নতুনের আহ্বান ও সংস্কৃতির আবেশে ড্যাফোডিলে বসন্ত

উচ্ছ্বাসে ভরপুর এই উৎসব যেন বসন্তের সৌন্দর্যকে জীবন্ত করে তোলে
ছবি: বন্ধুসভা

বসন্ত মানেই নতুনের আহ্বান, রঙের উচ্ছ্বাস আর হৃদয়ের গভীরে লুকিয়ে থাকা আনন্দের নবজাগরণ। সেই বসন্তের রং, ভালোবাসা ও সংস্কৃতির আবেশে ১৬ ফেব্রুয়ারি মুখর হয়ে ওঠে সাভারের আশুলিয়ায় অবস্থিত ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাস। ড্যাফোডিল বন্ধুসভার উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় বহুল প্রতীক্ষিত সাংস্কৃতিক আয়োজন ‘ড্যাফোডিলে বসন্ত–১৪৩২’। ফুল, গান, কবিতা আর বন্ধুত্বের উচ্ছ্বাসে ভরপুর এই উৎসব যেন বসন্তের সৌন্দর্যকে জীবন্ত করে তুলেছিল পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে।

প্রতিবছর সাধারণত ১৪ ফেব্রুয়ারি বসন্ত উৎসব অনুষ্ঠিত হলেও, চলতি বছর জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক ও নিরাপত্তার কারণে তারিখ পিছিয়ে নির্ধারণ করা হয় ১৬ ফেব্রুয়ারি। তবে সময়ের এই পরিবর্তন আয়োজনের প্রাণচাঞ্চল্যে কোনো ভাটা ফেলতে পারেনি। বরং শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অতিথি ও বন্ধুসভার সদস্যদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে উৎসবটি হয়ে ওঠে আরও বর্ণিল ও প্রাণবন্ত। বসন্তের আবহে সেজে ওঠা ক্যাম্পাসে দিনভর চলে গান, কবিতা, আড্ডা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।

অনুষ্ঠান শেষে ড্যাফোডিল বন্ধুসভার বন্ধুদের একাংশ
ছবি: বন্ধুসভা

উৎসবের উদ্বোধন করেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রক্টর প্রফেসর শেখ মোহাম্মদ আল্লাইয়ার। তিনি বলেন, ‘বসন্ত কেবল ঋতু নয়, এটি সৃজনশীলতা, উৎসাহ এবং সংস্কৃতিচর্চার উৎস।’ তিনি শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল বিকাশে এমন আয়োজনের গুরুত্ব ও সমৃদ্ধি নিয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করেন।

সহকারী প্রক্টর কাজী মো. দীলজেব কবির বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতি ও প্রশাসনিক দিকগুলোকে সংক্ষিপ্তভাবে তুলে ধরেন। ড্যাফোডিল বন্ধুসভার কো-কনভেনর আহসানুল্লাহ সজীব বলেন, ‘ড্যাফোডিল বন্ধুসভার প্রতিবছরের মনোজ্ঞ এই আয়োজন দেখার জন্য আমি সকাল থেকে প্রস্তুত হয়ে ছিলাম। শিক্ষার্থীদের আয়োজন এত চমৎকার হতে পারে তা মাঝে মাঝে আমাকে ভাবায়।’

ছিল বিভিন্ন স্টল
ছবি: বন্ধুসভা

বন্ধুসভা জাতীয় পরিচালনা পর্ষদের উপদেষ্টা মাহবুব পারভেজ কবিতার ছন্দে বসন্তের সৌন্দর্য, প্রকৃতি ও মানুষের অনুভূতির গভীর সংযোগ উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, ‘বসন্ত মানুষের মনে নতুন ভাবনা ও আশার জন্ম দেয়। ড্যাফোডিলে বারে বারে ফিরে আসুক বসন্ত।’

পরিবারসহ উপস্থিত ছিলেন অফিস অব দ্য স্টুডেন্ট অ্যাফেয়ার্সের সিনিয়র সহকারী পরিচালক অমিত চক্রবর্তী ছোটন। তিনি গান পরিবেশনায় সবাইকে মুগ্ধ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্টুডেন্ট অ্যাফেয়ার্সের সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা তাহমিদ চৌধুরী ও সহকারী লাইব্রেরিয়ান রাশেদ নিজামী।

বর্ণিল এই উৎসবে বন্ধুদের অংশগ্রহণ
ছবি: বন্ধুসভা

বন্ধুসভা জাতীয় পরিচালনা পর্ষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহমুদা বুশরা বলেন, ‘ড্যাফোডিলে বসন্তের কথা শুনেই আমি সিদ্ধান্ত নিয়ে নিই আজ বসন্ত পালন করতে আসব। এত দূর থেকে শত কাজ ফেলে আসাটা আমার সার্থক।’ এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বন্ধুসভা জাতীয় পর্ষদের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আশফাকুর রহমান, ঢাকা মহানগর বন্ধুসভার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান, পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক জাকিয়া লিমাসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর ও মিরপুর বন্ধুসভার বন্ধুরা।

অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে উপস্থিত হন ড্যাফোডিল বন্ধুসভার উপদেষ্টা বিনয় বর্মণ, কবি হাইকেল হাশমী, শাকিব লোহানী, শাহনাজ পারভীন ও তালুকদার লাভলী। তাঁরা সবাই কবিতা আবৃত্তির মাধ্যমে অনুষ্ঠানকে আরও প্রাণবন্ত ও মুখর করে তোলেন।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন ড্যাফোডিল বন্ধুসভার সাবেক সভাপতি এহসানুল হক ফেরদৌস, নাজমুল হাসান, সাবেক সহসভাপতি আদিবা জামান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাবিরা সুলতানা, সাবেক অর্থ সম্পাদক সাব্বির হোসেন, সাবেক দপ্তর সম্পাদক নাবিল মাহমুদ, সাবেক কার্যনির্বাহী সদস্য সাকিবুল ইসলাম, ফাহিম শাহরিয়ারসহ অনেকে।

অতিথিদের ড্যাফোডিল বন্ধুসভার পক্ষ থেকে বার্ষিক ম্যাগাজিন ‘অদম্য ২৫’ উপহার দেওয়া হয়
ছবি: বন্ধুসভা

অতিথিদের ড্যাফোডিল বন্ধুসভার পক্ষ থেকে বার্ষিক ম্যাগাজিন ‘অদম্য ২৫’ উপহার দেওয়া হয়। অনুষ্ঠান সহযোগী হিসেবে ছিল ইস্পাহানি মির্জাপুর। সাংস্কৃতিক পর্বে সহযোগিতা করেছে ডিআইইউ ব্যান্ড সোসাইটি।

আয়োজন বাস্তবায়নে কাজ করেছেন বন্ধু ইশরাত জাহান, রিজভী আমিন, মোহাম্মদ ত্বোয়া-হা, সালমান ফারসি, জেবা আনিকা, নুসরাত অনন্যা, মোস্তফা মাহফুজ, মোহাম্মদ নাঈম, আবিদুর রহমান, পিয়াস সরকার, রিফাতুল ইসলাম, তাবাসসুম অর্পিতা, মোহাম্মদ সিয়াম, সপ্তদ্বীপ বর্মণ, কৌশিক খানসহ অন্য বন্ধুরা।

সবশেষে সভাপতি মুসাভভির সাকির অতিথি, আয়োজক ও সহযোগীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক, ড্যাফোডিল বন্ধুসভা