অন্য জেনারেশন থেকে জেন-জিরা কীভাবে ব্যতিক্রম

জেন-জি প্রজন্মই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। বিভিন্ন ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিয়ে তারাই বাংলাদেশকে এগিয়ে নেবে।

জেন-জি বা জেনারেশন জুমার। একুশ শতাব্দীর সবচেয়ে আলোচিত নাম হচ্ছে এই জেন-জি বা জেন-জেড। জেন-জিকে বলা হয় সত্যিকারের ডিজিটাল নেটিভ। সাদাকালো পর্দায় শৈশব কাটিয়ে আসা জেন-জিরা এখন স্মার্টফোন পকেটে নিয়েই পুরো পৃথিবীকে হাতের মুঠোয় ধরে রেখেছে। বলা হয়, ১৯৯৭-২০১২ সালের ভেতরে যাদের জন্ম, তারাই জেন-জি বা জেনারেশন জুমার। এই জেনারেশনের তরুণ-তরুণীদের সর্বোচ্চ বয়স ২৮ বছর আর সর্বনিম্ন বয়স ১৩ বছর। এই আধুনিক পৃথিবীতে প্রযুক্তিনির্ভর জেন-জিরা অন্যান্য জেনারেশন থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। তারা যেমন সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় দিক থেকে বেশ সচেতন, তেমনি প্রতিবাদী এবং অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংস্কারের ব্যাপারের দাবি নিয়েও সরব থাকে।

জেন-জিদের উত্থান
সামাজিক প্রভাব: জেন-জিরা ইন্টারনেট ও সোশ্যাল মিডিয়া মাধ্যমে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করছে। এই প্রজন্ম লিঙ্গ–সমতার অধিকারের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান নেয়। তারা বর্ণবাদ ও সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকে।

অর্থনৈতিক প্রভাব: যুগ যুগ ধরে বাজারগুলোতে অস্থিরতা, মুদ্রাস্ফীতি এবং প্রাকৃতিক সম্পদে ঘাটতির মতো নিয়ন্ত্রণহীনতার সাক্ষী হয়েছে জেন-জি প্রজন্ম। তা ছাড়া ২১ শতকের শুরু থেকে মুদ্রাস্ফীতি হারের উত্থান-পতন সতর্ক করে তুলেছে তাদের। এদের মধ্যে আশাবাদী জনগোষ্ঠীরা জীবনের কৃতিত্ব হিসেবে আর্থিক স্বাধীনতাকে প্রাধান্য দেয়। অর্থনৈতিক দুর্দশা, দুর্নীতি এবং সরকারের বিরুদ্ধে তরুণ-তরুণীদের প্রবল ক্ষোভ। তারা সর্বদাই সোশ্যাল মিডিয়া এবং বাস্তব জীবনে সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এ বিষয়ের প্রতি সচেতনতা ছড়িয়ে আসছে।

রাজনৈতিক প্রভাব: এই প্রজন্ম রাষ্ট্রের বিভিন্ন অনৈতিক দিক, যেমন দুর্নীতি, বৈষম্য, অব্যবস্থাপনা, বেকারত্ব, সরকারের স্বেচ্ছাচারিতা, স্বজনপ্রীতি ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণের বিরুদ্ধে রাজপথে আন্দোলনে নেমেছে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সরকার পতনের ঘটনার মূল নেতৃত্বেই ছিল জেন-জিরা।

শিক্ষা ও সৃজনশীলতা: জেন-জি প্রজন্ম ডিজিটাল প্রযুক্তিতে পারদর্শী। তাই তারা ডিজিটাল টুলস এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে শিক্ষাকে আকর্ষণীয় করছে। প্রথাগত শিক্ষার পাশাপাশি তাদের দক্ষতাভিত্তিক ও পেশাগত শিক্ষার দিকে উৎসাহিত করছে। যোগাযোগ দক্ষতা, সমস্যা সমাধান ও সৃজনশীলতার মতো সফট স্কিল অর্জনেও তারা এগিয়ে যাচ্ছে। শিক্ষাক্ষেত্রে এই আমূল পরিবর্তনে নতুন প্রজন্মের উত্থান হচ্ছে। তাদের ধ্যান–ধারণায় সৃজনশীল চিন্তাভাবনার কারণে নানা উদ্ভাবনী কাজ দেশ এবং বিশ্বে সমাদৃত হচ্ছে।

প্রযুক্তির বিকাশ: ফাইভ-জির মতো ইন্টারনেট, স্মার্টফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম জেন-জির জীবনকে ডিজিটাল করে তুলেছে। অনলাইন শিক্ষা, ইউটিউব, গুগল, ফেসবুক, টুইটার, লিংকডইন, ইনস্টাগ্রাম ও আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের (এআই) মাধ্যমে তারা অল্প বয়সেই বিশাল জ্ঞানের জগতে প্রবেশ করছে।

উদ্ভাবন ও সৃষ্টিশীলতা: জেন-জি প্রজন্ম শুধু প্রযুক্তি ব্যবহার করে না, বরং তারা নতুন নতুন প্রযুক্তি এবং ধারণা তৈরিতেও অংশগ্রহণ করছে। প্রযুক্তিগত উন্নতির কল্যাণে বিনিয়োগ নতুন মাত্রা পেয়েছে। জেন-জিরা প্রচলিত চাকরির ওপর নির্ভরশীল না থেকে নিজেরাই কর্মসংস্থান তৈরি করছে। এতে নিজের এবং দেশেরও উন্নতি হচ্ছে।

আত্মবিশ্বাস ও মানসিক স্বাস্থ্যসচেতনতা: জেন-জিরা প্রবল আত্মবিশ্বাসী ও সাহসী। তাদের এই আত্মবিশ্বাসী হিসেবে গড়ে ওঠার পেছনের কারণ—বিনিয়োগ, ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ও ঝুঁকি নিতে ভয় না পাওয়া। এই প্রজন্ম আগের তুলনায় অল্প বয়সেই মূলধন পাচ্ছে। তারা তরুণ বয়সেই সাহসী ও উদ্ভাবনী বিনিয়োগ কৌশল গ্রহণ করতে পারছে এবং ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এগিয়ে যেতে পারছে।

অন্যদিকে জেন-জি প্রজন্মের প্রত্যেকে মানসিকভাবে ভীষণ সচেতন। উদ্বেগজনিত ব্যাধি, বিষণ্নতা, বাইপোলার ডিজঅর্ডারের মতো সমস্যাগুলো নিয়ে এতটা খোলামেলা আলোচনায় আগে কখনো দেখা যায়নি। পূর্ববর্তী প্রজন্মগুলোর মধ্যে এসব ব্যাপারে একরকম হীনম্মন্যতা ও ভয় কাজ করত।

বন্ধু, কক্সবাজার বন্ধুসভা