‘উপহার পাইয়া উপকার হইল’

প্রথমআলো বন্ধুসভার সহমর্মিতা কর্মসূচির আওতায় ঈদ উপহারসামগ্রী বিতরণ। গতকাল জামালপুর সদর উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন মাঠে
ছবি: প্রথম আলো

জমিলা বেগম (৭০) স্বামীকে হারিয়েছেন ২৬ বছর আগে। একমাত্র ছেলেও মানসিক প্রতিবন্ধী। অন্যের জমিতে ছাপরা তুলে কোনোরকমে থাকেন। মানুষের বাসায় ঝিয়ের কাজ করে পাওয়া সামান্য আয়ে সংসার চলত। কিন্তু করোনাকালে সেই কাজ হারিয়েছেন। কারও কাছ থেকে তেমন সাহায্য-সহযোগিতাও পাচ্ছিলেন না। বয়স যা, তাতে অন্য কোনো কাজও করা সম্ভব নয়। এ অবস্থায় চরম বিপাকে আছেন জমিলা।

জামালপুর শহরের মুকুন্দবাড়ী এলাকার এই বাসিন্দা গতকাল সোমবার সকালে এসেছিলেন উপজেলা পরিষদসংলগ্ন মাঠে। সেখানে প্রথম আলো বন্ধুসভার সহমর্মিতা কর্মসূচির আওতায় জমিলাকে ঈদ উপহারসামগ্রী দেওয়া হয়। তিনি বলেন, ‘গরিব মানুষের কষ্ট কোনো দিনও যায় না। কত বছর ধরে কষ্ট করতেছি। এই বয়সেও পেটের জন্য ঘুরে বেড়াতে হয়। মানুষের বাড়িতে বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করতাম। এখন কাম-কাইজ নাই। ঘরে চাইল-ডাইল নাই। এই উপহার পাইয়া খুব উপকার হইল। অনেক দিন যাইবো।’

জমিলা বেগমের মতো জামালপুর শহরের মুকুন্দবাড়ী, পালপাড়া, ডাকপাকা এলাকার ১০০ জন নারী-পুরুষের হাতে ওই অনুষ্ঠানে ঈদ উপহারসামগ্রী তুলে দেয় জামালপুর বন্ধুসভা। ওই ১০০ জনের মধ্যে প্রথম আলোর এজেন্টরাও ছিলেন। বন্ধুসভার সহমর্মিতার ঈদ কর্মসূচির আওতায় এসব সামগ্রী দেওয়া হয়। ঈদ উপহার হিসেবে প্রত্যেককে পাঁচ কেজি চাল, দুই কেজি আলু, এক কেজি মসুর ডাল, এক কেজি লবণ, এক লিটার সয়াবিন তেল ও একটি করে মাস্ক দেওয়া হয়েছে।

করোনাকালে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে এ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। উপস্থিত ছিলেন জামালপুর বন্ধুসভার সভাপতি এস এম সিফাত আবদুল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক মোহাইমিনুল ইসলাম, নারীবিষয়ক সম্পাদক আশা সরকার, মানবসম্পদবিষয়ক সম্পাদক সানি সিরাজ মিথিলা, সাহিত্য সম্পাদক নিজামুল নিজাম, পাঠাগার সম্পাদক আরিফ হোসেন, দুর্যোগ ও ত্রাণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান, সদস্য সাজ্জাদ ও অন্তরা প্রমুখ।