রবীন্দ্র-নজরুলজয়ন্তী—কবিতা, গান ও একাত্মতার উৎসব

চট্টগ্রাম বন্ধুসভার রবীন্দ্র-নজরুলজয়ন্তী উৎসবে বন্ধুদের নৃত্য পরিবেশনাছবি: বন্ধুসভা

বাংলা সাহিত্যের দুই প্রধান স্তম্ভ কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্ম এই মে মাসেই। দুই মহানায়কের সৃষ্টি, চেতনা ও দর্শনকে স্মরণ করতে ২২ মে এক বর্ণাঢ্য ও প্রাণবন্ত ‘রবীন্দ্র-নজরুলজয়ন্তী’র আয়োজন করে চট্টগ্রাম বন্ধুসভা। বিকেলে প্রথম আলো চট্টগ্রাম অফিসের ছাদের খোলা বাতাসে উৎসবমুখর পরিবেশে এটি অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানের শুভারম্ভ হয় বন্ধু দেবমিতা নন্দী ও দেবশ্রী নন্দীর দ্বৈত গান পরিবেশনার মধ্য দিয়ে। তাঁরা রবীন্দ্রনাথের ‘মায়াবন বিহারিনী হরিণী’ এবং নজরুলের ‘আলগা করো গো খোঁপার বাঁধন’ গানের সংমিশ্রণে একটি চমৎকার ফিউশন পরিবেশন করেন। এরপর মঞ্চে নজরকাড়া নৃত্য পরিবেশন করেন বন্ধু প্রান্তিকা ভৌমিক, প্রান্তিকা আচার্য্য ও অতন্দ্রিলা বড়ুয়া।

চট্টগ্রাম বন্ধুসভার রবীন্দ্র-নজরুলজয়ন্তী উৎসব
ছবি: বন্ধুসভা

উদ্বোধনী পর্বের পর শুরু হয় সুর ও বাণীর মনোমুগ্ধকর কোলাজ। পুরো অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশনায় তবলায় চমৎকার সংগত করেন শান্তুধর। সংগীতে তুষার কবিরের কণ্ঠে ‘শুকনো পাতার নূপুর পায়ে’ এবং তিথি তালুকদারের কণ্ঠে ‘মোর ঘুমঘোরে এলে’ গান দুটি দর্শকদের মুগ্ধ করে। অর্পিতা দেবী গেয়ে শোনান রবীন্দ্রসংগীত ‘বসে আছি হে’ এবং নজরুলগীতি ‘প্রথম প্রদীপ জ্বালো’।

গানের পাশাপাশি কবিতার আবহে অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত করে তোলেন বন্ধুরা। আফিফ ইব্রাহীম ও গেহরীন নাসরিন দ্বৈত কণ্ঠে আবৃত্তি করেন রবীন্দ্রনাথের ‘হঠাৎ দেখা’। নজরুলের কালজয়ী ‘নারী’ কবিতাটি উপস্থিত বন্ধুদের শোনান ইষ্টি পাল। এ ছাড়া তাফসিরুল ইসলাম রবীন্দ্রনাথের ‘অন্তর মম বিকশিত করো’, আলিফা হক চৌধুরী নজরুলের ‘জাগরণ’ এবং সংহিতা রবীন্দ্রনাথের ‘বিচিত্র স্বাদ’ কবিতাটি চমৎকারভাবে উপস্থাপন করেন। অনুষ্ঠানে ‘নীল অঞ্জনঘন পুঞ্জ ছায়ায়’ ও ‘এসো শ্যামল সুন্দর’ গানের তালে একক নৃত্য পরিবেশন করেন প্রান্তিকা ভৌমিক। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন তৃষা বড়ুয়া।

অনুষ্ঠান শেষে চট্টগ্রাম বন্ধুসভার বন্ধুরা
ছবি: বন্ধুসভা

কথামালা পর্বে সহসভাপতি নুরুজ্জামান খান বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল আমাদের সংস্কৃতির দুই ভিত্তিপ্রস্তর; সংকটে ও সংগ্রামে এই দুই কবিই তরুণ প্রজন্মকে পথ দেখান।’
পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক কামরান চৌধুরী সাহিত্য পাঠের ওপর জোর দিয়ে বলেন, ‘শুধু আনুষ্ঠানিকতায় নয়, নিয়মিত পড়ার অভ্যাসের মধ্য দিয়ে দুই কবির দর্শনকে আমাদের গভীরভাবে উপলব্ধি করতে হবে।’

সবশেষে একাত্মতার সুর তুলে দপ্তর সম্পাদক জয় চক্রবর্ত্তী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কালজয়ী গান ‘যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলো রে’ পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন। সাংস্কৃতিক পর্ব শেষে ছিল খাঁটি বাঙালি আমেজের আপ্যায়ন। ছাদের খোলা বাতাসে মুড়ি, বাতাসা আর গরম–গরম আলুর চপ পরিবেশনা আর খাওয়াদাওয়ার মধ্য দিয়ে শেষ হয় কালজয়ী দুই কবির জন্মোৎসবের এই আয়োজন।

অনুষ্ঠানের সমন্বয়কারী হিসেবে ছিলেন বন্ধু কামরান চৌধুরী, জয় চক্রবর্ত্তী ও প্রান্তিকা ভৌমিক।

দপ্তর সম্পাদক, চট্টগ্রাম বন্ধুসভা