ডাকবক্সের মুক্ত চিঠি

বন্ধুরা চিঠি পাঠ করে শোনান
ছবি: বন্ধুসভা

চিঠি, মানুষের মনের ভাব প্রকাশের অনন্য একটি মাধ্যম। চিঠির অল্প কিছু শব্দের মধ্যে মিশে থাকে অনেক না বলা কথা, আবেগ, অনুভূতি। প্রযুক্তির আবির্ভাবের দরুন মানুষের অভ্যাসে পরিবর্তন এসেছে। মানুষ এখন আর নিজের আবেগটুকু কাগজে সীমাবদ্ধ না রেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অকপটে বলে ফেলে।

হারিয়ে যেতে বসা চিঠির স্বর্ণালি যুগকে সবার মধ্যে আবারও মনে করিয়ে দেওয়া আর নতুন প্রজন্মকে চিঠির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক চিঠি দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম বন্ধুসভা আয়োজন করে ‘ডাকবক্সের মুক্ত চিঠি’ শীর্ষক চিঠি লেখা প্রতিযোগিতা। এই আয়োজনে চট্টগ্রাম বন্ধুসভার বন্ধুদের বাইরেও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে চিঠি এসেছে। ১ সেপ্টেম্বর প্রথম আলো চট্টগ্রাম অফিসে বসে দ্বিতীয়বারের মতো ভিন্নধর্মী এই আয়োজন। বিকেল সাড়ে চারটা থেকে শুরু হয়ে প্রায় তিন ঘণ্টা পর্যন্ত চলে।

অনুষ্ঠানে চিঠি পাঠ করছেন এক বন্ধু
ছবি: বন্ধুসভা

নানজিবা মুনজারিন ও ইরফাতুর রহমানের সঞ্চালনায় বন্ধুদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক বিশ্বজিৎ চৌধুরী ও সহকারী মহাব্যবস্থাপক (হিসাব ও প্রশাসন) মনজুর মোরশেদ। বিশ্বজিৎ চৌধুরী বলেন, ‘আমরা আবেগটাকে এখন নিয়ন্ত্রণ করতে শিখে ফেলেছি। মানুষের মধ্যে যদি আবেগ না থাকে, তাহলে সে কারও ক্ষতি করতে কখনোই দ্বিধাবোধ করবে না। আমরা আমাদের অনুভূতিগুলো সংক্ষিপ্ত করতে করতে এখন অনুভূতি প্রকাশ করাটাই বন্ধ করে দিয়েছি। আমাদের নিজের মধ্যে চেপে থাকা আবেগ, অনুভূতি প্রিয়জন কিংবা কাছের মানুষের কাছে চিঠির মাধ্যমে প্রকাশের অনুশীলন করা উচিত।’

প্রয়াত মায়ের কাছে লেখা বন্ধু সামিয়া সুলতানা নাদীরা বা বিভাস গুহের চিঠি কিংবা বড় বোনের কাছে লেখা ফাহমিদা ইয়াসমিন ফারিহার চিঠি পাঠ উপস্থিত বন্ধুদের আবেগতাড়িত করে তোলে। শুধু প্রয়াত মা-বাবার প্রতিই নয়, বন্ধুরা চিঠি লিখেছেন হারিয়ে যাওয়া প্রিয়জনের কাছে। কেউবা লিখেছেন বন্ধুর কাছে, তো কেউবা হারিয়ে যাওয়া শৈশবের কাছে, এক পোষা প্রাণিপ্রেমী চিঠি লিখেছেন নিজের পছন্দের বিড়ালে উদ্দেশে। অনেকেই এই আয়োজনে সরাসরি উপস্থিত হয়ে নিজের লেখা চিঠি সবার উদ্দেশে পড়ে শুনিয়েছেন। অনেকেই সরাসরি উপস্থিত হতে না পারায় তাঁদের অনুপস্থিতিতে চিঠি পাঠ করেছেন উপস্থিত বন্ধুরা। বন্ধুর উদ্দেশে রাঙামাটি থেকে লেখা তানিয়া এ্যানির চিঠিসহ বেশ কয়েকটি চিঠি পড়ে শুনিয়েছেন চট্টগ্রাম বন্ধুসভার উপদেষ্টা শিহাব জিশান।

চিঠি পাঠের সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন এই বন্ধুটি
ছবি: বন্ধুসভা

দেশজুড়ে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ইলেকট্রনিক মেইলে আসা ২৫টি চিঠির বিচারকার্যের দায়িত্বে ছিলেন চট্টগ্রাম বন্ধুসভার তিন উপদেষ্টা সঞ্জয় বিশ্বাস, জয়শ্রী দাশ ও তাহমিনা সানজিদা। এমন ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে সঞ্জয় বিশ্বাস কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, মহাত্মা গান্ধীদের মতো মনীষীদের পত্রালাপের ঘটনাগুলো বন্ধুদের সামনে তুলে ধরেন।

আয়োজনের শেষে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করেন সভাপতি মিনহাজ হোসাইন। বিজয়ী সেরা তিন চিঠির মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে প্রয়াত সমরেশ মজুমদারের সঙ্গে দেখা করতে না পারার আক্ষেপ থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভার বন্ধু শারমিন সুলতানা নিশির লেখা চিঠি, চট্টগ্রাম বন্ধুসভার বন্ধু মেহেদী হাসান শাওনের কবিতার ঢঙে লেখা সন্তানের প্রতি আক্ষেপের জায়গা থেকে বৃদ্ধাশ্রমে মৃত্যুশয্যায় থাকা বৃদ্ধ মায়ের চিঠি, জাতির পিতাকে উদ্দেশ্য করে লেখা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভার বন্ধু তানভীর আনজুম বিশ্বাসের চিঠি। আয়োজনের সমন্বয়কারী ছিলেন মিনহাজ রাফি ও ইরফাতুর রহমান।

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, চট্টগ্রাম বন্ধুসভা