২২ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার। মানিকগঞ্জের চর বেউথা এলাকায় কালীগঙ্গা নদীর পাড়ে জড়ো হয়েছিলেন শত শত মানুষ। মাঘের কোমল হাওয়ায় নবান্নের চিরায়ত উৎসবের আবহে মেতেছিলেন সবাই।
‘দ্য গার্ডেন টি হাব' নামের আমবাগানে এদিন অনুষ্ঠিত হয় ‘পার্বণ নবান্ন উৎসব, বঙ্গাব্দ ১৪৩২'। দিনভর পিঠাপুলি, গ্রামীণ মেলা, মজার খেলাধুলা আর গানে গানে দারুণ সময় কাটান স্থানীয় দর্শকেরা। দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান ইস্পাহানি গ্রুপের অন্যতম প্রধান ব্র্যান্ড পার্বণের উদ্যোগে এ আয়োজন করেছে প্রথম আলো ডটকম। তৃতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত হলো এই উৎসব।
অনুষ্ঠানের দুই দিন আগে থেকেই বিভিন্ন দায়িত্ব ছিল বন্ধুসভার বন্ধুদের। কাজের পাশাপাশি গভীর রাত পর্যন্ত আড্ডা-অন্য রকম স্মৃতিময় সময় কাটান তাঁরা। সকাল আটটা থেকেই স্বেচ্ছাসেবকেরা উপস্থিত হচ্ছিলেন অনুষ্ঠানস্থলে। মানিকগঞ্জ বন্ধুসভা, স্থানীয় তরুণ-তরুণী ও রেড ক্রিসেন্টের সদস্য মিলিয়ে প্রায় ৫৫ জন দায়িত্ব পালন করেন। উৎসব উপভোগের যৌথ আনন্দে মুহূর্তগুলো কেটে যাচ্ছিল দ্রুত।
গ্রামীণ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির আলোকে সাজানো হয়েছিল মঞ্চ। সকালে উৎসবের উদ্বোধন করেন মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) ফারজানা প্রিয়াঙ্কা। দিনব্যাপী এ আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন প্রথম আলোর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আনিসুল হক, চিফ ডিজিটাল বিজনেস অফিসার জাবেদ সুলতান, ইস্পাহানি গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক ওমর হান্নান, উপমহাব্যবস্থাপক এইচ এম ফজলে রাব্বি, জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পী ফজলুর রহমান বাবু, গীতিকার কবির বকুল, মানিকগঞ্জ পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার আবু মো. নাহিদ প্রমুখ।
লোকসংগীত পরিবেশন করেন বরেণ্য শিল্পী সাইদুর রহমান বয়াতি এবং আবুল বাসার আব্বাসী ও তাঁদের দল। সাংস্কৃতিক পর্বে অংশ নেন ফজলুর রহমান বাবু, ব্যান্ড দল ‘প্রখর' এবং কণ্ঠশিল্পী জিনিয়া জাফরিন লুইপা। চিত্রনায়িকা প্রার্থনা ফারদিন দীঘি, স্ট্যান্ডআপ কমেডিয়ান শাওন মজুমদার এবং ফুড ভুগার নুসরাত ইসলামের পরিবেশনা উপস্থিত হাজারো মানুষ উপভোগ করেন।
বন্ধুসভার বন্ধুদের সহযোগিতায় সারা দিন অনুষ্ঠিত হয় বিস্কুট দৌড়, বস্তা দৌড়, বল লাথি মেরে গোল দেওয়া, সুইয়ে সুতা লাগানো, পাতিল ভাঙা, রিং ফেলাসহ বিভিন্ন খেলাধুলা। উৎসবে আসা শিশু-কিশোর, নারী ও পুরুষেরা আলাদাভাবে অংশ নেন এসব খেলায়। এ ছাড়া সারা দিন ‘বায়োস্কোপ' মাতিয়ে রেখেছিল শিশুদের।
মাঠের এক পাশে ছিল গ্রামীণ মিষ্টান্ন, মৃৎশিল্প, বাঁশ-বেতের সামগ্রীর বিভিন্ন স্টল। উপস্থাপন করা হয় হরেক রকমের ধান, সবজি ও ঔষধি গাছের নমুনা। এ ছাড়া ইস্পাহানি চায়ের স্টল থেকে সারা দিনই দর্শকেরা চুমুক দিতে পেরেছেন গরম-গরম চায়ের কাপে। পার্বণের স্টলে ছিল ব্র্যান্ডটির বিখ্যাত চালের সমাহার। দিনভর উৎসবে আসা দর্শকেরা স্বাদ নিয়েছেন পার্বণ চালে তৈরি পিঠা-পায়েসের। দুপুরে অতিথি ও দর্শকদের জন্য ছিল পার্বণ চাল দিয়ে রান্না করা খিচুড়ি।
উৎসবে এসেছিলেন চর বেউথা গ্রামের কিষানি আকলিমা বেগম (৫০)। কেমন লাগছে জানতে চাইলে বলেন, 'পৌষ-পার্বণ আমাগো গ্রামীণ ঐতিহ্য। তবে এহন সেই পিঠা- পায়েসের গ্রামেরও অনেক বাড়িতে বানানো হয় না। এইহানে আইস্যা ছোটবেলার পৌষ-পার্বণ মেলার স্মৃতি মনে পইড়া গেল।'
সভাপতি, মানিকগঞ্জ বন্ধুসভা