কিশোরদের হাতে বই ফিরুক
একটা ছোট্ট প্রশ্ন করি, তোমার কি কোনো খুব ভালো বন্ধু আছে, যার সঙ্গে গল্প করতে ভালো লাগে, যার কাছে নতুন নতুন কথা জানা যায়? যদি থাকে, তাহলে খুব ভালো ব্যাপার। আর যদি না থাকে, তাহলে একটা দারুণ খবর আছে; তুমি চাইলে আজই নতুন এক বন্ধুর সঙ্গে পরিচিত হতে পারো। সেই বন্ধুর নাম হলো বই।
বই খুবই অদ্ভুত এক বন্ধু। সে কখনো তোমার সঙ্গে ঝগড়া করবে না, কখনো রাগ করবে না। তুমি যখনই তার কাছে যাবে, সে তোমাকে নতুন কিছু শোনাবে। কখনো রূপকথা, কখনো বিজ্ঞান, কখনো দর্শন, কখনো কোনো অজানা গল্প। ধরো, তুমি ঘরে বসেই জানতে চাইলে সমুদ্রের গভীরের রহস্য, মহাকাশের গল্প, কিংবা কোনো সাহসী অভিযানের কাহিনি—সবই কিন্তু বইয়ের পাতায় পাওয়া যায়। একটা বই খুললেই নতুন একটা জগৎ খুলে যাবে।
বই হলো আমাদের জ্ঞানের আদি উৎস। যেকোনো বিষয়ে গভীর জ্ঞান অর্জনের জন্য বইয়ের বিকল্প নেই। বই আমাদের জ্ঞানের পরিধি বৃদ্ধি করে।
একঘেয়েমি দৈনন্দিন ব্যস্ততার মধ্যে একটি ভালো বই মনের ক্লান্তি দূর করতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, মাত্র ৬ মিনিট মনোযোগ দিয়ে বই পড়লে হৃৎস্পন্দন স্বাভাবিক হয় এবং পেশির উত্তেজনা কমে যায়, যা মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক।
কল্পবিজ্ঞান বা ফিকশন পড়ার সময় আমরা চরিত্রের সুখ-দুঃখে নিজেকে জড়িয়ে ফেলি। এটি আমাদের অন্যের দৃষ্টিভঙ্গি বুঝতে এবং বাস্তব জীবনে মানুষের প্রতি আরও সহমর্মী হতে শেখায়। পাশাপাশি এটি আমাদের কল্পনাজগৎকেও রঙিন করে তোলে।
বর্তমান যুগে আমরা মুঠোফোনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটিয়ে দিই। কিন্তু একটা ভালো বই পড়লে যে তৃপ্তি পাওয়া যায়, তা আমরা উপলব্ধি করি না। বই আমাদের কল্পনাকে বড় করে, ভাবতে শেখায়, আর ভাষাকে সুন্দর করে তোলে।
তাই প্রতিদিন ঘুমানোর আগে আমাদের কমপক্ষে ২০ থেকে ৩০ মিনিট বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত। এতে আমাদের মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বৃদ্ধি পাবে।
পরিশেষে আমার কিশোর বন্ধুদের জন্য বলতে চাই, নিজের মননশক্তি বৃদ্ধি করতে এবং নিজেকে চিন্তাশীল বিচক্ষণ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে তোমরা বইয়ের সঙ্গে বন্ধুত্ব করো।
শিক্ষার্থী, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর