কথা, গান ও কবিতায় রবীন্দ্র-নজরুল স্মরণ

ভৈরব বন্ধুসভার উদ্যোগে কথা, গান ও কবিতায় রবীন্দ্র-নজরুল স্মরণছবি: ইফতি

কখনো মেঘে ঢেকে যাচ্ছে আকাশ, কখনো অঝোর ধারায় বৃষ্টি পড়ছে। এমনি এক বৃষ্টিভেজা সন্ধ্যায় প্রথম আলো ভৈরব অফিসে একদল তরুণ-তরুণীর কণ্ঠ থেকে ভেসে আসে—
‘মোরা ঝঞ্ঝার মতো উদ্দাম
মোরা ঝর্ণার মতো চঞ্চল,
মোরা বিধাতার মতো নির্ভয়
মোরা প্রকৃতির মতো সচ্ছল।’

উদ্দীপনা জাগানিয়া নজরুলের এ গান সমবেত কণ্ঠে পরিবেশনের মাধ্যমে ২৪ মে রোববার সূচনা হয় কথা, গান ও কবিতায় রবীন্দ্র-নজরুল স্মরণ আয়োজনের। সঞ্চালনা করেন ভৈরব বন্ধুসভার সভাপতি জান্নাতুল মিশু। তিনি বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল দুজনই ছিলেন প্রকৃতিপ্রেমী। তাঁদের গান ও কবিতার আমরা সেগুলোর প্রতিফলন দেখতে পাই।’

বন্ধু মাহমুদা তমা গেয়ে শোনান ‘আমি চিরতরে দূরে চলে যাব, তবু আমারে দেব না ভুলিতে’, ও ‘মোর ঘুমঘোরে এলে মনোহর’ গান দুটি।
সহসভাপতি তোফাজ্জল হোসেন আবৃত্তি করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা ‘হঠাৎ দেখা’। আবৃত্তি শেষে তিনি বলেন, ‘পাঠচক্রে বই নিয়ে অনেক আলোচনা করেছি, তবে আবৃত্তি করা আমার জন্য একেবারে নতুন অভিজ্ঞতা।’

প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক ও বন্ধুসভার উপদেষ্টা সুমন মোল্লা, নজরুল ও রবীন্দ্রনাথ নিয়ে আলোচনা করেন। তাঁর আলোচনায় উঠে আসে কাজী নজরুল ইসলামের সাদামাটা জীবনের নানা দিক, বিশেষ করে তাঁর ছেলে বুলবুলকে ঘিরে সৃষ্টি হওয়া ‘বাগিচায় বুলবুলি তুই ফুল শাখাতে দিসনে আজি দোল’ গানটির পেছনের বেদনাময় গল্প শোনান।

সুমন মোল্লা বলেন, ছেলের চিকিৎসার জন্য অর্থসংকটে পড়েছিলেন নজরুল। অর্থের প্রয়োজনে সৃষ্টি হয়েছিল গানটির। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ছেলেকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি। তিনি আরও বলেন, নজরুল এই দেশের কবি, বাঙালির কবি। আর সাহিত্যের এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টকর্ম নেই। তিনি সগৌরব বিচরণ করে সাহিত্যের প্রতিটি শাখায়।

রবীন্দ্র স্মরণে বন্ধু ভুবন পরিবেশন করেন ‘গ্রামছাড়া ওই রাঙা মাটির পথ’। গানটি শুনতে শুনতে উপস্থিত অনেকের মনে হয়েছিল যেন কিছুক্ষণের জন্য সবাই হারিয়ে গেছেন কোনো চিরচেনা গ্রামের পথে। পরে নজরুল স্মরণে তিনি পরিবেশন করেন ‘দূর দ্বীপবাসিনী’ গানটি।

ভৈরব বন্ধুসভার উদ্যোগে কথা, গান ও কবিতায় রবীন্দ্র-নজরুল স্মরণ
ছবি: ইফতি

ছবি: ইফতিউপদেষ্টা লুবনা হক তাঁর কথায় তুলে ধরেন রবীন্দ্রনাথের জীবন, প্রকৃতিপ্রেম ও সৃষ্টিশীলতার নানা দিক। তিনি বলেন, ‘মানুষের জন্য রেখে যাওয়া রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টিগুলো আজও আমাদের নতুনভাবে ভাবতে শেখায়।’

সাবেক সভাপতি ইকরাম বখশ বলেন, ‘দ্রোহের কবির সাহসী উচ্চারণ আর সত্যের পক্ষে অবস্থান যদি আমরা সত্যিকার অর্থে ধারণ করতে পারি, তাহলে অন্যায়ের পথে হাঁটা কঠিন হয়ে যাবে।’

মেধা ও ছোট্ট বন্ধু রেদোয়ান দ্বৈত কণ্ঠে আবৃত্তি করেন রবীন্দ্রনাথের ‘হাট’ কবিতাটি। রবীন্দ্রনাথের ‘বাঁশি’ কবিতা আবৃত্তি করেন বন্ধু নাঈমুল ইসলাম।
বন্ধু রাকিব হোসাইন শোনান বিখ্যাত ইসলামিক গজল ‘এই সুন্দর ফুল, সুন্দর ফল, মিঠা নদীর পানি খোদা তোমার মেহেরবানি’!

গান ও কবিতার ফাঁকে চলে রবীন্দ্র-নজরুল আলোচনা। আলোচনায় সাধারণ সম্পাদক আনাস খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাফিস রহমান, সহসভাপতি আফিসা আলী, কার্যনির্বাহী সদস্য মানিক আহমেদ, প্রশিক্ষণ সম্পাদক একা গোপ, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি সম্পাদক স্নেহা আলম বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক হেপি বেগম, বন্ধু অনুপম, ভুবন, নাঈম, রামিম, মাহিন, তুহিন, ইমরান, আরবী, মুনিয়া, রাকিব হোসাইন ও অনুপম। সবশেষে সবাই একসঙ্গে গেয়ে ওঠেন—
‘পুরানো সেই দিনের কথা ভুলবি কি রে হায়।
ও সেই চোখের দেখা, প্রাণের কথা, সে কি ভোলা যায়।
আয় আর–একটিবার আয় রে সখা, প্রাণের মাঝে আয়।
মোরা সুখের দুখের কথা কব, প্রাণ জুড়াবে তায়।’

এর মাধ্যমে সমাপ্ত হয় রবীন্দ্র-নজরুল স্মরণ আয়োজন। সহযোগী হিসেবে ছিল ভৈরবের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নিট ইন্টেরিয়রস।

বন্ধু, ভৈরব বন্ধুসভা