গত ২৫, ২৬ ও ২৭ ডিসেম্বরের ষষ্ঠ জাতীয় বন্ধু সমাবেশ আমার জন্য হয়ে উঠেছিল তিন দিনের এক পরম নির্ভরতার ঘর, যেখানে ক্লান্তি ও ব্যস্ততা ভুলে সবাই মিশেছিলাম এক অভিন্ন পরিচয়ে—আমরা বন্ধু।
সমাবেশটি জীবনের পাতায় এক বিশাল জায়গা দখল করে নিয়েছে। বিভিন্ন জেলার বন্ধুদের সঙ্গে পরিচয়ের পাশাপাশি নিজ জেলা জামালপুর বন্ধুসভার বন্ধুদের আরও নিবিড়ভাবে জানার সুযোগ হয়েছে। ট্রেনযাত্রার সেই খুনসুটি ও আড্ডায় কখন যে গাজীপুর পৌঁছে গেলাম, টেরই পাইনি।
সমাবেশস্থলে যাওয়ার সেই রোমাঞ্চকর প্রস্তুতি থেকে শুরু করে প্রতিটি মুহূর্তই ছিল স্মরণীয়।
সমাবেশের মঞ্চ আলোকিত হয়েছিল বন্ধুদের বহুমুখী প্রতিভা ও দেশবরেণ্য তারকাদের উপস্থিতিতে। যাঁদের সঙ্গে এত দিন শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যোগাযোগ ছিল, তাঁদের সামনাসামনি দেখা আর কথা বলার অনুভূতি ছিল একেবারেই অন্য রকম। বিশেষ করে অ্যালামনাই বন্ধুদের সান্নিধ্য আমাদের আগামী দিনে পথচলার অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। সবার সঙ্গে সারিবদ্ধভাবে বসে খাওয়ার সেই আনন্দ যেন খাবারের স্বাদকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
আমার জন্য এই সমাবেশের সবচেয়ে সেরা মুহূর্ত ছিল রাতের ক্যাম্প ফায়ার। খোলা আকাশের নিচে যখন তারার মেলা বসেছিল, সেই মায়াবী আলোয় উদ্যাপিত হয় আমার জন্মদিন। সারা দেশ থেকে আসা কয়েক হাজার বন্ধুর ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে মনে হচ্ছিল, পুরো বাংলাদেশ যেন আজ আমার জন্মদিন উদ্যাপন করছে। নতুন বয়স আর নতুন অভিজ্ঞতার এমন মেলবন্ধন সচরাচর ঘটে না। জীবনের সব অপূর্ণতা ভুলে যেন হারিয়ে গিয়েছিলাম এক সোনালি সময়ে।
বন্ধুসভার এই সমাবেশ শুধু আড্ডা নয়; বরং তারুণ্যের শক্তির এক বহিঃপ্রকাশ। এটি আমাদের মনে করিয়ে দিয়েছে—আমরা যে প্রান্তেরই হই না কেন, আমাদের লক্ষ্য এক। আমরা কেবল নিজের জন্য নই, সমাজের প্রতিও সমানভাবে দায়বদ্ধ।
বিদায়ের ক্ষণটি ছিল বেশ বেদনার। প্রিয় মানুষদের ছেড়ে আসাটা ছিল কঠিন। শেষ দিনের সকালে সবার সঙ্গে ফ্রেমবন্দী হওয়া রঙিন ছবিগুলো সেই বিষণ্নতাকে স্মৃতিতে রূপ দিয়েছে। কত কত মধুর অভিজ্ঞতা নিয়ে আমরা গাজীপুর ত্যাগ করেছি! সমাবেশের সেই বন্ধুত্বের সুঘ্রাণ আজও আমার মন ও পোশাকে লেগে আছে। বিশ্বাস করি, পরবর্তী সমাবেশের আগপর্যন্ত এই ঘ্রাণ অমলিন থাকবে।
পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক, জামালপুর বন্ধুসভা