ছোটবেলা থেকেই বইয়ের সঙ্গে আমার পরিচয়। এর পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা মায়ের। নানাবাড়িতে অনেক বই ছিল। সবাই বই পড়তে ভালোবাসত। এমনকি আমার জন্মের আগে থেকেই মা আমার জন্য বই কিনে রাখত। তাই খুব ছোটবেলা থেকেই বই পড়ার অভ্যাস তৈরি হয়ে যায়। মনে আছে, প্রতিবছর বইমেলায় যেতাম আর একসঙ্গে ৩০-৪০টা বই কিনে ফেলতাম। তারপর সেগুলো পড়েও শেষ করে ফেলতাম। এভাবে বাংলা সাহিত্যের অসংখ্য গল্প-উপন্যাস পড়েছি।
পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ার সময় একদিন ইউটিউবে মিরচি বাংলার একটি গল্প (অডিও বুক) শুনি। এত ভালো লেগেছিল যে এরপর নিয়মিত গল্প আর উপন্যাস শুনতে শুরু করি। প্রতি রোববার সানডে সাসপেন্স এলে আমরা একসঙ্গে শুনতাম। করোনার সময় ঘরে বন্দী দিনগুলোতে এই গল্প শোনাই ছিল মা আর আমার সময় কাটানোর অন্যতম উপায়। এমনও হয়েছে, শুনতে শুনতে মিরচির ইউটিউব চ্যানেলের প্রায় সব গল্প শেষ করে ফেলেছিলাম, তাই আগের শোনা গল্প আবার শুনতাম।
কলেজে ওঠার পর পড়ার চাপে বই পড়া অনেক কমে গেছে। চাইলেও আগের মতো বই নিয়ে বসা হয় না। তাই এখন গল্প শোনাকেই অনেকটা বই পড়ার বিকল্প হিসেবে ধরে নিয়েছি। সাধারণত খেতে বসলে আমরা গল্প শুনি। টিভি দেখার বদলে ব্লুটুথ স্পিকারে গল্প চালিয়ে দিতেই আমাদের বেশি ভালো লাগে। মা আর আমি দুজনেই খুব মনোযোগ দিয়ে শুনি। অনেক সময় এমনও হয়, গল্প এত মন দিয়ে শুনি যে তখন আমি নিজে কোনো কথা বলি না, অন্য কাউকেও বলতে দিই না!
সাহিত্যপাঠ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি আমার চিন্তাশক্তি ও কল্পনাকে যেভাবে প্রসারিত করেছে, তা অন্য কোনোভাবে সম্ভব হতো না। যত বড় হচ্ছি, অনুভব করছি, এই গল্প শোনার দিনগুলো ধীরে ধীরে হারিয়ে যাবে। তাই চেষ্টা করি, যতটা সম্ভব হৃদয়ে এর ছবি এঁকে রাখার। তোমাকে ধন্যবাদ মা, আমাকে সুন্দর একটি জগতের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য।
উচ্চমাধ্যমিক পরিক্ষার্থী, নটর ডেম কলেজ, ঢাকা