মোয়াজ্জেম হোসেনের অন্য রকম সহমর্মিতার ঈদ

মোয়াজ্জেম হোসেন
ছবি: সংগৃহীত

এক সন্তানের জননী আসমা খাতুন (ছদ্মনাম)। মা–বাবা কেউ বেঁচে নেই। স্বামী সামান্য বেতনে কাজ করেন। তাতে কোনোরকমে সংসার চলে।

হঠাৎ ২০১৫ সালের মার্চে গলায় ব্যথা অনুভব করেন আসমা খাতুন। স্থানীয় সরকারি হাসপাতালে ডাক্তার দেখিয়ে ওষুধ খান। কিন্তু গলার ব্যথা কমে না। ডাক্তারের পরামর্শে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর নিশ্চিত হয় গলার খাদ্যনালিতে টিউমার হয়েছে। দ্রুত অপারেশন জরুরি।

মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে স্বামী-স্ত্রীর মাথায়। আসমার বসতভিটা ছাড়া ১২ কাঠা ফসলি জমি ছিল। বছরের খাবার ধান-চাল এটা থেকেই আসত। স্থানীয় এক কৃষকের কাছে ১২ কাঠা জমি দুই বছরের জন্য বন্ধক দিয়ে নগদ ৬০ হাজার টাকা নেন আসমা। সেই টাকা দিয়ে অপারেশন করে সুস্থ হয়ে ওঠেন। বন্ধকি জমির শর্ত ছিল দুই বছর পর ৬০ হাজার টাকা দিলে জমি ফেরত পাবে। তত দিন জমির সুফল বন্ধক গ্রহণকারী ভোগ করবে।

আসমা খাতুন সেই বন্ধকি জমি এত দিনেও অবমুক্ত করতে পারেননি। কী করে পারবেন। দিন আনে দিন খায় অবস্থা। টানাটানি করে সংসার চলে।

আসমার এমন অবস্থার কথা জানতে পেরে আসমার পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন প্রথম আলো বন্ধুসভা যশোরের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান উপদেষ্টা মোয়াজ্জেম হোসেন। মোয়াজ্জেম গতকাল চলে যান আসমার বাড়িতে। বন্ধকি জমি অবমুক্ত করে দেওয়ার কথা বলার পর আনন্দে কেঁদে ফেলেন আসমা।

মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘আসমা খাতুনকে সান্ত্বনা দিয়ে বন্ধকগ্রহীতার বাড়ি যাই। নগদ ৬০ হাজার টাকা তাঁর হাতে তুলে দিয়ে বন্ধকি দলিল ফেরত নিয়ে আসি। বন্ধকগ্রহীতা কৃষক অত্যন্ত ভালো মানুষ। কোনো রকম শর্ত ছাড়াই জমি অবমুক্ত করে দেন।’

বন্ধুসভার সহমর্মিতার ঈদ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই কাজটি করতে পেরে আনন্দিত মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘এ কাজটি করে আসমার পরিবারের মুখে যে হাসি দেখেছি, তা কোটি টাকার বিনিময়েও পাওয়া সম্ভব নয়। এ কাজ সুষ্ঠুভাবে করতে পেরে মনে এক আলাদা আনন্দ অনুভব করছি।’