পোস্টারহীন নির্বাচন: সময়োপযোগী এক পরিবর্তন
বর্তমান সময়ে প্রযুক্তিনির্ভর সমাজব্যবস্থায় পরিবর্তনের ছোঁয়া লেগেছে নির্বাচনব্যবস্থায়ও। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন তারই একটি বাস্তব উদাহরণ। এই নির্বাচনে আর দেখা যাচ্ছে না প্রার্থীদের পোস্টার, ব্যানার কিংবা মাইকিংয়ের প্রচারণা; বরং সময়ের দাবি ও বাস্তবতার আলোকে পুরো প্রচার কার্যক্রম কেন্দ্রীভূত হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও লিফলেটে।
অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও পরিবেশগত সংকটের কথা বিবেচনায় নিলে এ উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। পোস্টার ও ব্যানারের কারণে সৃষ্ট বর্জ্য, পরিবেশদূষণ ও বর্জ্য কমছে; অন্যদিকে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় হ্রাস পাচ্ছে ও শব্দদূষণ দীর্ঘদিন ধরেই নাগরিক জীবনের জন্য এক বড় সমস্যায় পরিণত হয়েছিল। পোস্টারহীন প্রচারণা সেই সমস্যার একটি কার্যকর সমাধান হিসেবে সামনে এসেছে।
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রচারের ফলে প্রার্থীরা এখন সরাসরি ভোটারদের সঙ্গে যুক্ত হতে পারছেন। ভিডিও বার্তা, লিখিত বক্তব্য ও সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে তাঁদের পরিকল্পনা, চিন্তাভাবনা ও আদর্শ সহজেই মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। এতে প্রচার যেমন স্বচ্ছ হচ্ছে তেমনি ভোটাররাও পাচ্ছেন তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ।
এই পরিবর্তন গণতন্ত্রের জন্য একটি ইতিবাচক অগ্রগতি। এতে অর্থের প্রভাব কমে আসছে এবং সমান সুযোগের ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে তরুণ প্রজন্মের সক্রিয় অংশগ্রহণও বাড়ছে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায়। সব মিলিয়ে বর্তমান প্রেক্ষাপটে পোস্টারহীন নির্বাচন শুধু একটি কৌশলগত পরিবর্তন নয়, বরং একটি দায়িত্বশীল ও আধুনিক গণতান্ত্রিক চর্চার দৃষ্টান্ত। ভবিষ্যতের নির্বাচনব্যবস্থায় ধারা আরও বিস্তৃত হবে—এমন প্রত্যাশাই করছেন সচেতন নাগরিকেরা।
যেমনটা বলছিলেন গাজীপুরের পরিবেশ স্বেচ্ছাসেবক নাছির উদ্দীন (২৮)। তিনি বলেন, ‘পরিবেশ রক্ষা আমাদের সবার দায়িত্ব। উন্নয়ন চাই, কিন্তু তা হতে হবে প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে। নির্মল বাতাস, নিরাপদ পানি আর সবুজ পৃথিবী—এগুলো রক্ষা করতে হলে আমাদের সচেতন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। পরিবেশবান্ধব চিন্তাধারার নেতৃত্বই পারে একটি টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে। একটি গাছ লাগানো যেমন দায়িত্ব, তেমনি পরিবেশ রক্ষায় সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়াও দায়িত্ব। আমরা চাই এমন নেতৃত্ব, যারা উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখবে।’
তরুণ সমাজই দেশের চালিকা শক্তি। আজ আমরা যাঁকে ভোট দেব, আগামী দিনে তাঁর সিদ্ধান্তই আমাদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান, ন্যায়বিচার ও উন্নয়নের পথ নির্ধারণ করবে। তাই প্রথম ভোট দিতে হবে জেনে-বুঝে, যাচাই করে, দায়িত্বশীলভাবে।
আমাদের মনে রাখতে হবে, ভোট দেওয়া মানে কারও পক্ষে নয়, বরং দেশের পক্ষে দাঁড়ানো। গুজব, প্রলোভন কিংবা আবেগে নয়, সত্য নীতি ও আদর্শের ভিত্তিতে আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। প্রথম ভোট হোক সাহসী, সচেতন ও সৎ সিদ্ধান্তের প্রতীক।
এবার অনেক তরুণ জীবনে প্রথমবার ভোট দেবেন। তাঁদের চাওয়ায়ও রয়েছে ভিন্নতা। গাজীপুরের পূর্ব চান্দনার বাসিন্দা তানিয়া আক্তার (১৯) বলেন, ‘প্রথমবার সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে যাচ্ছি। এটা আমার জন্য গর্বের। আমি চাই এমন নেতৃত্ব, যারা তরুণদের কর্মসংস্থান, নারীর নিরাপত্তা ও শিক্ষার মান উন্নয়নে কাজ করবে। আমার একটি ভোটই যেন দেশের ভালো পরিবর্তনের অংশ হয়, এই প্রত্যাশা রাখি।’
সাধারণ সম্পাদক, গাজীপুর বন্ধুসভা