পিঠাপুলি খাওয়ার আনন্দ ভাগাভাগি ও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে পিঠা উৎসব করেছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভা। ২৪ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি প্রাঙ্গণে এটি অনুষ্ঠিত হয়।
সকাল থেকেই বন্ধুরা নিজ হাতে হরেক রকমের পিঠা বানানোর কাজে লেগে পড়েন। যার মধ্যে ছিল পাকন পিঠা, ভাপা পিঠা, পুলি পিঠা, চিতই পিঠা, পাটিসাপটা পিঠা ইত্যাদি। পিঠার ঘ্রাণ আর বন্ধুদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে চারদিকে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে।
জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক পর্ব শুরু হয় বিকেল চারটায়। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফ উদ্দিন।
উৎসবে ছিল ভিন্নধর্মী এক প্রতিযোগিতা। নিয়ম হলো অংশগ্রহণকারীর চোখ বাঁধা অবস্থায় কলাপাতা থেকে দৈবক্রমে পিঠা নির্বাচন করতে হবে, তারপর পিঠা শনাক্ত করতে হবে। যিনি সঠিক পিঠার নাম বলতে পারবেন সেই পিঠাটি তার দখলে চলে যাবে। এ ছাড়া ছিল ঐতিহ্যবাহী বালিশ খেলা।
একপর্যায়ে বন্ধু ও উপদেষ্টারা একে একে পিঠাপুলি ও শীতকালের নানা স্মৃতি নিয়ে অনুভূতি ব্যক্ত করেন। উপদেষ্টা খোরশেদ আলম বলেন, ‘আজ এই পিঠার ঘ্রাণে দাঁড়িয়ে আমার শৈশবটা চোখের সামনে ভেসে উঠছে। শীত নামলেই আমাদের গ্রামে একটা আলাদা আনন্দ ছিল। ভোরবেলায় খেজুরের রস জ্বাল দেওয়া, মাটির চুলায় হাঁড়িতে দুধ বসানো, আর মায়েদের হাতে বানানো ভাপা-পুলি—এসব ছিল শীতের সবচেয়ে বড় উৎসব।’
উপদেষ্টা সানবিন ইসলাম বলেন, ‘আজ তোমাদের এই আয়োজন দেখে মনে হচ্ছে, আমরা আমাদের শিকড়টা এখনো ভুলে যাইনি। প্রযুক্তির এই যুগেও যদি তরুণেরা পিঠা উৎসবের মতো আয়োজন করে, তবে নিশ্চিত করে বলা যায়—বাংলার ঐতিহ্য নিরাপদ হাতেই আছে।’
উপদেষ্টা মোস্তাকিম রহমান বলেন, ‘সবচেয়ে ভালো লাগার বিষয় হলো সবকিছুতে বন্ধুদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। কোথাও কোনো কৃত্রিমতা নেই। আশা করি, বন্ধুসভার হাত ধরে এই উৎসব শুধু এক দিনের স্মৃতি হয়ে থাকবে না, এটা হয়ে উঠবে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সুন্দর ঐতিহ্য।’
শেষে ছিল বন্ধুদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা। যেখানে বন্ধুরা গান, কবিতা আবৃত্তি ও কৌতুক পরিবেশনায় মেতে ওঠেন।
উৎসবে কলাপাতায় করে পিঠা পরিবেশন করা হয়। সমাপনী বক্তব্যে সবাইকে ধন্যবাদ জানান সভাপতি জাহিদ হাসান। পুরো অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বন্ধু আবু সাঈদ।
সাংগঠনিক সম্পাদক, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভা