মোটরসাইকেল কীভাবে এল

১৮৯৪ সালে জার্মান কোম্পানি হিল্ডব্র্যান্ড অ্যান্ড উলফমুলারের বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদিত মোটরসাইকেলের ডায়াগ্রামছবি: বাইসাইকেল হিস্ট্রি ডট নেট

আমাদের মধ্যে যাঁরা অফিস-আদালত ও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত, তাঁদের যাতায়াতের জন্য একটি নিজস্ব আবেগের নাম মোটরসাইকেল। বাইসাইকেলের মতো দুই চাকা বিশিষ্ট হলেও এটি একটি মোটরযান, যা জ্বালানি তেলের মাধ্যমে চলে এবং আকৃষ্টকর ডিজাইনের জন্য মানুষের কাছে জনপ্রিয়।

১৮৯৪ সালে জার্মান কোম্পানি হিল্ডব্র্যান্ড অ্যান্ড উলফমুলার সর্বপ্রথম বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদিত মোটরসাইকেলের পেটেন্টে ‘মোটরসাইকেল’ শব্দটি ব্যবহার করেন। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে মোটরসাইকেল ব্যবহার করা হয় বিনোদনের জন্য। অন্যদিকে নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে এই মোটরসাইকেল হলো যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের একটি মাধ্যম।

ছবি: বাইসাইকেল হিস্ট্রি ডট নেট

মোটরসাইকেল দিয়ে শহরের বড় বড় মহাসড়কে দীর্ঘ জানজটের মধ্যেও খুব সহজে সরু ও ছোট পথ দিয়ে জ্যাম অতিক্রম করা যায়। কাপল কিংবা একা ভ্রমণের জন্যও সেরা সঙ্গী এটি। স্বাধীনচিত্তে, মনের আনন্দে ও হাওয়ার গতিতে খোলা চুলে মোটরসাইকেল ড্রাইভিং প্রতিটি প্রজন্মের কাছেই দারুণ উপভোগের। অনেকে এখন দূরের গন্তব্যে ভ্রমণের জন্য মোটরসাইকেল ব্যবহার করেন। জ্বালানি খরচ কম, দ্রুত যানজট এড়ানো, সহজে পার্কিং, সাশ্রয়ী রক্ষণাবেক্ষণ ও রাইডিংয়ে রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার কারণে এই যানবাহন বেশ জনপ্রিয়।

মোটরসাইকেল উদ্ভাবন
১৮৬৭ সালে আমেরিকান উদ্ভাবক সিলভেস্টার হাওয়ার্ড রোপার একটি বাষ্পচালিত সাইকেল তৈরি করেন। শুরুর দিকে মোটরসাইকেল ছিল বাইসাইকেলের সঙ্গে ইঞ্জিনযুক্ত একটি যান। ধীরে ধীরে এর ডিজাইন, ইঞ্জিন ক্ষমতা ও কার্যকারিতা উন্নত হতে থাকে। ১৮৮৫ সালে জার্মানির ব্যাড ক্যানস্টাটতে উদ্ভাবক গতলিয়েব ডেইমলার ও উইলহেম মেব্যাচের প্রচেষ্টার ফলে বিশ্বের সর্বপ্রথম যন্ত্রচালিত মোটরসাইকেল আবিষ্কৃত হয়। এরপর তাঁরা মোটরসাইকেলের নাম দেন জার্মান ভাষায় ‘ডেইমলার রাইটভাগেন’, যাকে ইংরেজিতে ‘রাইডিং কার’ এবং বাংলায় ‘চড়ার গাড়ি’ হিসেবে ধরা হয়। এই আবিষ্কারের জন্য ডেইমলারকে মোটরসাইকেলের জনক বলা হয়।

আরও পড়ুন
পুরোনো মোটরসাইকেল
ছবি: বাইসাইকেল হিস্ট্রি ডট নেট

বাণিজ্যিকভাবে মোটরসাইকেল ও এর উত্থান
১৮৯৪ সালে জার্মানির মিউনিখভিত্তিক ‘হিল্ডব্র্যান্ড অ্যান্ড উলফমুলার’ কোম্পানির নামে পেট্রোলিয়াম জ্বালানি চালিত মোটরসাইকেলের দুটি সিরিজ উৎপাদন শুরু করে। এটিই বিশ্বে প্রথম। এরপর ১৯০১ সালে ব্রিটেনের ‘রয়্যাল এনফিল্ড’ প্রথম মোটরসাইকেল তৈরি করে। একই বছর মার্কিন প্রতিষ্ঠান ‘ইন্ডিয়ান মোটরসাইকেল ম্যানুফ্যাকচারিং’ কোম্পানি প্রথম রেসিং মোটরসাইকেল তৈরি করে। ১৯৬০-এর দশকে জাপানি মোটরসাইকেল কোম্পানি ‘হোন্ডা’, ‘ইয়ামাহা’, ‘সুজুকি’ ও ‘কাওয়াসাকি’ বিশ্ববাজারে নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করতে শুরু করে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে ২০২৩ সালের ১১ অক্টোবর এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে উৎপাদিত ৩৭৫ সিসি বা ইঞ্জিনের ক্ষমতাসম্পন্ন মোটরসাইকেল নিবন্ধন ও দেশের সড়কে চলাচলের জন্য অনুমোদিত হয়।

স্কুটার
ছবি: বাইসাইকেল হিস্ট্রি ডট নেট

মোটরসাইকেল ও স্কুটারের মধ্যে পার্থক্য
বেশির ভাগ মোটরসাইকেলে ম্যানুয়াল গিয়ার ট্রান্সমিশন থাকে, যা ক্যাচ ও গিয়ার লিভার ব্যবহার করে পরিবর্তন করতে হয়। মোটরসাইকেলে সাধারণত কোনো বিল্ট-ইন স্টোরেজ থাকে না, তবে এতে আলাদা করে লাগেজ বা স্যাডলব্যাগ যুক্ত করা যায়। আর মোটরসাইকেলের সিসি বা ইঞ্জিনের ক্ষমতা যত বেশি হয়, সাধারণত তার ইঞ্জিন তত বড় ও শক্তিশালী হয়। মোটরসাইকেলের ইঞ্জিন বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই স্কুটারের ইঞ্জিন থেকে অনেক বেশি শক্তিশালী হওয়ার ফলে পাহাড় ও লম্বা দূরত্বের পথ পাড়ি দিতে স্কুটারের তুলনায় বেশি আরাম পাওয়া যায়। এ জন্য তরুণ প্রজন্মের কাছে মোটরবাইকই বেশি জনপ্রিয়।

অন্যদিকে প্রায় সব আধুনিক স্কুটারে স্বয়ংক্রিয় ট্রান্সমিশন থাকে। এর ফলে গিয়ার পরিবর্তন করার ঝামেলা থাকে না, শুধু থ্রটল ঘুরিয়ে চালানো যায়। স্কুটার আরামদায়ক, ফলে রাস্তায় বেশ আরামে পথ চলা যায়। স্বয়ংক্রিয় ট্রান্সমিশন সুবিধার পাশাপাশি স্কুটারে বসার জায়গা থাকে অনেক বেশি। পণ্যও বহন করা যায়। দামও তুলনামূলক কম। ফলে অনেকের কাছেই স্কুটারের চাহিদা রয়েছে বেশ।

সূত্র: বাইসাইকেল হিস্ট্রি ডট নেট

বন্ধু, কক্সবাজার বন্ধুসভা