সুতা নয়, মানুষের চুল দিয়ে তৈরি হয় শিল্প

মানুষের চুল দিয়ে তৈরি নকশা এ শিল্পকে নিয়ে গেছে আরও ভিন্ন এক উচ্চতায়ছবি: সংগৃহীত

সুচ দিয়ে সুতা, পশম বা বিভিন্ন অলংকার, যেমন পুঁতি ও আয়না, কাপড়ে সেলাই করে সাধারণ কাপড়কে অনন্য শিল্পকর্মে রূপ দেওয়া হয়। তবে এই শিল্প শুধু সুতা দিয়েই সীমাবদ্ধ নয়; চীনের কিছু শিল্পী সুতার বদলে মানুষের চুল ব্যবহার করে সূক্ষ্ম প্রতিকৃতি ও নকশা তৈরি করেছেন। এ খবর জানিয়েছে সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট।

চীনের ঐতিহ্যবাহী রেশমশিল্প বিশ্বজুড়ে পরিচিত। তবে মানুষের চুল দিয়ে তৈরি নকশা এ শিল্পকে নিয়ে গেছে আরও ভিন্ন এক উচ্চতায়। প্রাচীন এ পদ্ধতিতে সাধারণ সুতার বদলে মানুষের আসল চুল ব্যবহার করে সূক্ষ্ম প্রতিকৃতি ও জটিল নকশা তৈরি করা হয়।

এ শিল্পের ইতিহাস ১ হাজার ৩০০ বছরের বেশি পুরোনো। চীনের জিয়াংসু প্রদেশের দোংতাইসহ বিভিন্ন এলাকায় তাং রাজবংশের সময় থেকে এই পদ্ধতির প্রচলন ছিল।
শুরুতে বৌদ্ধধর্মাবলম্বী নারীরা নিজেদের চুল ব্যবহার করে ধর্মীয় ও ভক্তিমূলক ছবি তৈরি করতেন। এটি ছিল তাঁদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও ভক্তি প্রকাশের একটি মাধ্যম।

মানুষের চুল সহজে বিবর্ণ বা নষ্ট হয় না। ফলে কয়েক শ বছর আগের তৈরি চুলের কারুকার্য এখনো সূক্ষ্ম নকশা ও খুঁটিনাটি অনেকটা স্পষ্ট রয়েছে। অন্যদিকে রেশমের সুতা দীর্ঘ সময় পর নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

চুলের নকশার সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো এর অসাধারণ সূক্ষ্মতা। মানুষের চুল এমনিতেই পাতলা। তবে দক্ষ শিল্পীরা একটি চুলকে লম্বালম্বিভাবে আরও সরু করে নিতে পারেন। এরপর সেই অতি সূক্ষ্ম চুল ব্যবহার করে ছবিতে আলোছায়া, ত্বকের সূক্ষ্ম রং এবং বাস্তবসম্মত বিভিন্ন খুঁটিনাটি ফুটিয়ে তোলা হয়।

বর্তমানে কিছু শিল্পী কালো, ধূসর, সাদা এবং মানুষের রং করা চুলের সঙ্গে সূক্ষ্ম রেশম বা সোনালি ধাতব সুতা ব্যবহার করেন। এতে ছবিতে আরও গভীরতা ও বাস্তবসম্মত রঙের বৈচিত্র্য আসে।

আরও পড়ুন

সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চুল অত্যন্ত সূক্ষ্ম হওয়ায় এ ধরনের নকশা হাতে করতে হয়। অন্যদিকে রেশমের নকশা মেশিনেও করা সম্ভব। চুলের নকশায় শিল্পীরা বিভিন্ন ধরনের সেলাইয়ের কৌশল ব্যবহার করেন। এর মধ্যে রয়েছে ডাঁটার মতো সেলাই, ঘূর্ণমান সেলাই এবং পেঁচিয়ে সেলাই করার পদ্ধতি।

একসময় এই শিল্পের জনপ্রিয়তা কমে গেলেও সাম্প্রতিক কয়েক দশকে আবার এর চর্চা বেড়েছে। ২০২১ সালে চীনের দোংতাইয়ের চুলের নকশাকে জাতীয় অবস্তুগত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

বর্তমানে একটি চুলের নকশা তৈরি করতে শিল্পীদের কয়েক মাস পর্যন্ত সময় লাগে। এভাবেই মানুষের চুলকে ব্যবহার করে তাঁরা ধরে রাখছেন শত শত বছরের পুরোনো এক শিল্পধারা, যা পরিণত হচ্ছে দীর্ঘস্থায়ী শিল্পকর্মে।