সফল নেতৃত্বের জন্য কোন দক্ষতাগুলো সবচেয়ে জরুরি

তরুণদেরই প্রমাণ করতে হবে তাঁরা পারেনছবি: এআই/বন্ধুসভা

নিজেকে ব্র্যান্ড হিসেবে গড়ে তুলুন
আপনাকে আপনার জায়গায় নিজেকে একটি ব্র্যান্ড হিসেবে তৈরি করতে হবে। নিজেকে উপলব্ধি করাতে হবে—‘আমি যা–ই করি না কেন, আমার জায়গায় আমি সেরা হব।’

জীবনে ভালো ডিগ্রি নিতে হবে এবং যে সেক্টরে যেতে চাও, সেই সেক্টরে সেরা হতে হবে। যে বিষয়ে পড়াশোনা করো না কেন, সেই বিষয়ে সেরা হতে হবে।

নেতৃত্বের ভিত্তি
নেতা হতে হলে আগে ভালো মানুষ হতে হবে। নেতৃত্বের কোনো ডে অফ নেই। একজন ভালো নেতা সব সময় টিম মেম্বারদের কৃতিত্ব দেন এবং তাঁদের খোঁজখবর রাখেন। ছোট ছোট মানবিক আচরণও একজন নেতার শক্তি বাড়ায়।

নেতার মধ্যে কোনো পক্ষপাতিত্ব থাকা যাবে না। দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে হবে, সমস্যা সমাধানে দক্ষ হতে হবে এবং সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে চলতে হবে। নেতাকে চুপ থাকতে হবে, সমস্যা শুনতে হবে এবং সবার কথা সমানভাবে বিবেচনা করতে হবে। বস বলবেন, ‘তুমি করো।’ আর নেতা বলবেন, ‘চলো আমরা করি।’ একজন দক্ষ নেতাকে ভালোভাবে ‘না’ বলতে জানতে হবে।

নেতাকে সব সময় উদাহরণ তৈরি করতে হয়। দক্ষ নেতা হতে হলে সমস্যা সমাধানের দক্ষতা থাকতে হবে। সঠিক জায়গায় সঠিক মানুষকে বসাতে না পারলে কোনো প্রজেক্ট সফল হবে না।

নেতৃত্বের দক্ষতা যে পার্থক্য তৈরি করে
• যোগাযোগের দক্ষতা: দলের কাছে লক্ষ্য ও ধারণাগুলো স্পষ্টভাবে তুলে ধরা।
• আলোচনা ও দর-কষাকষি: সবার জন্য উপকারী সমাধান খুঁজে বের করা।
• দ্বন্দ্ব নিরসন: মতবিরোধ পেশাদারভাবে সামাল দেওয়া।
• অভিযোজন ক্ষমতা: পরিবর্তন ও নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেওয়া।
• সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা: সিদ্ধান্তের আগে পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করা।
• সিদ্ধান্ত গ্রহণ: সঠিক সময়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া।
• সম্পর্ক গড়ে তোলা: বিশ্বাস ও সহযোগিতার সম্পর্ক তৈরি করা।
• সমস্যা সমাধান: বাস্তবসম্মত সমাধান তৈরি করা।

মহান নেতারা দক্ষতা দিয়ে তৈরি হন, পদবি দিয়ে নয়।

একুশ শতাব্দীর নেতৃত্বের দক্ষতা
যোগাযোগের দক্ষতা, আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা, সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা, দল গঠন, ডিজিটাল ও উদ্ভাবনী মানসিকতা এবং নৈতিক নেতৃত্ব—একুশ শতকের একজন সফল নেতার জন্য অপরিহার্য।

ফেসবুকে ৫০০০ বন্ধুর বাইরে এমন একজন বন্ধু তৈরি করতে হবে, যাকে রাত তিনটার সময় ফোন করলে পাশে পাওয়া যাবে।

আরও পড়ুন

সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও সমস্যার সমাধান
সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অন্তত পাঁচ মিনিট চিন্তা করতে হবে। প্রয়োজনে সিদ্ধান্তটি লিখে রাখুন, এরপর কয়েক মিনিট পর পুনরায় বিবেচনা করুন।

করপোরেট জীবনে নিজেকে আলাদা করে তোলা
করপোরেট জীবনে সব সময় টাকাপয়সা নিয়েই নেগোসিয়েশন করতে হয় না, বরং নিজেকে এমনভাবে উপস্থাপন করতে হবে, যাতে তুমি অন্য দশজনের থেকে আলাদা হতে পারো।

সময় ও শক্তির ব্যবস্থাপনা
বর্তমানে আমরা প্রতিদিন পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা ফোনের স্ক্রিনে টাইম দিচ্ছি। কিন্তু দিন শেষে কোনো ইতিবাচক ফল পাচ্ছি না। এর অন্যতম কারণ সঠিক ম্যানেজমেন্টের অভাব। সময়ের পাশাপাশি নিজের এনার্জিকেও ম্যানেজ করতে হবে। দিনের যে সময় আপনি সবচেয়ে বেশি এনার্জেটিক থাকেন, সে সময় গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো করতে হবে।

প্রতিদিনের যানজট, পরীক্ষা বা ব্যস্ত সময় বিবেচনা করে পরিকল্পনা করলে সময় সাশ্রয় করা সম্ভব। প্রতিদিন সকালে উঠে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো আগে শেষ করতে হবে। এআই আসাতে আমাদের কাজ সহজ হয়েছে, কিন্তু ম্যানেজমেন্ট সহজ হয়নি।

শেখা, শৃঙ্খলা ও যোগাযোগ
আমরা অনেক জানি, কিন্তু মানি না। আমাদের মধ্যে নিয়মিত কাজ করার প্রবণতাও কম।

মানুষের সঙ্গে জায়গাভেদে ভিন্নভাবে কথা বলতে জানতে হবে। আপনাকে জানতে হবে আপনি কার সঙ্গে কথা বলছেন এবং কীভাবে কথা বলতে হবে। কথা বলার স্টাইলই হলো সারভাইভাল স্কিল। সত্য বলুন, প্রয়োজনীয় কথা বলুন ও বুঝিয়ে বলুন।

তরুণদের জন্য বার্তা
অনেকেই তরুণদের ছোট করে দেখেন, কিন্তু তরুণদেরই প্রমাণ করতে হবে তাঁরা পারেন। তরুণদের চ্যালেঞ্জ নিতে হবে এবং নেতৃত্বের জায়গায় নিজেদের সক্ষমতা দেখাতে হবে।

উল্লেখ্য, ‘লার্ন, কানেক্ট, লিড’ প্রতিপাদ্যে গত ১৫ মে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো কার্যালয়ে দিনব্যাপী নেতৃত্ববিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা করে বন্ধুসভা জাতীয় পরিচালনা পর্ষদ। কর্মশালায় নেতৃত্বের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন পারটেক্স স্টার গ্রুপের হেড অব বিজনেস সাঈদুল আজহার সরোয়ার, কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও পাবলিক স্পিকার সাদমান সাদিক, পেপকো গ্লোবাল সোর্সিংয়ের সাউথ-ইস্ট এশিয়ার সিনিয়র ম্যানেজার (এইচআর) রেহান আসিফ এবং ট্রান্সফরমেশন-বায়ার বাংলাদেশের ম্যানেজার (কি অ্যাকাউন্টস ও নিউ বিজনেস ডেভেলপমেন্ট) জহিরুল ইসলাম। ওপরের লেখাটি তাঁদের আলোচনার প্রতিলিপি।