ক্ষুধা শুধু অন্ন জোগাড় নয়, বরং মর্যাদা ও অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই

নোয়াখালী বন্ধুসভার পাঠচক্রের আসরছবি: বন্ধুসভা

চরম দারিদ্র্য, অন্নসংস্থানের সংগ্রাম, সামাজিক বৈষম্য এবং বেঁচে থাকার তাগিদে মানুষের নৈতিক অবনমন ও ধর্মান্তরের প্রলোভন নিয়ে লেখা কাজী নজরুল ইসলামের উপন্যাস ‘মৃত্যুক্ষুধা’। ১২ আগস্ট বিকেলে প্রথম আলো নোয়াখালী আঞ্চলিক অফিসে বইটি নিয়ে পাঠচক্রের আসর করে নোয়াখালী বন্ধুসভা।

সাধারণ সম্পাদক সানি তামজীদের সঞ্চালনায় পরিচয় পর্বের পর শুরু হয় মূল আলোচনা। বন্ধুরা বইটি নিয়ে আলোচনা করেন এবং উপন্যাসের কিছু মূল ঘটনা পড়ে শোনান। উপন্যাসটির মূল বিষয়বস্তু দরিদ্রতা, ক্ষুধা এবং রোমান্টিকতা।

উপন্যাসে কৃষ্ণনগরের চাঁদসড়ক একটি ব্যস্ত জায়গা। যেখানে মুসলমান, কনভার্টেড ক্যাথলিক খ্রিষ্টান এবং দু–এক হিন্দু পরিবারের বসবাস। ক্ষুধা, দুঃখ-দুর্দশা ছিল তাদের নিত্যদিনের সঙ্গী। মাঝেমধ্যে ঝগড়া করলেও পরে তা নাই হয়ে যায় ক্ষুধা-যন্ত্রণার সমীকরণে। সেখানে বসবাসরত একটি পরিবারের অভিভাবক হলো প্যাঁকালের মা কুঁদুলী। সে শুধু প্যাঁকালেরই মা নয়, বরং পরপারে চলে যাওয়া তিন সন্তান ও একমাত্র কন্যা পাঁচীর মা। আশ্রিতা বোন আর এক ডজন ভাইপো-ভাইঝির ভরণপোষণের দায়িত্ব তাই প্যাঁকালের ওপরই।

প্যাঁকালের বয়স ১৮ কি ১৯ বছর। টাউনের থিয়েটার দলে নাচে, সখী সাঝে। বাবুদের সঙ্গে মিশতে মিশতে চুলে টেরি কাটে, চা-পান খায়। আবার কখনো রাজমিস্ত্রির কাজ করে। একদিন প্যাঁকালের মা প্যাঁকালকে তার অপরূপ সুন্দরী মেজ বউর সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার সংকল্প ব্যক্ত করলে প্যাঁকাল বাড়ি থেকে পালিয়ে যায় কাউকে না জানিয়ে। মেজ বউ দেখতে যেমন সুন্দর, তেমনি মনটিও সুন্দর।

সন্তানদের দুমুঠো খাদ্যের জন্য আর প্রতিবেশীদের মিথ্যা অপবাদে মেজ বউ খ্রিষ্টান হয়ে যায়। তারপর পরিস্থিতির শিকার হয়ে ছোট্ট দুটি শিশুকে রেখেই একদিন চলে যান বরিশালে। এদিকে কৃষ্ণনগরে নতুন বসবাস শুরু করেন নাজির আর লতিফা বেগম। এখানে উত্থান হয় আনসার আর রুবী নামের দুজন চরিত্রের।

‘মৃত্যুক্ষুধা’ উপন্যাসের অন্যতম প্রধান চরিত্র হলো আনসার; যিনি বিপ্লবী এবং বিদ্রোহী মানসিকতার প্রতীক। রাজনৈতিক কারণে তাকে কারাবরণ করতে হয়। আর রুবী হলো আনসারের প্রেয়সী এবং শেষ জীবনের সঙ্গী। এভাবে বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে এগিয়ে যায় উপন্যাসের বিষয়বস্তু।

সহসভাপতি মো. শিমুল বলেন, ‘ক্ষুধা শুধু পেটের অন্ন জোগাড়ের নয়, এটি মানুষের মর্যাদা ও অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। এই সত্য অত্যন্ত নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে উপন্যাসটিতে।’

অর্থ সম্পাদক সাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘তৎকালীন হিন্দু, মুসলিম ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের নিম্নবিত্ত মানুষের জীবনযাপন ও পারস্পরিক সম্পর্কের এক নিখাদ ও বাস্তব চিত্র এখানে রয়েছে।’

পাঠের আসরে আরও উপস্থিত ছিলেন সভাপতি আসিফ আহমেদ, প্রচার সম্পাদক ধ্রুব ভূঁইয়াসহ অনেকে।

সাধারণ সম্পাদক, নোয়াখালী বন্ধুসভা