আব্বাকে ছাড়া ঈদ অসম্পূর্ণ

প্রতীকীছবি: এআই/বন্ধুসভা

ঈদ আমাদের জীবনে আনন্দের বার্তা নিয়ে আসে—নতুন পোশাক, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো, প্রিয় মানুষদের মুখে হাসি। কিন্তু এই আনন্দের ভেতরেও অনেকের জীবনে থেকে যায় এক নিঃশব্দ শূন্যতা। আমার জন্য সেই শূন্যতার নাম ‘আব্বা’।

পাঁচ বছর ধরে আব্বা আমাদের সঙ্গে ঈদ করতে পারেন না। আমরা দেশে—আমি, আমার মা ও বোন। আর তিনি দূরে প্রবাসে, সৌদি আরবে কর্মরত।

ছোটবেলায় ঈদ মানেই ছিল আব্বার সঙ্গে কাটানো সময়। ঈদের আগে তিনি খোঁজ নিতেন—কেনাকাটা হয়েছে কি না, কিছু লাগবে কি না। ঈদের দিন খেতে বসলে খোঁজ নিতেন—‘হাসান খেয়েছ তো?’ সন্ধ্যা হলে চিন্তা করতেন—আমি বাসায় ফিরেছি কি না। এই ছোট ছোট খোঁজ নেওয়াগুলোই ছিল তাঁর ভালোবাসার ভাষা। আজ সেই কণ্ঠস্বর নেই, কিন্তু স্মৃতিগুলো আছে—নীরবে, গভীরভাবে।

প্রবাসে থাকা একজন বাবার জীবন বাইরে থেকে যতটা সহজ মনে হয়, বাস্তবে ততটাই কঠিন। তীব্র গরম, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা আর অনিশ্চিত পরিবেশের মধ্যে ওনাকে প্রতিদিন কাজ করতে হয়।

রমজান মাসে সেই কষ্ট আরও বেড়ে যায়। দিনের তীব্র তাপের কারণে অনেক ক্ষেত্রে দিনের কাজ বন্ধ থাকে, তাই রাতেই কাজ করতে হয়। রোজা রেখে, পর্যাপ্ত বিশ্রাম ছাড়াই, পুরো মাস রাত জেগে কাজ করে যেতে হয়—শুধু পরিবারের কথা ভেবে।

ঈদের দিনও তাঁর জীবনে আলাদা কোনো স্বস্তি নিয়ে আসে না। নিজের রান্না নিজে করতে হয়, নিজের কাপড় নিজে ধুতে হয়। অসুস্থ হলে পাশে কেউ থাকে না—এক গ্লাস পানি এগিয়ে দেওয়ার মতোও না। এই বাস্তবতাগুলো ভাবলে বোঝা যায়—একজন বাবা তাঁর সন্তানের জন্য কতটা ত্যাগ স্বীকার করেন। তিনি নিজের স্বাচ্ছন্দ্য, নিজের আনন্দ, এমনকি নিজের অসুস্থতাকেও পাশ কাটিয়ে যান—শুধু এই বিশ্বাসে যে তাঁর পরিবার ভালো থাকবে।

আমরা যখন ঈদের দিনে নতুন পোশাক পরে আনন্দ করি, তখন হয়তো আব্বা দূরে বসে আমাদের কথা ভাবেন। আমাদের হাসিই তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
আমরা আব্বাকে ছাড়া ঈদ করি, আর আব্বা আমাদের ছাড়া প্রবাসে ঈদ করেন। এই দূরত্বের মাঝেই লুকিয়ে রয়েছে অগণিত ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ আর নীরব ত্যাগের গল্প।

আব্বা, আপনি আমাদের থেকে দূরে আছেন, তবু প্রতিটি মুহূর্তে আপনার উপস্থিতি অনুভব করি। আমরা আপনাকে খুব মিস করি। জানি, আপনিও আমাদের মিস করেন। ঈদের এই আনন্দের মধ্যেও তাই একটি কথা মনে হয় বারবার—আপনাকে ছাড়া এই আনন্দ পূর্ণ নয়। ঈদ মোবারক, আব্বা।

সাধারণ সম্পাদক, সিরাজগঞ্জ বন্ধুসভা