তাঁদের মুখে ফুটে উঠল ঈদের হাসি-আনন্দ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া বন্ধুসভার উদ্যোগে ঈদের উপহার পেয়ে খুশি শিশুরাছবি: বন্ধুসভা

১২ বছর বয়সী কিশোর মোবারক হোসেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের হাসপাতাল রোড এলাকায় এক শরবত বিক্রেতার অধীন কাজ করে এই কিশোর। প্রতিদিন পায় ১০০ টাকা। তার বাবা বেঁচে নেই। মা সবলা বেগম অন্যের বাড়িতে কাজ করেন। যেখানে জীবনযুদ্ধে মা-ছেলের আয়ে চলে তিনজনের সংসার, সেখানে ঈদের কাপড় কেনা যেন দুঃস্বপ্ন। কিন্তু এবার বন্ধুসভার ‘সহমর্মিতার ঈদ’ কর্মসূচির আওতায় মা-ছেলেসহ মোবারকের তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া বোনও পেল নতুন জামা। নতুন কাপড় পাওয়ায় তাদের মতো অনেকেরই মুখে ফুটে উঠল ঈদের হাসি আর আনন্দ।

সত্তরোর্ধ্ব সালেহা বেগম। বৃদ্ধ হলেও অন্যের বাড়িতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করেন। পবিত্র ঈদুল ফিতরে ঈদের নতুন কাপড় কেনার সামর্থ্য তাঁর নেই। বন্ধুসভার পক্ষ থেকে ঈদে পরার জন্য নতুন শাড়ি পেয়ে খুশি এই বৃদ্ধা। ঈদের দিন এই নতুন কাপড় পড়ে নামাজ পরার কথা জানান তিনি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া বন্ধুসভার সহমর্মিতার ঈদ।

‘সহমর্মিতার ঈদ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বন্ধুসভার উদ্যোগে সুবিধাবঞ্চিত শিশু, নারীসহ বৃদ্ধ-বৃদ্ধাসহ ১৭০ জনের মধ্যে নতুন পোশাক বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি ৩০টি পরিবারে ঈদের খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেন বন্ধুরা। ১০ মার্চ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জেলা শহরের আইডিয়াল রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে এগুলো বিতরণ করা হয়।

শহরের দক্ষিণ মৌড়াইলে একটি এক কক্ষের বাসায় মা ও তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া একমাত্র বোনকে নিয়ে ভাড়া থাকে মোবারক। বাবা প্রয়াত। মা অন্যের বাড়িতে কাজ করেন। মোবারক বলে, ‘ঈদের কাপড় কেনার সামর্থ্য নেই। গত বছর বন্ধুসভার ভাইরা নতুন কাপড় দিছিল। এবার ভাইরা মা, বোন ও আমাকে নতুন কাপড় দিছে। আমি অনেক খুশি।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া বন্ধুসভার সহমর্মিতার ঈদ।

সালেহা বেগম শহরের কান্দিপাড়ার বাসিন্দা। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে লাঠিতে ভর করে অনুষ্ঠানস্থলে আসেন এই বৃদ্ধা। কথা হলে তিনি বলেন, ‘ছোট একটা মাইয়্যা এসে নতুন কাপড় দেওয়ার কথা জানায়। ঈদের আগেই মেয়েটি নতুন কাপড় হাতে তুলে দিয়েছে। শাড়িটি খুব সুন্দর, পছন্দ হইছে। আমি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ি। এই শাড়ি পরে ঈদের দিন নামাজ পড়ব।’

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বন্ধুসভার সভাপতি শাহজাহান মিয়া বলেন, ‘এ বছর একটু বড় পরিসরে আয়োজন করতে পেরেছি। নতুন কাপড় বিতরণের পাশাপাশি অসচ্ছল পরিবারের মধ্যে ঈদের বাজারও করে দিয়েছি। শিশু, কিশোর-কিশোরী, তরুণ, নারী, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, মুয়াজ্জিন মিলিয়ে ১৭০ জন এই পোশাক পেয়েছে।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া বন্ধুসভার সহমর্মিতার ঈদ।

এর আগে পাঁচ দিন বন্ধুসভার সদস্যরা শহরের বিপণিবিতানগুলো ঘুরে ঘুরে প্রতিটি কাপড় পছন্দ করে কেনেন; পাশাপাশি ৩০টি পরিবারের জন্য সেমাই, দুধ, চিনি, কিশমিশ, ডাল, আলু, পেঁয়াজ, তেল ও চটপটির বুটের ডাল কেনা হয়।

কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন আইডিয়াল রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের পরিচালক হারুন অর রশিদ ও শাহীন মৃধা, কলেজের পরিচালক ও প্রভাষক অভিজিৎ রায়, প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক শাহাদৎ হোসেন, বন্ধুসভার সভাপতি শাহজাহান মিয়া, সহসভাপতি অনন্যা সাহা ও শারমিন আক্তার, সাধারণ সম্পাদক ফাহমিদা আক্তার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফৌজিয়া হক ও আলিয়া জাহান, সাংগঠনিক সম্পাদক সাদ হোসেন, সহসাংগঠনিক সম্পাদক আল মানুন, মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণা সম্পাদক ইসরাত জাহান, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি সম্পাদক সুমাইয়া আক্তার, বইমেলা সম্পাদক কৃষ্ণা মৈশান, দপ্তর সম্পাদক সালমা আক্তার, প্রশিক্ষণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন, কার্যনির্বাহী সদস্য তুলি গোস্বামী, আরেফিন শোভন ও মাইনুদ্দীন রুবেল, বন্ধু ইসরাত মৌরী প্রমুখ।

কার্যনির্বাহী সদস্য, ব্রাহ্মণবাড়িয়া বন্ধুসভা