কেন লিখব, কেন লিখব না

প্রথম আলো বন্ধুসভার ‘লেখক বন্ধু উৎসব ২০২৬’–এ তরুণ লেখকদের উদ্দেশে লেখকজীবনের সংগ্রাম বিষয়ে আলোচনা করেছেন কবি ও কথাসাহিত্যিক আনিসুল হক। এই লেখা তাঁর বক্তব্যের প্রতিলিপি।

কবি ও কথাসাহিত্যিক আনিসুল হকছবি: মীর হোসেন

শিল্পী হওয়া মানেই ব্যর্থ হওয়া। আর ব্যর্থ হলেই শিল্পী হবেন। সফল মানুষেরা কখনো ভালো শিল্পী হতে পারে না।

এ কথা ছবি আঁকার ক্ষেত্রেও সত্য। চিত্রশিল্পী কামরুল হাসান যখন বেঁচে ছিলেন, তখন ব্যর্থ ছিলেন। মৃত্যুর পর উনি সফল হয়েছেন। ওনার চিত্রকর্ম বিখ্যাত হয়েছে।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মতো বেশি গালি খাওয়া, সমালোচিত হওয়া লেখক–কবি বাংলা সাহিত্যে আর নেই। জীবনানন্দ দাশকে অনেক সমালোচনা সহ্য করতে হয়েছে। কাজী নজরুল ইসলামকে সমালোচিত হতে হয়েছে।

লেখালেখি একটা নিঃসঙ্গ কাজ, ব্যর্থ কাজ। ব্যর্থ হলেই সফল হবেন। মনে রাখবেন, লেখালেখি করে কখনো প্রশংসিত হবেন না। সবাই সমালোচনা করবে।
‘পদ্মা নদীর মাঝি’ উপন্যাসকে বলা হয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম সেরা রচনা। অথচ বইটির লেখক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রায় বিনা চিকিৎসায় এবং না খেয়ে মারা যেতে হয়েছিল।
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বলে গেছেন, খ্যাতির জন্য লিখবেন না। টাকার জন্য লিখবেন না।
জিয়া হায়দার রহমান বলেছিলেন, লিখে টাকা পাওয়া যায় না।

তাহলে লিখে কী হবে? কিছুই হবে না। অখ্যাতি জুটবে। নিন্দা করার লোক বেশি থাকবে। টাকার জন্য কেউ লিখবেন না। এটা অন্ধ মোহ। তাহলে কেন লিখব? বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বলেছেন, ‘বলিয়া লিখিয়া যদি দেশের মানুষের উপকার করিতে পারো, সৌন্দর্য সৃষ্টি করিতে পারো, তাহলে লেখো।’

১৯৫৪ সালে জীবনানন্দ দাশ মারা গেছেন। এই যে এত বছর পরও ওনাকে আমরা মনে করি, এটা মোহ। এ জন্যই আমরা লিখি। আমি থাকব না। কিন্তু আমার লেখাটা থেকে যাবে। এ জন্য মানুষ লেখে।

যে ব্যক্তি কবিতা পড়ে, সিনেমা দেখে, শিল্প–সংস্কৃতির চর্চা করে, তাঁর পক্ষে কখনো কারও মাথায় বোমা ফেলা সম্ভব নয়। তাই আমাদের এগুলোর চর্চা করতে হবে। প্রচুর লিখতে হবে, পড়তে হবে। বাংলা সাহিত্য, ইংরেজি সাহিত্য, অনুবাদ, ক্ল্যাসিক সাহিত্য পড়তে হবে।

ছন্দ গুনে গুনে কেউ কবিতা লেখে না। প্রচুর কবিতা পড়তে হবে, মুখস্থ করতে হবে। আপনি যদি ১০০টি ভালো কবিতা মুখস্থ করতে পারেন, আপনি ভালো কবি হয়ে যাবেন।