ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) সুইমিংপুল প্রাঙ্গণ গত ২৭ জুন, বিকেলে সেজেছিল রঙিন আবহে। রঙিন কাপড়ের সঙ্গে বর্ণিল আলোকসজ্জা। একপাশে টেবিলের ওপর শোভা পাচ্ছিল প্লেটে সাজানো বাহারি রকমের দেশীয় মৌসুমি ফল। অন্যদিকে যে বন্ধুরাই আসছিলেন, তাঁরা সাজানো ফলগুলোর ছবি তুলে স্মৃতি রেখে দিচ্ছেন মুঠোফোনে। ফল খাওয়ার অনুমতি যে তখনো মেলেনি। এর মধ্যেই দুই সঞ্চালক ঘোষণা করলেন উৎসবের শুরুর।
সঙ্গে সঙ্গেই সুইমিংপুল প্রাঙ্গণে সাজিয়ে রাখা চেয়ারে বসে পড়তে শুরু করেন জাতীয় পরিচালনা পর্ষদ, ঢাকা মহানগর ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ ঢাকার বিভিন্ন বন্ধুসভা থেকে আগত বন্ধুরা। আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় ঢাবি বন্ধুসভার সহযোগিতায় প্রথম আলো বন্ধুসভার ফল উৎসব ২০২৬। স্বাগত বক্তব্য দেন ঢাবি বন্ধুসভার সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবীব আসিফ।
ঢাবি বন্ধুসভার বইমেলা সম্পাদক তাসকিন ফায়েজীন ও পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক মেহেরাজ হাসানের সঞ্চালনায় একে একে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন জাতীয় পরিচালনা পর্ষদের নির্বাহী সভাপতি ফরহাদ হোসেন মল্লিক, সহসভাপতি মোহাম্মদ আলী ফিরোজ, সাধারণ সম্পাদক সাইমুম মৌসুমী বৃষ্টি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহমুদা বুশরা, উপদেষ্টা আশিকুজ্জামান অভি এবং ঢাকা মহানগর বন্ধুসভার সভাপতি হাসান মাহমুদ সম্রাট।
উৎসবে ছিল আম, জাম, কাঁঠাল, কলা, লিচু, সফেদা, আঙুরসহ প্রায় ২৫ ধরনের দেশীয় মৌসুমি ফল। পাশাপাশি বর্ণিল সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং উপভোগ্য এক রম্য বিতর্ক উৎসবকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। সাংস্কৃতিক পর্বের শুরুতে গান পরিবেশন করা হয়। সংগীত পরিবেশনায় ছিলেন বন্ধু মেহেরাজ হাসান, নাফিস আহনাফ, ঢাবি বন্ধুসভার সহসভাপতি সাইদুর রহমান, সভাপতি ইফাদ হাসান ও ঢাকা মহানগর বন্ধুসভার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেঘা খেতান।
এরই ফাঁকে বন্ধুসভা জাতীয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি জাফর সাদিক জানান, সারা দেশে ফল উৎসব, কুয়াশা উৎসবসহ এ ধরনের অনুষ্ঠানগুলোর প্রচারে প্রথম আলো ও বন্ধুসভার অবদান অনেকটাই। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই ঢাবি বন্ধুসভা গঠনমূলক বিভিন্ন কাজ করুক। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে আরও নজর দিতে হবে। আশা করি, তারা আগামীতে আরও বড় আয়োজন করবে।’
উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ ছিল রম্য বিতর্ক। এতে অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থী। বিতর্কে আমের ভূমিকায় নাফিস আহনাফ, ডাবের ভূমিকায় তাসকিন ফায়েজীন, তরমুজের ভূমিকায় নাফি বিন মামুন এবং কাঁঠালের ভূমিকায় ছিলেন নবনীতা চক্রবর্তী।
অনুষ্ঠান শেষে ‘মায়ের ভাষায় মাকে চিঠি লেখা’ ও ‘স্বরচিত কবিতা লেখা’ প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। এরপরই ফল খাওয়ার উৎসবে মেতে ওঠেন সবাই।
সমাপনী বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভার সভাপতি ইফাদ হাসান জানান, ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজনে তাঁরা সক্রিয় থাকবেন।
বন্ধু, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভা