শীতের পড়ন্ত বিকেলের মিষ্টি রোদ আর হিমেল হাওয়ার মিশেল। চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে ঘি-খিচুড়ির মন মাতানো সুবাস। উনুনে জ্বলছে গনগনে আগুন। সেই আগুনের তাপে কড়াইয়ে টগবগ করে ফুটছে ঝাল ঝাল মাংস। একপাশে অভিজ্ঞ হাতে গোল গোল বেগুনের চাকা তেলে ছাড়ছেন বাবুর্চি ইকবাল মামা। গরম তেলে বেগুনের সেই ‘ছ্যাঁত’ করে ওঠা শব্দই যেন জানান দিচ্ছিল—আজ আয়োজনটা একটু বিশেষ।
২৮ জানুয়ারি এমন এক উৎসবমুখর পরিবেশের সাক্ষী হলো ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ডিআইইউ) প্রাঙ্গণ। ডিআইইউ বন্ধুসভার আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল এক ব্যতিক্রমী মিলনমেলা ‘হলুদসন্ধ্যার বন্ধু’।
শাড়ি-পাঞ্জাবির হলদে আভা
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল উপস্থিত সবার পোশাকের সমতা। কমিটির সদস্য থেকে শুরু করে উপদেষ্টা—সবাই সেজেছিলেন হলুদ রঙের শাড়ি আর পাঞ্জাবিতে। দেখে মনে হচ্ছিল, বসন্তের আগেই ডিআইইউ ক্যাম্পাসে যেন শর্ষে ফুলের সমারোহ ঘটেছে। এই একরঙা সাজে সবার মধ্যে ভ্রাতৃত্ব আর বন্ধুত্বের বন্ধন ফুটে ওঠে।
গান, আড্ডা আর লটারি
পেটে দানাপানি পড়ার আগে চলল মনের খোরাক। ছেলে ও মেয়েদের দুটি আলাদা দলে বিভক্ত হয়ে শুরু হয় জমজমাট ‘গানের কলি’ প্রতিযোগিতা। তারুণ্যের উচ্ছ্বাসে একে একে বেরিয়ে আসছিল পুরোনো দিনের কালজয়ী সব গান। গানের লড়াই শেষে অনুষ্ঠিত হয় আকর্ষণীয় লটারি। লটারির ড্র করার সময় উপস্থিত সবার চোখেমুখে ছিল টানটান উত্তেজনা আর হাসির ঝলক।
বন্ধুত্বের স্বাদ খিচুড়িতে
সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় মূল আকর্ষণ—খিচুড়িভোজ। খোলা আকাশের নিচে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা আর প্লেটে ধোঁয়া ওঠা খিচুড়ি, ঝাল–মাংস আর ইকবাল মামার সেই মচমচে বেগুন ভাজা; সব মিলিয়ে দিনটি ছিল মনে রাখার মতো।
আয়োজক কমিটির সদস্যরা জানান, যান্ত্রিক জীবনের ব্যস্ততা ভুলে বন্ধুদের মধ্যে একটু প্রাণচাঞ্চল্য ফিরিয়ে আনতেই এই হলুদসন্ধ্যার বন্ধুর আয়োজন।
উপদেষ্টারা বলেন, এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাংস্কৃতিক সচেতনতা ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য বৃদ্ধি করে।
হাসি, গান আর তৃপ্তির ঢেকুর নিয়ে যখন অনুষ্ঠান শেষ হলো, তখন আকাশের চাঁদটাও যেন মুচকি হাসছিল এই সুন্দর বন্ধুত্বের বন্ধন দেখে।