর্শন করা। কেননা জাদুঘর থেকেই অনেক সময় সামাজিক, রাজনৈতিক বা রাষ্ট্রীয় পরিবর্তনের সূচনা হয়।
জাদুঘরের ইতিহাস শত বছরের হলেও উপমহাদেশে এর ধারণা এসেছে ব্রিটিশদের মাধ্যমে। ভারতীয় উপমহাদেশে জাদুঘরের গুরুত্ব অনুধাবন করেন মূলত এশিয়াটিক সোসাইটির সদস্যরা। এশিয়াটিক সোসাইটির কাজই ছিল এ অঞ্চলের জাতিতাত্ত্বিক, প্রত্নতাত্ত্বিক, ভূতাত্ত্বিক ও প্রাণিবিষয়ক নমুনা সংগ্রহ করে সেগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের উপযোগী করে তোলা। আর এ ব্যাপারে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেন ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল লর্ড ওয়ারেন হেস্টিংস। তিনি ছিলেন এশিয়াটিক সোসাইটির অন্যতম পৃষ্ঠপোষক।
কলকাতার পার্ক স্ট্রিটে জমির ব্যবস্থা করলে ১৮০৮ সালে সেখানে জাদুঘরের জন্য ভবন নির্মাণ শেষ হয়। ১৮১৪ সালে উপমহাদেশের প্রথম জাদুঘর হিসেবে ‘এশিয়াটিক সোসাইটি মিউজিয়াম’–এর জন্ম ও প্রতিষ্ঠা হয়। আর ১৯১০ সালের এপ্রিলে নাটোরের দিঘাপতিয়া রাজপরিবারের সার্বিক পৃষ্ঠপোষকতায় শরৎ কুমার রায়ের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর’, যা বাংলাদেশের প্রথম জাদুঘর হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশে শতাধিক জাদুঘর থাকলেও শাহবাগে অবস্থিত ‘বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর’ দেশের প্রধান জাদুঘর হিসেবে বিবেচিত।
দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষায় জাদুঘরের গুরুত্ব অনুধাবন করে প্রতিবছর ১৮ মে বিশ্ব জাদুঘর দিবস পালন করা হয়। ইন্টারন্যাশনাল কাউন্সিল অব মিউজিয়ামসের আহ্বানে ১৯৭৭ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী এই দিবস পালিত হচ্ছে। কাউন্সিলের সদস্য হিসেবে বর্তমানে ১০৭ দেশের প্রায় ২৮ হাজার জাদুঘর এর সঙ্গে যুক্ত।
জাদুঘর শুধু ইতিহাস ও ঐতিহ্যকেই ধারণ করে, এমন নয়। পর্যটন খাতেও এর ব্যাপক অবদান রয়েছে। ফ্রান্সের ল্যুভর মিউজিয়ামে প্রতিবছর ৯ দশমিক ৬ মিলিয়ন পর্যটক ভ্রমণ করেন। এ ছাড়া শুধু কোহিনুর দেখতে টাওয়ার অব লন্ডনে এসে অনেক লোক ভিড় করেন।