সিলেট বন্ধুসভার পাঠের আসরে হুমায়ূন আহমেদের ‘নির্বাসন’
হুমায়ূন আহমেদ রচিত ‘নির্বাসন’ উপন্যাস নিয়ে পাঠচক্রের আসর করেছে সিলেট বন্ধুসভা। ১৪ আগস্ট বিকেলে প্রথম আলো সিলেট অফিসের বন্ধুসভা কক্ষে এটি অনুষ্ঠিত হয়।
‘নির্বাসন’ উপন্যাসটির কেন্দ্রীয় ভূমিকায় রয়েছে জরী। মূলত জরীর বিয়ের দিনের সকাল থেকে সন্ধ্যার ঘটনাক্রমকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে সম্পূর্ণ গল্প। কাহিনি শুরু হয় জরীর বড় চাচার অস্থির অনুভূতি প্রকাশের মাধ্যমে। তারপর ধীরে ধীরে একেকটি চরিত্র উন্মোচিত হয়। বিয়েবাড়ির আনন্দ, আত্মীয়স্বজনের আগমন, জরীর বান্ধবীদের হইহুল্লোড়, বিচিত্র সব ঘটনার সূক্ষ্ম বিবরণ পাওয়া যায়। উৎসবের আলোকসজ্জার মধ্যে দোতলার একটি ঘর ঢাকা পড়ে আছে নিস্তব্ধ অন্ধকারে। সেখানে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে আনিস। জরী ও আনিসের একসঙ্গে পথচলার কথা ছিল; কিন্তু আজ অন্য একজনের সঙ্গে জরীর বিয়ের ক্ষণে আনিস কাটাচ্ছে তার জীবনের শেষ প্রহর।
হুমায়ূন আহমেদ তাঁর লেখায় কখনোই প্রেমকে অতিরঞ্জিতভাবে প্রকাশ করেননি। এখানেও তার ব্যতিক্রম নয়; বরং মধ্যবিত্ত পরিবারের বাস্তবতাকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছেন। চরিত্রগুলোর প্রত্যেকের নিজস্বতা রয়েছে। সব কটি চরিত্রের সম্মিলিত রূপ ‘নির্বাসন’।
বন্ধু প্রাণেশ দাস বলেন, ‘এটি লেখকের জীবনের প্রথম ভাগে লেখা একটি উপন্যাস। খুব কম লেখার মধ্যেই লেখক প্রতিটি চরিত্রকে তাদের নিজস্ব গল্পের মাধ্যমে সুগঠিত করেছেন।’
বন্ধু নয়ন হাজরা বলেন, ‘একটি মধ্যবিত্ত পরিবারের বিয়ের আয়োজনের অনুভূতি এখানে দারুণভাবে ফুটে উঠেছে।’
পাঠচক্রে আরও উপস্থিত ছিলেন বন্ধু দেব রায় সৌমেন, ফয়সাল আহমেদ, কৃত্য ছত্রী, আরাফ, আজিজ বিন আহম্মদ, শুভ তালুকদার, সাজন বিশ্বাস, শাফিউল, অলখ সরকারসহ অনেকে।
পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক, সিলেট বন্ধুসভা