পালডাঙ্গী আশ্রয়ণ প্রকল্পের মোতালেব হোসেন বিদ্যালয়ের শিশুশ্রেণির শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ শিকদারের মা আকলিমা বেগম বলেন, ‘আমরা ভাগ্যের ফেরে আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা। নদীভাঙনে ২০১৮ সালে ধলার মোড়ের ওপারে আমাদের বাড়ি বিলীন হয়ে যায়। আজ আমার বাচ্চা ছেলের গায়ে নতুন জামা দেখে কী যে ভালো লাগতেছে, তা বইলা বোঝাইতে পারব না।’
নতুন জামা পেয়ে একই এলাকার বীথি আক্তার বলে, ‘লাল জামা আমার খুব পছন্দ। আজ আমি আমার পছন্দের লাল জামা পাইছি। ঈদের দিন সকালেই জামাটা পরব। সারা দিন জামাটা পইরা থাকব।’
কানাইপুর সিকদার বাড়ি এলাকার আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা সালমা বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী বিল্লাল শেখ মিলে কাজ করে। সবকিছুর যে দাম, ঈদে মেয়েকে নতুন জামা দিতে পারব কি না, তা নিয়ে চিন্তায় ছিলাম। প্রথম আলো বন্ধুসভার এই উপহার পেয়ে আমার মেয়েরে নতুন জামা কিনে দেওয়ার চিন্তা থেকে মুক্ত হয়েছি।’

default-image

ওই একই আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা তিন মাস বয়সী মীম ও তিন বছর বয়সী নাফিসার মা আমেনা বেগম বলেন, ‘সরকারি ঘরে থাকি। তারপরও সবকিছুর যে দাম, এ জন্য দুই সন্তানের নতুন কাপড় কিনে দিতে পারতাম না। আজ সকালে হঠাৎ এই উপহার পেয়ে অবাক হয়েছি। এ বছর আমার দুই সন্তানের নতুন জামার চিন্তা আর আমাদের করতে হইল না।’
কোষা গোপালপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা সূর্য বেগমের নাতি জুবায়ের। তার মা গত সাত মাস ধরে পরিবারের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ রাখেন না। নাতিকে নিজের হাতেই লালনপালন করেন সূর্য বেগম। তিনি বলেন, ‘আমার নাতি আমার কাছে বড় হচ্ছে। নাতি নতুন জামা পেয়ে খুশি হইছে। এতেই আমার প্রাণডা জুড়ায় গেছে।’

ফরিদপুর প্রথম আলো বন্ধুসভার সভাপতি মানিক কুন্ড বলেন, বন্ধুসভার সদস্যরা নিজেরা চাঁদা দিয়ে এবং উপদেষ্টাদের কাছ থেকে সহাযতাস্বরূপ যে টাকা জোগাড় করেছেন, তার ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন আশ্রয়ণ প্রকল্প ও শহরের দুস্থ পরিবারের শিশুদের হাতে ঈদের উপহার হিসেবে নতুন জামা তুলে দেন। এর মধ্যে ২৪ জন ছেলে এবং ২১ জন মেয়েশিশু।
ফরিদপুর বন্ধুসভার বন্ধুরা বিভিন্ন আশ্রয়ণ প্রকল্প ও শহরের বস্তি এলাকা ঘুরে ঘুরে শিশুদের বয়স জেনে সেই হিসাবে জামাগুলো কেনেন। বন্ধুসভার যেসব সদস্য সার্বক্ষণিক এ কাজে সহায়তা করেছেন তাঁরা হলেন দুর্যোগ ও ত্রাণ সম্পাদক জহির হোসেন, বন্ধুসভার অর্থ সম্পাদক সজীব কুমার দত্ত। জয় হোক মানবতার। জয় হোক বন্ধুসভার।

অনুষ্ঠান থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন