ড্যাফোডিলে ‘একটি সোনালি বিকেল’

বন্ধুদের নৃত্য পরিবেশনা
ছবি: তানজিলুল প্লানা

হেমন্তের শীতের সকালে রাজধানীর অদূরে আশুলিয়ায় ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গেলে মাঝেমধ্যে চমকে যেতে হয়, ভুল করে সাজেক চলে এলাম না তো! কুয়াশার সাদা চাদরে পুরো ক্যাম্পাস ঢাকা থাকে। এর মধ্যেই ৬ ডিসেম্বর, সকালে বন্ধুরা নিজেদের হাতে তৈরি করা বাহারি রকমের পিঠার সমারোহ নিয়ে হাজির হন বনমায়া প্রাঙ্গণে। আগে থেকেই বরাদ্দ করে রাখা স্টলে সেগুলো সাজিয়ে পুরোদস্তুর দোকানি বনে যান কেউ কেউ। চলতে থাকে পিঠা বিক্রি। বন্ধুদের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও এতে শামিল হন। পিঠা খেয়ে ড্যাফোডিল বন্ধুসভার উপদেষ্টা মাহবুব পারভেজের মনে পড়ে যায় বাল্যকালে শীতের সকালে মায়ের হাতের সুস্বাদু পিঠার কথা।

বন্ধুদের মধ্যে কেউ কেউ আবার পিঠার স্টলে নেই। তাঁরা বাসা থেকে মেহেদি নিয়ে এসেছেন। শিক্ষার্থীদের হাত মেহেদির রঙে রাঙিয়ে দেওয়ার কাজে ব্যস্ত তাঁরা। এদিন ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভা ‘একটি সোনালি বিকেল’ শিরোনামে আয়োজন করে পিঠা উৎসব, মেহেদি উৎসব ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে বেলা ২টা পর্যন্ত চলে পিঠা ও মেহেদি উৎসব। এরপর মধ্যাহ্নবিরতি। বেলা ৩টা থেকে শুরু হয় সাংস্কৃতিক পর্ব।

সুরের মূর্ছনায় মুগ্ধতা ছড়ান তিন বন্ধু
ছবি: তানজিলুল প্লানা

তামান্না তাবাসসুম ও আহমেদ সাদির সঞ্চালনায় শুরুতেই দলীয় নৃত্য পরিবেশন করেন সাকিবুল ইসলাম, ইমতিয়াজ ওমর, লাবিব আক্তার, আর্নিয়া আরশি, প্রিয়াঙ্কা হাওলাদার ও ঈশিতা মণ্ডল। এদিকে কর্মদিবস হলেও শত ব্যস্ততা দূরে ঠেলে বন্ধুসভার টানে অনুষ্ঠানস্থলে একে একে আসতে শুরু করেন পুরোনো বন্ধুরা। মঞ্চে একের পর এক চলতে থাকে গান, রম্য বিতর্ক, কবিতা আবৃত্তি, কৌতুক পরিবেশনা, পুঁথিপাঠ, র‌্যাম্প প্রদর্শনীসহ নানা ধরনের সাংস্কৃতির পরিবেশনা। আবৃত্তি করেন আকাশ আহমদ, সার্জিয়া হক, রাফিদ আহমেদ, সোনিয়া আক্তার, জিবরান লাম ও সাদিয়া ইসলাম। নৃত্যের ছন্দে মুগ্ধতা ছড়ান জান্নাতুল মলি, তূর্য রহমান ও দোলা রহমান। এর মধ্যেই ‘টাকা বড় নাকি ভালোবাসা বড়’ বিষয়ে রম্য বিতর্কে অনুষ্ঠানস্থল মাতিয়ে তোলেন দুই উপস্থাপক। এ সময় দর্শকেরাও দুটি দলে ভাগ হয়ে যান। যুক্তিতে কেউ কাউকে ছাড় দিতে রাজি নন!

গান পরিবেশন করেন বিজন সরকার, অনিক সরকার, সামিউল ইসলাম, মোছা. আলাস্কা, অনি রহমান ও মেঘা খেতান। ‘হেমন্ত বিকেলের আড্ডা’ শিরোনামে পুঁথিপাঠ করেন সিয়াম আহমেদ, তানজিলুল প্লানা, আসিয়া খুশবু ও তানজিনা শ্রাবণী। ততক্ষণে পুব আকাশে বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নেমে এসেছে। হঠাৎ মঞ্চের পাশে বাঙালির ঐতিহ্যবাহী গামছা দিয়ে তৈরি বাহারি ডিজাইনের পোশাক পরে জড়ো হন একদল ছেলেমেয়ে। সাবিরা সুলতানার নির্দেশনায় তাঁরা র৵াম্প প্রদর্শনী করেন। এতে অংশ নেন বর্ণ হক, কাওছার নাকাশ, হৃদয় ইসলাম, সোনিয়া আক্তার, অভিক হাসান, লাবু আক্তার, আবদুল আজিজ, মৌপি রহমান ও মোহতাসিম সিয়াম।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ড্যাফোডিল বন্ধুসভার উপদেষ্টা মাহবুব পারভেজ, ফুয়াদ হাসান, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক অমিত চক্রবর্তী, ডিরেক্টর অব স্টুডেন্ট অ্যাফেয়ার্স পরিচালক সৈয়দ মিজানুর রহমান, ড্যাফোডিল বন্ধুসভার সাবেক কার্যনির্বাহী সদস্যসহ বর্তমান ও পুরোনো বন্ধুরা। সবশেষে ২০২২ কার্যনির্বাহী সদস্যদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন সাবেকেরা। সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন সভাপতি এহসানুল হক ফেরদৌস।

বন্ধু, ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভা