একসময় যে কাজ আনন্দ দিত, সেটা আবার ফেরাবেন কীভাবে
একসময় গান গাইতেন, কবিতা লিখতেন, ছবি আঁকতেন। সন্তান মানুষ করা কিংবা চাকরিতে ওপরে ওঠার তাড়নায় দিন কাটত। এখন দিন চলে অভ্যাস আর রুটিনে। অফিস, বাজার, বিল, সংসারের হিসাব। যে আবেগ একসময় জীবন চালাত, সংগত কারণেই তা পেছনে পড়েছে।
বয়স বাড়ার সঙ্গে শরীর যেমন ক্ষয় হয়, মনও অনেক সময় ক্লান্ত হয়ে পড়ে। সন্তানেরা বড় হয়ে নিজের পথে গেছে, চাকরিতে একটা জায়গায় থিতু হয়েছেন, অবসরও দূরে নয়। এ সময় জীবনের উদ্দেশ্য ঝাপসা মনে হতে পারে। ঠিক তখনই উদ্দীপনা ফিরিয়ে আনার প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি। অনেকে মধ্যবয়সে পৌঁছে হঠাৎ চাকরি ছেড়ে দেন কিংবা সম্পর্ক ভেঙে ফেলেন, যেন নতুন কিছু ফিরে পাওয়া যায়। কিন্তু সংকট না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে না।
এই তিন ধাপে শুরু করা যায়—
১. একটু পিছিয়ে দেখুন: নিজের জীবনটাকে দূর থেকে দেখুন। জিজ্ঞেস করুন, কী নেই? নতুন করে শুরু করলে কী আলাদা হতো? অতীতের কোন জিনিসটা ফিরে পেতে চান, গানের টান, ছবি আঁকার নেশা, নিজের ওপর আস্থা, নাকি সহজাত স্বতঃস্ফূর্ততা?
‘আরও টাকা চাই’ বা ‘অন্য কেউ হলে ভালো হতো’ ধরনের সাধারণ উত্তরে থেমে যাবেন না। আরেকটু গভীরে ভাবুন, এসবের আড়ালে আসলে কী চাইছেন, দুশ্চিন্তা কম, কাজের মিল বেশি, নাকি জীবনে একটু রোমাঞ্চ?
২. ছোট্ট স্ফুলিঙ্গেই সাড়া দিন: হারানো আবেগ খুঁজে পাওয়া কঠিন মনে হতে পারে, বিশেষ করে বহুদিন অবহেলা করলে। তাই ছোট করে শুরু করুন। রুটিনের বাইরে যা সামান্য নতুনত্বের ঝলক দেয়, তা খেয়াল করুন এবং সেদিকে এগোন। এভাবেই ধীরে ধীরে মন আবার সাড়া দিতে শেখে।
পুরোনো গানের খাতা খুলতে ইচ্ছা করলে, পাখি দেখার শখ জাগলে কিংবা কাজ বা সম্পর্কে বদল আনার ভাবনা এলে নিজের ভেতরের সমালোচককে বলতে দেবেন না, ‘এসব অবাস্তব, ছেলেমানুষি’। তবে তাড়াহুড়াও নয়। চাকরি ছেড়ে দেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত নয়। আগে মাথা ঠান্ডা করুন, খোঁজখবর নিন, তারপর পরিকল্পনা করুন। আবেগকে তথ্য হিসেবে নিন, জ্বালানি হিসেবে নয়।
৩. পরীক্ষা করে দেখুন: সব স্ফুলিঙ্গ জ্বলে না। পুরোনো বা নতুন শখ হয়তো আর টানল না। তাতে ক্ষতি নেই। অন্তত একটা বিষয় জানা হলো। জীবন তো বাদ দিতে দিতেই এগোয়। বিপ্লবের বদলে কৌতূহল নিয়ে চলুন, আমূল বদলের বদলে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় মন দিন।
মার্কিন কবি ও লেখক ওয়েন্ডেল বেরির একটি কথা এখানে মনে পড়ে: যখন বুঝতে পারছেন না কী করবেন, তখনই আপনি নিজের আসল কাজের সন্ধান পেয়েছেন। আর যখন বুঝতে পারছেন না কোথায় যাবেন, তখনই আপনার যাত্রা শুরু হয়েছে।