সকালে ঘুম ভাঙতেই দেখি, টেবিলে একটা ছোট গাঁদা ফুল রাখা। বাইরে থেকে আনা, হয়তো অফিসে যাওয়ার পথে কিনেছে।
আমার জীবনে ভালোবাসা খুব চুপচাপ করে এসেছিল, ওর হাত ধরে।
বিয়ের আগে ওকে যতটা চিনতাম, বিয়ের পর তার চেয়ে হাজার গুণ বেশি নতুন করে চিনেছি। ও খুব বেশি কথা বলে না, বড় বড় সারপ্রাইজও দেয় না। কিন্তু প্রতিদিনের ছোট ছোট কাজের ভেতর ওর ভালোবাসা লুকিয়ে থাকে।
পয়লা ফাল্গুনে সবাই যখন ফুল, শাড়ি আর ছবিতে ব্যস্ত, ও তখনো রোজকার মতোই। তবে সকালে ঘুম ভাঙতেই দেখি, টেবিলে একটা ছোট গাঁদা ফুল রাখা। বাইরে থেকে আনা, হয়তো অফিসে যাওয়ার পথে কিনেছে। কিছু না লিখেও যেন লিখে দিয়েছে, তোমাকে মনে আছে।
ভালোবাসা দিবসেও ওর আয়োজন খুব সাধারণ। দামি গিফট না, বরং রান্নাঘরে এসে বলে, ‘আজ তোমার কাজ না, আমি ডিম ভেজে দিচ্ছি।’
ডিমটা অর্ধেক পুড়ে যায়, লবণও কখনো বেশি হয়, তবু ওই প্লেটই আমার কাছে সবচেয়ে স্পেশাল।
একদিন রাতে হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গিয়েছিল। অন্ধকার ঘরে আমি একটু ভয় পেয়েছিলাম। ও চুপচাপ হাতটা ধরে বলল, ‘আমি তো আছি।’
এই দুটো শব্দেই যেন পুরো ঘর আলো হয়ে গেল।
ও কখনো সিনেমার নায়কের মতো নয়, কিন্তু আমার প্রতিদিনের নায়ক। আমার ক্লান্ত মুখ দেখে চুপচাপ পানি এগিয়ে দেওয়া মানুষটা, অসুখ হলে রাত জেগে থাকা মানুষটা, আমার রাগ চুপচাপ সহ্য করা মানুষটা—এই মানুষই আমার সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা।
ভালোবাসা যে সব সময় শব্দে নয়, পাশে থাকায়, ও আমাকে প্রতিদিন সেটা বুঝিয়ে দেয়।
ফাল্গুনের ফুল শুকিয়ে যাবে, ক্যালেন্ডারের তারিখ বদলাবে,
কিন্তু আমি জানি, আমার হাতটা ওর হাতেই ধরা থাকবে।