যেভাবে বন্ধুসভার বন্ধুরা আমাকে আপন করে নিলেন
শৈশব থেকে জীবনে অনেক বন্ধু এসেছে। স্কুলজীবনে, কলেজজীবনেও এসেছে একাধিক বন্ধু। কিন্তু দিন শেষে তাদের পারিবারিক চাপ, উচ্চশিক্ষার প্রভাব আর ক্যারিয়ার গঠনের দিকে ঝুঁকে পড়ার কারণে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। যোগাযোগ, বার্তা আদান-প্রদান আর দেখা-সাক্ষাৎ না হলে বন্ধুত্ব টিকে থাকে না। বন্ধুত্ব না থাকার আরেকটি কারণ হচ্ছে—কথাবার্তায়, হাসিঠাট্টার ছলে অপমানজনক আচরণ করা, বিপদে–আপদে কাছে না পাওয়া, সৌজন্যবোধ ও শ্রদ্ধাশীল আচরণ না করা ইত্যাদি। বন্ধুত্বের মধ্যে এসব না থাকলে দূরত্বের দেয়াল সৃষ্টি হয়। আস্তে আস্তে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। দিন শেষে বন্ধুত্ব ভেঙে যায়।
সব বন্ধুত্ব ভেঙে যাওয়ার পরে জীবনে এসেছে এক নতুন নাম—বন্ধুসভা। শৈশব থেকেই প্রথম আলোর নিয়মিত পাঠক হওয়ার সুবাদে বন্ধুসভা আমার কাছে অতি আপন নাম হয়ে ওঠে। ওয়েবসাইটে লেখা প্রকাশ করা আমাকে বন্ধুসভার প্রতি আরও আগ্রহী করে তোলে। তারপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সাহায্যে খুঁজতে থাকি কক্সবাজার বন্ধুসভার বন্ধুদের।
বন্ধুদের মধ্যে সেদিন আমি এই এগিয়ে আসা, ভালোবাসা দেখে আপ্লুত হয়েছি। দেখেছি, বন্ধুদের মধ্যে একতা, সমতা ও ইতিবাচক প্রভাব রয়েছে।
বহু চেষ্টার পর খুঁজে পেলাম কক্সবাজার বন্ধুসভার সহসভাপতি নুরুল আবছার ভাইকে। বন্ধুসভায় যুক্ত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করি। এরপর যোগাযোগ হয় প্রথম আলো কক্সবাজার ব্যুরো প্রধান ও বন্ধুসভার উপদেষ্টা আব্দুল কুদ্দুস রানা ভাইয়ের সঙ্গে। কথা বলি সাধারণ সম্পাদক উলফাতুল মোস্তফা ভাইয়ের সঙ্গেও। তাঁরা আমাকে বন্ধুসভার একজন সদস্য হিসেবে গ্রহণ করেছেন।
বন্ধুসভায় যুক্ত হওয়ার পরে সবার কাছ থেকে বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা, সৌজন্যবোধ ও নীতিগত আচরণ লক্ষ করি; যা আমার কাছে বেশ ভালো লাগার, আনন্দের। বন্ধুসভার বন্ধুরা পরিবেশ, দেশ ও মানুষের কল্যাণে যেসব কাজের উদ্যোগ গ্রহণ করেন, তা মুগ্ধ হওয়ার মতো। অতি প্রশংসনীয়। এ ছাড়া বন্ধুরা একে অপরের সঙ্গে যেভাবে ভ্রাতৃপ্রতিম আচরণ করেন, তা যেকোনো মানুষকে আকৃষ্ট করবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুধু কক্সবাজার বন্ধুসভার বন্ধুদের সঙ্গে বন্ধুত্ব হয়নি, হয়েছে দেশের আরও বিভিন্ন স্থানের বন্ধুদের সঙ্গে বার্তা আদান-প্রদান। গড়ে উঠেছে সখ্য।
বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছে দিনাজপুর বন্ধুসভার সাজেদুর রহমান, ভৈরব বন্ধুসভার নাহিদ ভাই, প্রিয়াংকা আপুসহ ঢাকা মহানগর বন্ধুসভার তাসনিম খান, সিয়াম আহমেদ ও তানভীর হাসান ভাইদের সঙ্গে।
গত বছর প্রথম আলো বন্ধুসভার লেখক বন্ধু উৎসব ২০২৫-এ অংশগ্রহণ করার উদ্দেশ্যে আগের রাতে কক্সবাজার থেকে রওনা হয়ে প্রথম আলোতে সকালে পৌঁছালে দুপুরের দিকে অস্বাভাবিকভাবে অসুস্থ বোধ করি। সেই সময়ে আমার দুরবস্থা দেখে মহানগর বন্ধুসভার তখনকার সভাপতি মাহমুদা বুশরা আপু এগিয়ে এলেন। দেখতে পেয়েছি, আমার জন্য ওনার কত অস্থিরতা, কত স্নেহ-মমতা! আরও এগিয়ে এলেন জাতীয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি জাফর সাদিক ভাই।
ওনাদের স্নেহ, সাহস ও অনুপ্রেরণা আমাকে সুস্থ করে তোলে। সেদিন খোঁজ নিয়েছিলেন শাকিব হাসান, তাহসিন আহমেদ ও তৌহিদ ইমাম ভাইয়েরা। ওনাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানালেও তা মূল্যহীন হবে। বন্ধুদের মধ্যে সেদিন আমি এই এগিয়ে আসা, ভালোবাসা দেখে আপ্লুত হয়েছি। দেখেছি, বন্ধুদের মধ্যে একতা, সমতা ও ইতিবাচক প্রভাব রয়েছে। এসব দিক আমাকে বন্ধুসভার বন্ধুদের সেরা বন্ধু হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য অনুপ্রাণিত করেছে। নির্দ্বিধায় বলতে পারি, আমাদের বন্ধুসভার বন্ধুরাই সবচেয়ে আপন।
বন্ধু, কক্সবাজার বন্ধুসভা