নতুন কাপড়ের গন্ধে ফিরে আসে মা
মাকে হারানোর বেদনা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। বিশেষ করে সেই হারানো যদি আসে শৈশবের কোমল সময়ে। যখন জীবনকে বোঝার ক্ষমতা পরিপূর্ণ হয়ে ওঠেনি।
তখন সপ্তম শ্রেণির ছাত্র। পৃথিবী, সম্পর্ক, বিচ্ছেদ—এসবের গভীরতা বুঝে ওঠার আগেই মা আমাদের ছেড়ে চলে যান। সেই থেকে জীবনে যেন এক অন্য রকম শূন্যতা নেমে আসে।
ছোটবেলায় নতুন কাপড়ের প্রতি ছিল অদ্ভুত এক আকর্ষণ। নতুন কাপড় পেলেই সঙ্গে সঙ্গে পরে ফেলতে ইচ্ছা করত। কিন্তু মা—যাঁকে স্নেহভরে ‘মায়া’ বলে ডাকতাম, তিনি সেগুলো যত্ন করে গুছিয়ে রাখতেন। ঈদ, পারিবারিক অনুষ্ঠান কিংবা কোথাও বেড়াতে যাওয়ার দিন আলমারি খুলে সেই নতুন পোশাক বের করে দিতেন। তাঁর হাতে গুছিয়ে রাখা সেই কাপড় যেন শুধু পোশাক ছিল না, ছিল ভালোবাসার এক উজ্জ্বল স্পর্শ।
নিজেকে গুছিয়ে নিতে শেখার আগেই মায়া চলে গেলেন। তার পর থেকে জীবন যেন এলোমেলো এক পথচলা। ২০০৮ সাল থেকে মাকে ছাড়া প্রতিটি দিন কাটছে স্মৃতি আর শূন্যতার সঙ্গে। আজও নতুন কাপড় কিনলে কিংবা নতুন কাপড়ের গন্ধ পেলেই মায়ের কথা মনে পড়ে। মনে হয়, তিনি যেন এখনো সেগুলো আগের মতো যত্ন করে ভাঁজ করে রাখছেন।
মাকে হারানোর এই বেদনা প্রতিনিয়ত কষ্ট দেয়। এই কষ্ট যেন নীরবে হৃদয়ের গভীরে স্থায়ী হয়ে থাকে। লোকচক্ষুর আড়ালে কতবার যে চোখ ভিজে ওঠে, তার হিসাব নেই। নীরব মুহূর্তে মায়ের স্মৃতি ফিরে আসে, আর অজান্তেই চোখে জল চলে আসে। আশ্চর্যের বিষয়, সেই কান্নাতেও একধরনের শান্তি আছে। মনে হয়, এই কান্নাই যেন মায়ের সান্নিধ্য পাওয়ার একটি উপায়।
আজকাল মা দিবসে অনেকেই মাকে নিয়ে লেখেন, স্মৃতিচারণা করেন। কিন্তু আমি পারি না। কারণ, মাকে নিয়ে লিখতে বসলে হৃদয়ের গভীরের ব্যথা আরও তীব্র হয়ে ওঠে। আসলে মায়ের জন্য আলাদা কোনো দিন হয় না। মা আছেন প্রতিটি দিনের অনুভবে, প্রতিটি স্মৃতির ভাঁজে, প্রতিটি নিশ্বাসে। মা মানেই অনন্ত ভালোবাসা, চিরন্তন আশ্রয়।
উপদেষ্টা, ময়মনসিংহ বন্ধুসভা