আলোকের এই ঝরনাধারায়

স্বাগত সংগীতের সুরলহরি দিয়ে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মূল আয়োজন
ছবি: বন্ধুসভা

‘সূর্যাস্ত বা সূর্যোদয়ের দৃশ্য আমরা জীবনে অসংখ্যবার দেখেছি। তারপরও গাড়ির জানালা দিয়ে পশ্চিম দিগন্তে লাল আভায় সূর্য ডুবে যেতে দেখলে আমরা মুগ্ধ হই। মানুষকে মুগ্ধ করার, যুক্তির ঊর্ধ্বে উঠে সৌন্দর্য সৃষ্টি করার যে ক্ষমতা শিল্পের আছে, সেই জায়গায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর উজ্জ্বল, জ্যোতির্ময়।’

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে প্রথম আলো বন্ধুসভার রবীন্দ্রজয়ন্তী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন প্রথম আলোর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ও কথাসাহিত্যিক আনিসুল হক। তাঁর কথায় উঠে আসে রবীন্দ্রদর্শন ও আবহমান সংস্কৃতি। যেখানে রবীন্দ্রনাথ কেবল কবি নন, বরং বিস্ময়ের অন্য নাম। সৌন্দর্যের কাছে মানুষের নিঃশব্দ আত্মসমর্পণের এক চিরন্তন প্রতীক।

বক্তব্য দেন প্রথম আলোর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ও কথাসাহিত্যিক আনিসুল হক
ছবি: বন্ধুসভা

১০ মে সন্ধ্যায় ‘আলোকের এই ঝরনাধারায়’ শিরোনামে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো কার্যালয়ের সভাকক্ষে এ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকা মহানগর বন্ধুসভার সহযোগিতায় পুরো আয়োজনেই ছিল এক নির্মল সাংস্কৃতিক আবহ। অংশ নেন জাতীয় পর্ষদ, ঢাকা মহানগর ও ঢাকার বিভিন্ন বন্ধুসভার বন্ধুরা। শহরের ব্যস্ত সন্ধ্যায় সব ব্যস্ততা দূরে ঠেলে তৈরি হয়েছিল অন্য রকম পরিবেশ। যেখানে গান, কবিতা আর নৃত্যের পরতে পরতে ছিলেন রবীন্দ্রনাথ আর রবীন্দ্রদর্শন।

ঢাকা মহানগর বন্ধুসভার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেঘা খেতানের সঞ্চালনায় স্বাগত সংগীতের সুরলহরি দিয়ে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মূল আয়োজন। ড্যাফোডিল বন্ধুসভার বন্ধু স্নিগ্ধা পালমা ও মাহিয়া তাবাসসুমের নৃত্য পরিবেশনা উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে। রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশন করেন জাতীয় পর্ষদের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আশফাকুর রহমান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভার কার্যনির্বাহী সদস্য নবনীতা চক্রবর্তী। জাতীয় পর্ষদের কার্যনির্বাহী সদস্য তাপসী রায়ের কণ্ঠে ‘মায়াবন বিহারিণী’ গানটি অনুষ্ঠানকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি কবিতা আবৃত্তি করেন জাতীয় পর্ষদের উপদেষ্টা মৌসুমী মৌ
ছবি: বন্ধুসভা

কবিতা আবৃত্তি করেন জাতীয় পর্ষদের উপদেষ্টা মৌসুমী মৌ, ঢাকা মহানগরের বন্ধু মনিকা ইয়াসমিন, বৈর্ণিক বৈশ্য ও আফিয়া ইবনাত এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভার সভাপতি ইফাত হাসান। তাঁদের আবৃত্তিতে রবীন্দ্রচেতনার আবেগ ও সৌন্দর্য ফুটে ওঠে। ‘মন মোর মেঘেরও সঙ্গী’ গানে নৃত্য পরিবেশন করেন ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি বন্ধুসভার বন্ধু সুরাইয়া আক্তার। এ ছাড়া গণ বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভার মো. সিয়াম ও সুমাইয়ার নৃত্য পরিবেশনা অনুষ্ঠানকে আরও বেশি ছন্দময় করে তোলে।

রবীন্দ্রনাথের জন্মবার্ষিকী মানে কেবল গান বা কবিতার পঙ্‌ক্তিমালা নয়। এ যেন এক গহন আত্মিক আশ্রয়ে ফিরে যাওয়ার উপলক্ষ। জাতীয় পরিচালনা পর্ষদের সহসভাপতি মোহাম্মদ আলী ফিরোজের বক্তব্যে সেই অনুভূতিরই প্রতিধ্বনি শোনা যায়। তাঁর বক্তব্যেও উঠে আসে শিল্প, সৌন্দর্য ও মানবিকতার সেই গভীর অনুরণন।

অনুষ্ঠান শেষে বন্ধুদের একাংশ
ছবি: বন্ধুসভা

জাতীয় পর্ষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহমুদা বুশরা বলেন, ‘মন খারাপের সময় আমরা যেমন রবীন্দ্রনাথের গান শুনি, তেমনি আনন্দের মুহূর্তেও ফিরে যাই তাঁর কাছেই। মানসিক চাপ কিংবা অস্থিরতার সময় রবীন্দ্রসংগীত যেন একধরনের আশ্রয় হয়ে ওঠে। আবার জীবনের সুন্দর মুহূর্তগুলোকে আরও গভীরভাবে অনুভব করতেও আমরা রবীন্দ্রনাথের গান, কবিতা ও লেখনীর কাছে ফিরে যাই। তাঁর সৃষ্টিকর্ম আমাদের মনের জট খুলে দেয়, প্রশান্ত করে অন্তর্গত অস্থিরতাকে।’

ঢাকা মহানগর বন্ধুসভার সভাপতি হাসান মাহমুদ সম্রাট তাঁর বক্তব্যে তুলে ধরেন বন্ধুসভার সাংস্কৃতিক চর্চা, অটুট বন্ধুত্ব আর মানবিক বোধের জায়গাগুলো। তিনি বলেন, এমন আয়োজন কেবল বিনোদন নয়, বরং মানুষে মানুষে সম্পর্ক ও সংস্কৃতিচর্চার বন্ধন আরও দৃঢ় করারও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ।

সাংস্কৃতিক আয়োজনের পাশাপাশি মেধার লড়াইয়েও মেতে ওঠেন বন্ধুরা। মহানগর বন্ধুসভার সাধারণ সম্পাদক অনিক সরকারের পরিচালনায় তাৎক্ষণিক কুইজ পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। কুইজে বিজয়ীদের ফুল উপহার দেওয়া হয়।

সাংগঠনিক সম্পাদক, ঢাকা মহানগর বন্ধুসভা