মায়ের হাসি সব সময় চওড়া থাকুক

ছবি: লেখকের সৌজন্যে

সন্তানের কাছে এই পৃথিবীতে মায়ের হাসির চেয়ে দামি বোধ করি আর কিছুই নেই। আমার গর্ভধারিণী মা এই হাসির ক্ষেত্রে অনেকটাই নিরাসক্ত। তিনি কোনো আনন্দের সংবাদে খুশি হলেও সেটি চেপে রাখেন অদ্ভুত উপায়ে। তবে বিষাদে বা কষ্টে থাকলে ওনার মুখাবয়বের আভা দেখেই আমরা দুই সহোদর ও পুত্রবধূরা বুঝতে পারি কিছু একটা ঘটেছে—সেটি বাবার সঙ্গে কিংবা আমাদের সঙ্গে।

মায়ের এই অন্তর্মুখী হাসির জন্য ছবিবন্দী করতে গেলেই ছবিখানা ঠিক মনমতো হয় না আমাদের কারোরই। ওনাকে কেন্দ্র করে আমাদের সংসারচক্র ঘোরে। আমরা সবাই সবাইকে বার্তামাধ্যমে অন্তরালে জিজ্ঞেস করি, মা হাসিখুশি হয়ে কথা বলেছে? অর্থাৎ ওনার নিষ্কলুষ নির্লিপ্ত মায়াময় চোরা হাসি না থাকলেই আমরা বেজায় চিন্তায় পড়ে যাই।

গুনে গুনে বলতে পারি মা শেষ কবে প্রাণখুলে হেসেছেন। আমার ক্ষেত্রে দেখেছি, প্রাণখুলে হেসেছিলেন ২০০৬ সালে, পঞ্চম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষায় সাফল্য লাভ; ২০১৩ সালের দিকে, সেবার বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তিপরীক্ষার অর্জনে মায়ের চেয়ে বেশি খুশি কেউ হননি। এমনকি আমার এইচএসসিতে জিপিএ–৫ প্রাপ্তিতেও মায়ের মুখের হাসি মুচকিই ছিল, চওড়া হয়নি এই ভর্তি–চিন্তার প্রদাহে পড়ে। এরপর প্রাণখুলে হেসেছেন আমার বড় সহোদরের চাকরিপ্রাপ্তিতে, ২০১৬–তে নিয়োগ ও ২০১৭ সালে স্থায়ীকরণে। পরে নানা মাঙ্গলিক অনুষ্ঠানে ও আনন্দময় মুহূর্তে হাসলেও সেই হাসি ওই অনুষ্ঠান অবধি সীমাবদ্ধ ছিল।

২০২৫ সালের পর মায়ের নতুন ছোট্ট বন্ধু ওনার নাতির (বড় ভাইয়ের সন্তান) আগমনে মায়ের সেই প্রাণোচ্ছল হাসি অনেকবারই দেখার সুযোগ হচ্ছে। মায়ের উচ্ছলতা ও সতেজ হাসি আমাদের কাজের স্পৃহা, স্বপ্নের দিকে ছুটে চলার পথটাকে আরও মসৃণ করে তোলে। পরবাসে থাকার সবচেয়ে বড় কষ্ট হলো, মায়ের হাসি-কান্না সামনে থেকে দেখার আর সুযোগ থাকে না। সেই মুহূর্তগুলো মুঠোফোনের ডিজিটাল স্ক্রিনের অল্প সময়েই সীমাবদ্ধ। আমার মায়ের হাসি সব সময় চওড়া থাকুক।

পিএইচডি গবেষক, চার্লস ডারউইন ইউনিভার্সিটি, অস্ট্রেলিয়া