তখন বুঝিনি, কিন্তু আজ উপলব্ধি করি

ছবি: এআই/বন্ধুসভা

ঈদের বন্ধে স্কুল ছুটিতে চলে যেতাম গ্রামের বাড়িতে। বাবা-মা, দাদি, চাচা-চাচিদের নিয়ে একসঙ্গে ঈদ করার মজাই আলাদা ছিল। কোরবানির ঠিক দুই দিন আগে বাবা-চাচাদের সঙ্গে গরুর হাটে যেতাম। সারা দিন হাটে ঘোরাঘুরির পর পছন্দের গরু কিনে একরাশ আনন্দ নিয়ে বাড়ি ফিরতাম। তারপর ঈদের আগের দিন পর্যন্ত গরুকে দেখাশোনা করা, তার নতুন নাম নিয়ে ভাইবোনেরা দুষ্টুমিতে মেতে উঠতাম।

অবশ্য কোরবানি আগের রাতে গরুটিকে নিয়ে অনেক কষ্ট হতো। সেই রাতে মা-চাচিরা চালের রুটি বানাতে ব্যস্ত থাকতেন। তারপর ভোরে ঘুম ভাঙত মসজিদের মাইকের শোনা তাকবিরের ধ্বনিতে। ঈদের নামাজ শেষে বাড়ি ফিরেই শুরু হতো কোরবানির প্রস্তুতি। ছোট্ট আমি দূর থেকে সব দেখতাম, ভেতরে–ভেতরে তখন ভয় আর কৌতূহলের মিশ্র অনুভূতি কাজ করত।

সবচেয়ে বেশি মনে পড়ে মাংস বণ্টনের দৃশ্যটি। বাবা খুব যত্ন করে গরিব প্রতিবেশী ও আত্মীয়স্বজনের জন্য আলাদা অংশ রাখতেন। তখন বুঝিনি, কিন্তু আজ উপলব্ধি করি—কোরবানির আসল শিক্ষা শুধু পশু জবাই নয়, বরং ত্যাগ, সহমর্মিতা ও ভাগাভাগির আনন্দ। তারপর মাটির চুলায় মায়ের হাতের রান্না করা গরুর মাংসের স্বাদ যেন মন ভুলিয়ে দিত। আজও ভুলিয়ে দেয়। বেশ সুন্দর একটি দিন ছিল। এখন অবশ্য সময় বদলেছে, শৈশবও হারিয়ে গেছে। তবু কোরবানির ঈদ এলেই মনে পড়ে যায় স্মৃতিঘেরা সেই শৈশব।

পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক, চট্টগ্রাম বন্ধুসভা